অজানা পথে-১০ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অজানা পথে-১০

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২০

অজানা পথে-১০

লতিফ নুতন
তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি’র বিশাল ক্ষেত্রের মধ্যে গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া সল্প সময়েই তরুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উন্নত দেশের তরুন তরুনী মত আমাদের দেশের তরুন তরুনী সে দিকে ঝুঁকেছে। আইটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া একটি ভাল প্রফেশন। বর্তমানে গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম রয়েছে। আইটি’র বিশাল ক্ষেত্রের মধ্যে গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। তার যে কোন একটি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া যায়।

গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া প্রফেশনাল হতে হলে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন হয় শৈল্পিক,সৃজনশীল,সৃষ্টিশীল মনমানশিকতা। তাই অনেকেই এ পেশাকে বেঁচে নিচ্ছেন। এক সময় গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া শেখা,স্বপ্ন ছিল। কিন্তুু বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে তা এখন আর স্বপ্ন নয়। আমাদের দেশেই সহজে স্বল্প খরছে শেখা যাচ্ছে। বেশী দিন পূর্বের কথা নয় গ্রাফিক্স মাল্টিমিডিয়া শিখতে হলে ঢাকায় যেত হত । বর্তমানে সিলেটে বসে এর উপর শিক্ষা নেয়া যাচ্ছে।

মাল্টিমিডিয়া:
৯০দশকের প্রথম দিকে আমাদের দেশে প্রথম মাল্টিমিডিয়ার আত্নপ্রকাশ ঘটে। তখন থেকেই আমাদের তরুন প্রজন্মের কাছে আইটি ক্যারিয়ার হিসাবে মাল্টিমিডিয়ার দিকে আগ্রহ বাড়ছে। মাল্টিমিডিয়াকে অনেকেই ভবিষ্যত পেশা হিসাবে বেঁচে নিচ্ছেন। বর্তমানে মাল্টিমিডিয়া তথ্য প্রযুক্তির সব চাইতে সম্ভবনাময় খাত বলা যায়। যে ভাবে মাল্টিমিডিয়া কে যেভাবে ক্যারিয়ার হিসাবে বেচেঁ নেওয়া হচ্ছে ঠিক, তেমনি তাঁর কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া আইটি’র বিশাল জগতের মধ্যে ভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। ঠিক তেমনি মাল্টিমিডিয়ারায় কাজ করার বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। যে কেউ মাল্টিমিডিয়ার যে কেউ ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন। আমি পূর্বে বলেছি, মাল্টি অর্থ হচ্ছে বহু আর মিডিয়া অর্থ হচ্ছে মাধ্যম। যেখানে একাধিক মাধ্যম সংযুক্ত তাকেই মাল্টিমিডিয়া বলে।

আরো সহজে বলা যায় যেমন,একাধিক মিডিয়া সমম্বনই হলো মাল্টিমিডিয়া। মাল্টিমিডিয়ার যে ক’টি বিষয়ের উপর ধারনা থাকতে হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো টেক্সট,গ্রাফিক্স বা টুডি এনিমেশন,থ্রিডি এনিমেশন,ভিডিও এডিটিং,সুপার ইম্পোজ ইত্যাদি। তাঁর যে কোন একটি বিষয়ের উপর ক্যারিয়ার গড়া যায়। তবে মাল্টিমিডিয়া প্রফেশনাল হতে হলে সব ক’টি বিষয়ের উপর ধারনা নিতে হবে। নিম্নে মাল্টিমিডিয়ার বিভিন্ন বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো। আমাদের দেশে মাল্টিমিডিয়ায় কাজ করা মত কর্ম ক্ষেত্র দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি তাঁর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়ার কাজ যে শুধু অফিসে বসে করতে হয় তা নয়। ঘরে বসেই করা যায়। আমাদের দেশে একজন ভাল মাল্টিমিডিয়া প্রফেশনালের গুরুত্ব রয়েছে।

টেক্সট:
লিখিত আকারে যখন কোন তথ্যের সম্ভারকে একত্রিত করা হয় তাই হচ্ছে টেক্সট। আরো সহজে বলা যায়,কোন কিছু লেখাকে টেক্সট বলা যেতে পারে। মাল্টিমিডিয়ায় টেক্সট এর ভূমিকা অপরিসীম।যেমন:- মাল্টিমিডিয়ার কোন কাজে প্রমি’স কম্পিউটার বা আনন্দ আইআইটিকে সুন্দর ডিজাইন করে কম্পোজ করে উপস্থাপন করাকে টেক্সট বলে। একজন মাল্টিমিডিয়া প্রফেশনালকে অবশ্যই তার টেক্সটের শুদ্ধতার সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ টেক্সটই হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক কোন কাজের প্রথম মূল ভিত্তি।

গ্রাফিক্স:
ডিজাইন সম্পর্কে সকলেরই কম-বেশী ধারনা রয়েছে। ডিজাইন বা আর্ট একটি সৃষ্টিশীল মাধ্যম,এই ডিজাইন বা আর্টকে আরো সৃষ্টিশীল উন্নতি কম্পিউটার প্রযুক্তি করেছে। স্থিরচিত্রই হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রারম্ভিবিক বিষয়। গ্রাফিক্স ডিজাইনকে কেউ পেশা হিসাবে নিতে চাইলে তাঁর প্রথমে ডিজাইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে এমন কথা নয়। তবে শৈল্পিক মনমানশিকতা থাকতে হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে একাডেমিক শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন রয়েছে। কমপক্ষে ৬ মাসের কোর্স করলে যে যে কেউ মোটামুটি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের ভাল চাহিদা রয়েছে। এক সময়ে আমাদের সিলেটে একজন ভাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার পাওয়া যেত না।

সিলেটে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ক’টি। বেশী দিন পূর্বের কথা নয়। প্রিন্টিং জগতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদা রয়েছে। সিলেট তথা সারা দেশে বর্তমানে প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। একটি কম্পিউটার,প্রিন্টার,স্ক্যানার নিয়েই একটি ডিজাইনিং ফার্ম করা যায়। আমাদের সিলেটে বর্তমানে কম্পিউটার প্রিন্টিং ফার্মের অভাব নেই। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে আজকাল যে কেউ একটি ছাপার কাজ করাতে হলে কিছুটা না হলেও ডিজাইন করতে চায়। প্রিন্টিং জগত সর্ম্পূন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপরে চলে গেছে। একজন প্রফেশনাল ডিজাইনারের অনেক সময় কোন প্রতিষ্ঠানে বসতে হয়না। ভাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে তাঁর ঘরে বসেও কাজ আছে।

কারণ কেউ কখনো ছাপার কাজ সুন্দও শৈপ্লিক,নান্দনিক ভাবে করতে হলে তারঁই প্রয়োজনে একজন ভাল গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে ঘরে গিয়ে খুজেঁ। মনে করা যায় যেমন, একটি বই বা ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদ করতে চায় একটি বই বা ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ শৈল্পিক বা নান্দনিক করার প্রয়োজন তাহলে অবশ্যই প্রয়োজন একজন ভাল গ্রাফিক্স ডিজাইনারের। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে তাঁর যে সব সফট্যায়ারের উপর ধারণা থাকতে হবে তা হলো এডোবি ফটোশপ,এডোবি ইলাষ্ট্রেটর, কোর্য়াক এক্সপ্রেস,করোল ড্র। বর্তমানে আমাদের দেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের ভাল চাহিদা রয়েছে। এক সময়ে তেমন কর্মসংস্থান ছিল না। দিন দিন কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি হচ্ছে। কাজের বিশাল জগত রয়েছে।

ফটোগ্রাফি:
একজন মাল্টিমিডিয়া প্রফেশনালকে অবশ্যই ফটোগ্রাফি বা স্থিরচিত্র সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। তাঁর জন্য একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হতে হবে তা কোন প্রয়োজন নেই। সহজে বলা যায় একটি ফটো বা স্থিরচিত্রকে সুন্দর ভাবে দর্শকের মধ্যে অর্থবোধক করে উপস্থাপন করার করার মত ধারনা থাকতে হবে।

সাউন্ড:
মাল্টিমিডিয়ার কাজের ক্ষেত্রে সাউন্ড বা শব্দ সংযোজন অত্যন্ত জরুরী বিষয়। তাই মাল্টিমিডিয়া কাজে দর্শকের কাছে যতই সুন্দর ভাবে সাউন্ড উপস্থাপন করতে পারবেন ততই ভাল। যেমন: আপনি মাল্টিমিডিয়া কাজে যেভাবে সুন্দর ভাবে টেক্সট,গ্রাফিক্স বা ডিজাইন,ফটো বা স্থিরচিত্র সাজাতে হবে ঠিক তেমনি দর্শকের কাছে সাউন্ড উপস্থাপন করতে হবে। তাঁর জন্য সাউন্ডের কাজ করার জন্য সফট্যায়ার রয়েছে।

এনিমেশন:
এক কথায় বলা যায় টেক্সট,গ্রাফিক্স,স্থিরচিত্র সচল ভাবে উপস্থাপন করাই হলো এনিমেশন। যেমন:- আপনার প্রতিষ্টানের নাম প্রমি’স কম্পিউটার বা আনন্দ আইআইটি কম্পোজ করে লেখা হলো তা হলো টেক্সট, তা আবার যখন ডিজাইন করে স্থির ভাবে উপস্থাপন করা হলো তা হলো গ্রাফিক্স। তা যখন টিভি বা সিনেমা পর্দায় হলতে,হলতে,নাচতে নাচতে,উপস্থাপন করা হলো তা হলো এনিমেশন। যারা এনিমেশনে কাজ করে তাদেরকে বলা হয় এনিমেটর। যারা এনিমেটরে কাজ করেন তাদের অবশ্যই সৃজনশীল,সৃষ্টিশীল, শৈল্পিক, মানসিকতা থাকতে হবে। যে যে ক্যারিয়ার গড়েন না কেন হতাশার কিছু নেই। গ্রাফিক্স ও মাল্টিমিডিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।