অজানা পথে-৯ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অজানা পথে-৯

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২০

অজানা পথে-৯

লতিফ নুতন
তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে কর্মোপাযুগী শিক্ষাই যথেষ্ট। আইটি ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ হবার কিছু নেই। বর্তমানে আমাদের দেশে আইটি জগতে যদিও নানা সমস্যা রয়েছে তারপরও বলতে হয় তরুন প্রজন্মের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে তার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মাতৃভূমি বিশ্বের আধুনিক একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মত বাংলাদেশে আইটি প্রসার ঘটছে নিঃসন্দেহে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে আইটি জগতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পালহীন নৌকার মত আমাদের আইটি জগত ঘুরাফেরা করছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের তরুন প্রজন্মের একটি বিরাট অংশ আইটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সোচ্চার হয়েছে। আমাদের এই সম্ভাবনা দেশের জন্য একদিন মঙ্গল বয়ে আনবে। একটি বিরাট জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে। দেশের রাজস্ব ভান্ডারে বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জিত হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি বা আইটি জগতের আকার বিশাল। আইটি’র শ্রেণী বিভাগ বিভক্ত করা খুবই কঠিন। যার একমাত্র কারণ প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য ও প্রযুক্তি আসছে। তাই সাথে সাথে তার প্রসার ঘটছে। একজন আইটি কর্মীর তাঁর ক্যারিয়ার গঠনে তাঁর এ জগতের শেষ কোথায় তা নিয়ে ভাবা কঠিন।

বর্তমানে আমদের দেশে প্রতিটি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা সদরে আইটি মার্কেট গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আইটি ভিলেজ গড়ে উঠছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তরুন প্রজন্মের মধ্যে অপ্রত্যাশিত আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আবার তাদের মধ্যে আইটি ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ভয় এবং হতাশায় কাজ করছে লক্ষ্য করা যায়। তাই আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, দক্ষ আইটি কর্মী হিসাবে গড়ে উঠতে পারলে অবশ্যই তার কর্মসংস্থান হবে। তবে আইটি ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পূর্বে ভেবেচিন্তে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে আইটির বিশাল জগতের কোনো অংশে নিজেকে আত্মনিয়োগ করব।

আমাদের দেশে আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো অভাব নেই। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশী প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। এমনকি অলিতে গলিতে নামে বে-নামে বিভিন্ন ধরনের আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখা যায়। সংবাদপত্রে আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের মনোমুগ্ধকর, মনমাতানো বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অনেক বিজ্ঞাপনে নানা ধরণের আকর্ষনীয় অফার পাওয়া যায়। যেমনঃ একটি কোর্সের সাথে অপর একটি কোর্স ফ্রি। স্বল্প খরচে অল্পদিনে একটি কোর্স সম্পন্ন, ৩/৪ দিনে ফ্রি ক্লাস ইত্যাদি।

এসব মনমাতানো বিজ্ঞাপন দেখে তাদের দিকে ধাবিত হওয়া ঠিক নয়। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন,সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালভাবে জেনেশুনে ভর্তি হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় যে, দু’জন ছাত্র দু’টি পৃথক পৃথক আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি অপারেটিং কোর্স সম্পর্ন্ন করে আবার দু’জন কে একই সাথে দু’টি কম্পিউটারে বসালে তাদের দু’জনের দু’ধরনের রেজাল্ট আসে। তার মধ্যে একজনের রেজাল্ট খুবই ভাল আবার অপর জনের আশানুরূপ নয়। এভাবেই চলছে আমাদের আইটি জগত। তাই আমাদেরকে আইটি ক্যারিয়ার গঠনের পূর্বে অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালভাবে জানতে ও বুঝতে হবে। যেমনঃ

১. প্রতিষ্ঠান যাচাই এর পূর্বে আপনি কি ধরনের কোর্স করতে চান, সেই কাংঙ্খিত কোর্স কি উক্ত প্রতিষ্ঠানে আছে এবং কোর্স সর্ম্পন্নে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্য্কাগ্রাউন্ড আছে কি-না জানতে হবে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালভাবে জানুন।

২. ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যাচে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী কত জন ? ল্যাবে কি ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কোর্স সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় টেকনোলজি আছে কিনা, থিওরি ক্লাস ও ল্যাব ক্লাসের অনুপাত কত?

৩. কম্পিউটার ল্যাবে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার আছে কি-না?

৪. প্রশিক্ষক ও ল্যাব গাইডের ব্যাকগ্রাউন্ড জানা উচিত। তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কি? ক্লাসের বাইরে প্রশিক্ষক ও ল্যাব গাইডের কি সহযোগিতা পাবেন? প্রশিক্ষক ও ল্যাব গাইডের সাথে প্রয়োজনে কথা বলেন।

আবার সতকর্তার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে আপনার সকল প্রশ্নের মন ভুলানো উত্তর সুন্দর করে বলে দেবে। এতে আপনি সহজে গলে যেতে পারেন। তখন তাদের মিষ্ঠভাষী কথায় মন গলাবেন না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ঐ প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত কোনো শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেন। এখন আমাদের ভাবতে হবে যে, পূর্বে আমি বলেছি, আইটি জগতের আকার বিশাল। এ জগতের কোনো শেষ নেই। তার বিভিন্ন অংশ রয়েছে। তাই যে কোর্সে অংশ নিবেন তাঁর উপর বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোর্সে ভর্তি হবেন তার উপর দক্ষতা আনতে হবে।

বর্তমান সরকার আইটি জগতের প্রসার ঘটাতে সোচ্চার রয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইটির প্রসার বাড়াতে আন্তরকিতার পরিচয় দিচ্ছেন। সারা দেশে বিগত ১০ বছরে আইটি’র প্রসার ঘঠেছে ইতিপূর্বে আমাদের দেশে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় ছিল না। জাতির জনের কন্যা,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য ও পযুক্তির প্রসার বাড়াতে মন্ত্রনালয় গঠন করেছেন। তা আমাদের জন্য শুভ সংবাদ। সরকারের আন্তরিকতার কারনে দেশে আইটি সেক্টর আরো শক্তিশালী হয়েছে। দিন দিন আমাদের দেশে আইটির প্রসার বাড়বে-ফলে এই জগতে আরো কর্মসংস্থান হবে। তাই প্রয়োজন কর্মোপযুগী শিক্ষা নেয়া। তাই আইটি বিষয়ে কর্মোপযুগী শিক্ষা নিয়ে আসুন আমাদের নিজের কর্মসংস্থান নিজেরাই তৈরী করি।