অজানা পথে-১২ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অজানা পথে-১২

প্রকাশিত: ১:০০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

অজানা পথে-১২

লতিফ নুতন
ডেডলাইন ২০০৩ সালের ১৩ এপ্রিল। রাজনৈতিক জীবনের একটি অধ্যায়। স্মৃতিময় দিনের অন্যতম একটি দিন। সেদিন সিলেটে প্রথম স্বেচ্ছাসেবক লীগের পুনাঙ্গ কমিটি গঠন হয়। এর পূর্বে সিলেটে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি তেমন কার্যক্রম ছিল না। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় কেউ দায়িত্ব নিতে নারাজ। বিএনপি-জামায়াতের হামলা আর মামলা আজও মনে পড়ে।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তৎকালীন যুগ্ম আহবায়ক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহা উদ্দিন নাসিমের নির্দেশে সিলেট আসলেন সাংগঠনিক সফরে তৎকালীন স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক, পরবর্তীতে সাধারন সম্পাদক পংকজ নাথ এমপি। পংকজ দা সাথে ছিলেন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, বর্তমান ঢাকা (উত্তর) আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নান কচি।পংকজ দা সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে সিলেটে কমিটি দিবেন নাসিম ভাইয়ের নির্দেশ। তিনি হন্য হয়ে খুঁজছেন সাবেক ছাত্রনেতাদের। অনেকেই সেদিন স্বেচ্ছাসেবকলীগ করতে আগ্রহ দেখান নি। সিলেটবাসীর অহংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মরহুম আলহা¦জ আব্দুস সামাদ আজাদ সিলেটে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা সিলেট আগমন উপলক্ষে সিলেটে অবস্থান করছেন।

তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আনম শফিকুল হক, সাধারন সম্পাদক মরহুম বীর মুক্তিযুদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামিম সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেট গুলশান হোটেলে একটি রুমে অবস্থান করছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মরহুম আলহা¦জ আব্দুস সামাদ আজাদ। তিনি সবাইকে নিয়ে বসলেন। স্বেচ্ছাসেবকলীগ কি ভাবে গঠন করা হবে। তখন কেউ স্বেচ্ছাসেবকলীগ করার তেমন আগ্রহ দেখাননি।

আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু অভিবাবক মরহুম আলহা¦জ আব্দুস সামাদ আজাদ বললেন দাঁড়াও তো কে কে করবে স্বেচ্ছাসেবকলীগ। তখন প্রথম আমি বললাম স্বেচ্ছাসেবকলীগ করবো। আমি মাত্র ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিয়েছি। আমার পরবর্তীতে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি শেখ মখলু মিয়া বললেন তিনি স্বেচ্ছাসেবকলীগ করবেন।

১১ এপ্রিল সিলেটে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা সিলেট সফরে আসলেন। সিলেট রেল ষ্টেশনে পরাবত ট্রেন যোগে আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা পৌছেলেন। দরজা খোলার পর প্রথম পংকজ দা ট্রেনে প্রবেশ করলেন। সাথে আমাকে নিয়ে গেলেন। কেবিনে পা ধরে সালাম করলাম। তখন আমরা মাত্র ক’জন স্বেচ্ছাসেবকলীগের ব্যানার নিয়ে শ্লোগান দিলাম। সুব্রত দাদা, মখলু ভাই, এডভোকেট ফখরুল, জালাল উদ্দিন কয়েস, সতিষ দেবনাথ ঝন্টুসহ আরো ক’জন সাবেক ছাত্রনেতা। সেদিন ছিল সিলেট রেল ষ্টেশনে স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রথম শ্লোগান। সিলেট সর্কিট হাউসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা দলের অঙ্গ সংগঠনের সাথে কর্মী সভা করলেন তাতে আমি স্বেচ্ছাসেবকলীগের পক্ষে বক্তব্য রাখলাম। সিলেট সফর শেষে ফিরে গেলেন পরদিন আমাদের নেত্রী ঢাকা চলে গেলেন।

২০০৩ সালের ১৩ এপ্রিল কর্মী সভার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি ঘোষনা হবে। আমি নিশ্চিত ছিলাম আমি স্বেচ্ছাসেবকলীগের দায়িত্ব পাবো। পংকজ দা, মরহুম শামিম ভাই, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি’র বর্তমান সভাপতি, তৎকালীন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক মেয়র কামরান ভাই আমাকে দায়িত্ব দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেন। জেলা বা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বা সাধারন সম্পাদক পদে আমাকে দায়িত্ব দিলাম। কিন্তুু বিধি বাম। আমাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম আনম শফিকুল হক আমার বিপক্ষে অবস্থান নিলেন। পংকজ দা, শামিম ভাই, কামরান ভাই, বিজিত দা অনেক চেষ্টা করলেন। কর্মী সভায় কমিটি ঘোষনা করা হল।

জেলা সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফখরুল ইসলাম, মহানগর শাখায় সভাপতি শেখ মকলু মিয়া, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট বেলাল উদ্দিন। আমি খুব সহজে মেনে নিলাম। কমিটি ঘোষনা করে সরাসরি পংকজ দা ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমান বন্দর চলে গেলেন। পংকজ দা আমাকে সাথে নিয়ে বিমান বন্দর নিয়ে গেলেন। আমাদের প্রিয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ আমাকে দায়িত্ব না দেওয়াতে ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি সরাসরি আমাদের নেতা বাহা উদ্দিন নাসিমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললেন। বিমান বন্দর থেকে বিজিত দা নাসিম ভাইয়ের সাথে কথা বললেন।

প্রিয় নেতা নাসিম ভাই পংকজ দাকে নির্দেশ দিলেন। নতুনকে কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য করবে। পংকজ দা সাথে সাথে ইমিগ্রেশনের ওসির রুমে বসে কেন্দ্রীয় কমিটি প্যাডে আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য লিখিত ঘোষনা করলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটি’র সম্মেলনে সিলেট বিভাগ থেকে প্রথম আমাকে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি’র সদস্য ঘোষনা করা হয়। তারপর থেকে আমি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পর্দাপণ করলাম।

পরবর্তীতে আমাকে পর পর তিন বার কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হল। আমি কৃতজ্ঞ আমাদের প্রিয় নেতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তৎকালীন যুগ্ম আহবায়ক, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহা উদ্দিন নাসিমের কাছে। মনে হল স্মৃতিময় কথা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •