অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করে ঠাঁই হলো রাস্তায়! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করে ঠাঁই হলো রাস্তায়!

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৮

অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করে ঠাঁই হলো রাস্তায়!

একবিংশ শতকের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের যে অনেক ক্ষমতা, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। অবশেষে ইন্টারনেটেই ফেসবুকের সাহায্যে গৃহহীন ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের সন্ধান পাওয়া গেল।

গত ২১ এপ্রিল ভারতের অবিনাশ সিংহ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই বৃদ্ধের ছবি পোস্ট করেন ফেসবুকে।

ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে ওই বৃদ্ধের নাম রাজা সিংহ ফুল। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। বর্তমানে তার থাকার কোনও স্থায়ী বাসস্থান নেই।

১৯৬০ সালে অক্সফোর্ড থেকে ভারতে ফিরে আসেন। ভাইয়ের মোটর ব্যবসায় সাহায্য করার জন্য তাকে দেশে আনা হয়েছিল।

ভাইয়ের মৃত্যুর পর রাজা সিংহ ব্যবসা ঠিকমতো ধরে রাখতে পারেননি। সম্পত্তি খুইয়ে তার ঠাঁই হয় দিল্লির রেলস্টেশনে।

অবিনাশ সিংহের ফেসবুক পোস্ট থেকে আরও জানা যায়, ভদ্রলোকের সন্তানসন্ততি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে থাকেন। কিন্তু রাজা সিংহের সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই।

ভদ্রলোক দিল্লি স্টেশনে থাকেন এবং কাজে বেরোনোর আগে দিল্লির কনটপ্লেসের সরকারি শৌচালয়ে তৈরি হয়ে, বাবা খড়ক সিংহ মার্গের ভিসা কেন্দ্রে যান।

সেখানে তিনি ভিসা ফরম ফিলআপের কাজ করেন। মানুষজন দয়া-দাক্ষিণ্য করে তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন। এতে সর্বমোট দিনে ১০০ টাকা উপার্জন হয় প্রতি ফরম পিছু। আবার কেউ কেউ কিছুই দেন না।

তবে তিনি লঙ্গরখানায় খাওয়াদাওয়া করতে নারাজ।

এই প্রসঙ্গে রাজা সিংহ ফুলের বক্তব্য, খাবারের জন্য নিজেকে রোজগার করতে হয়। লঙ্গরখানায় খাওয়ার জন্য তাকে নিজের পকেট থেকে কিছু দিতে হবে। যত দিন না তিনি তা করতে পারছেন তত দিন পর্যন্ত লঙ্গরখানায় খাওয়ার তার অধিকার নেই।

এখন প্রশ্ন হলো, অক্সফোর্ড থেকে পাস করার পরেও তিনি কোথাও কোনও চাকরি করেন না কেন? ভারতের জাতীয় স্তরের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দশটা-পাঁচটার কাজে কোনোদিনই তার আগ্রহ ছিল না।

ফেসবুকে অবিনাশ সিংহের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই রাজা সিংহের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বর্তমানে তিনি ‘গুরুনানক সুখ সলা’ বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছেন। তার অদম্য উদ্যম, ভিসা কেন্দ্রের জীবিকা থেকে তাকে বিরত করতে পারেনি।