অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্কে সময় দিতে হয়, এই সম্পর্কে থাকে প্রতিশ্রুতি, ক্ষমা, নমনীয়তা, স্পেইস্ এবং সর্বোপরি সহায়ক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্কে সময় দিতে হয়, এই সম্পর্কে থাকে প্রতিশ্রুতি, ক্ষমা, নমনীয়তা, স্পেইস্ এবং সর্বোপরি সহায়ক

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্কে সময় দিতে হয়, এই সম্পর্কে থাকে প্রতিশ্রুতি, ক্ষমা, নমনীয়তা, স্পেইস্ এবং সর্বোপরি সহায়ক
আমার কাছে পাখি জগতের সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রাণী। বেশিরভাগ পাখি উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। কোন কোন পাখি স্থলে এবং অন্য পাখিরা কেবল তাদের অঞ্চল ব্যবহার করে। পাখি বিভিন্ন রঙের এবং আকারের হয়ে থাকে।আমার জানা মতে পাখি সবাই ভালবাসে, অনেক মানুষ পাখিকে শখ করে খাঁচায় বন্দি করে পালে। আমি এটার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে পাখিদের সৃষ্টি করাই হয়েছে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য।
গত সোমবারে উডসাইডের একটি বাংলাদেশী গ্রোসারীতে কেনা-কাটা করছি, সহধর্মীনি মাংসবিক্রেতা ভাইকে ওর্ডার দিয়েছেন মাংসের। আমার পাশেই বাংলাদেশী এক ভদ্র মহিলা দাঁড়ানো, মাংসবিক্রেতা ভাই ভদ্র মহিলাকে বার বার তাগিদ দিচ্ছেন কি ধরণের মাংস? কত পাউন্ড মাংস চান? ভদ্র মহিলা নিরুত্তর বোঝাই গেল তিনি অন্য মনস্ক। আমি ইশারা দিয়ে বললাম, আপনাকে মাংসবিক্রেতা ভাই কিছু বলছেন। ও আচ্ছা, তারপর মহিলা বলেই ফেললেন কেঁদে কেঁদে আজ সকালে আমার পাখিটা মারা গেছে। পাখিটা খুব আদরের ছিল, বুকটা যেন খালি করে চলে গেল। সকালেই পাখিটার জন্য দোয়া করেছি সৃষ্টিকর্তার কাছে।
আরোও বললেন, “আমার এবং আমার পরিবারের সাথে পাখিটির গভীর মমতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কিনে আনার পর প্রথম প্রথম পাখিটি একটু ভয় পেলেও পরে জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে ধরে নিয়ে আমাদের সাথে এডজাস্ট করে নিয়েছিল”। অঝোরে কাঁদছেন আর বলছিলেন পাখিটিকে কোনভাবেই ভুলতে পারছি না। ইতিমধ্যে মাংসবিক্রেতা ভাই বললেন, আমাদের অর্ডার রেডি। ভদ্র মহিলাকে বললাম সত্যি একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা, আপনি অনেক নরম মনের মানুষ, মহান আল্লাহ আপনার ভালো কাজ গুলো কবুল করুক। উনার সাথে বিদায় জানিয়ে, গ্রোসারী থেকে প্রস্থান নেই।
গ্রোসারী থেকে বাসার দূরত্ব বেশী না, সিক্সস হুইল ড্রাইভ গাড়িটি চলছে, আমার নিয়ন্ত্রণে। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রেখেই চিন্তা করছি পাখি, মহিলা ও মহিলার পরিবারের মধ্যে যে সম্পর্ক-“আসলেই যে কোন সম্পর্ক রাতারাতি ঘটে না, সম্পর্কে এডজাস্টের জন্য সময় দিতেই হবে, আচরণও হতে হবে মমতাপূর্ণ”।
আমরা মানুষরা “সম্পর্ক” নিয়ে খুবিই হতাশায় ভোগি। আমাদের বুদ্ধিমত্তা পাখিদের বুদ্ধিমত্তা থেকে কয়েক গুণ বেশি তারপরও সম্পর্ক নিয়ে হতাশায় ভোগি।
গত কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছেন, পরিচিত একজন। ডিভোর্সের পথে পা বাড়িয়েছেন। কারণ কি পত্নী নামাজ পড়েন না, ফোন নিয়ে বেশী বেস্ত, তিনি যে স্বামী তাঁর প্রতি মনোযোগ নেই, ইত্যাদি ইত্যাদি।
পরিচিতজনকে বললাম, “সময় দিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে, অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্কে সময় দিতে হয়, এই সম্পর্কে থাকে প্রতিশ্রুতি, ক্ষমা, নমনীয়তা, স্পেইস্ এবং সর্বোপরি সহায়ক”। না উনার সঙ্গে কথা বলে কোন লাভ নেই, কারণ তিনি চাচ্ছেন সম্পর্কের অবস্থা রাতারাতি বদলাতে। না হলে ডিভোর্সের পথে হাঁটবেন। তারপর? তারপর আর কি? আবার হয়তো কোন এক রাজকুমারী কিংবা সাধারণ কাউকে বিয়ে করবেন। সত্যিকার অর্থে, একজন রাজকুমারী কিংবা সাধারণ কেউ তাঁদের ও প্রত্যেকের মতোই দোষ, সমস্যা রয়েছে, সে যতই আশ্চর্যজনক হোক না কেন।
লেখাটা শেষ করার পূর্বে মন চাইছে যে আবার ফিরে থাকাতে-পাখি, ভদ্র মহিলা ও তাঁর পরিবারের মধ্যে কি এমন ছিল যে মহিলা কেঁদে কেঁদে হয়রান। হাঁ অবশ্যই তাঁদের মধ্যে সময়, সহায়ক, প্রতিশ্রুতি, অনুষঙ্গ এবং গভীর মমতা ছিল।
লেখক মুকুল হক ( নিউইয়র্ক)

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল