অজ্ঞাত কারণে থমকে গেছে উচ্ছেদ কার্যক্রম : আবারও দখলদারদের কবলে হবিগঞ্জ শহরের পুরাণ খোয়াই নদী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অজ্ঞাত কারণে থমকে গেছে উচ্ছেদ কার্যক্রম : আবারও দখলদারদের কবলে হবিগঞ্জ শহরের পুরাণ খোয়াই নদী

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

অজ্ঞাত কারণে থমকে গেছে উচ্ছেদ কার্যক্রম : আবারও দখলদারদের কবলে হবিগঞ্জ শহরের পুরাণ খোয়াই নদী
তারেক হাবিব, হবিগঞ্জ থেকে
হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাসে পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধারের সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এ সফল উদ্যোগ দেশব্যাপী অর্জন করেছে ব্যাপক সুনাম। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদী উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসন লাল দাগে ক্রস চিহিৃত করেছে স্থান গুলো। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনাও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের পুরাণ খোয়াই নদীর উপর থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা হবে লেক। যা হবিগঞ্জ শহর বাসীর জন্য বয়ে আনবে নতুন চমক। বাড়বে শহরের সৌর্ন্দয্য, দূর হবে শহরবাসীর দীর্ঘ দিনের সমস্যা জলাবদ্ধাতাও। পুরাণ খোয়াই নদী উদ্ধারে উদ্যোগী হয়ে কার্যক্রম গ্রহন করেছিলেন হবিগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। সাহসী উদ্যোগের জন্য যার প্রতি অনেকেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে সাবেক জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ হঠাৎ বদলী হয়ে যাবার কারনে অজ্ঞাত কারণে কেন উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে গেছে তা নিয়ে জনমনে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, জেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই হচ্ছে না উচ্ছেদ কার্যক্রম। আবার কেউ কেউ বলছেন দখলদারদের একটি শক্তিশালী একটি চক্র উপর মহলকে ম্যানেজ করে ব্যাহত করেছে নদী উদ্ধার কার্যক্রম। পরে অভিযানে শহরের মাহমুদাবাদ, মাছুলিয়া, অনন্তপুর এলাকায় বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছে করলেও মাস ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও দখল হতে দেখা গেছে ওই স্থানগুলো।
সূত্র জানায়, হবিগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আন্তঃ সীমান্ত খোয়াই নদীর দুই পাশে অবৈধ দখলের বিস্তার ঘটেছে। শহরের পৌর বর্জ্যের সঙ্গে স্থানীয় বিপণির ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলায় দূষিত হচ্ছে পানি। ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে অস্তিত্ব।
নদীর উৎস অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরার আঠারমুড়া পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে নদীটি বাল্লা নামক স্থান দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি হবিগঞ্জ জেলার পূর্বপ্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নদীটির দৈর্ঘ্য ৯১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০৬ মিটার। হবিগঞ্জের দুঃখ হিসেবে পরিচিত খোয়াই নদীকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ১৯৭৮-৭৯ সালে শহর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাইরে নেওয়া হয়। এরপর থেকে নদীর শহরের অংশ পরিচিত হতে থাকে ‘পুরাতন খোয়াই নদী’ নামে। সত্তর দশকের শেষে নদী বাইরে নিয়ে যাওয়ার এরপর থেকে পুরাতন খোয়াইয়ের দুই পাড় দখলদারদের দৃষ্টি পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, শহর রক্ষার জন্য ৭০-এর দশকের শেষে মাছুলিয়া-রামপুর ও খোয়াই মুখ-গরুর বাজার পর্যন্ত দুই দফায় ৫ কিলোমিটার লুপ কাটিংয়ের মাধ্যমে খোয়াই নদীর গতি পরিবর্তন করে শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত করে দেওয়া হয়। তিন বছরে আগে ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসনের এক হিসেবে দেখা গেছে, শহরের মাছুলিয়া থেকে হরিপুর পর্যন্ত পুরাতন খোয়াই নদীর দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার। আর অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৫ শতাধিক। দখলদারের অবৈধ দখল করা জমির পরিমাণ প্রায় দুই একর। অথচ কয়েক বছর আগেও যে নদীতে পানি ছিল সেখানের বর্তমান চিত্র দেখলে মনে হবে কোনো সময় ওই জায়গায় নদীর কোন চিহ্ন ছিল না। সরেজমিনে নদী অববাহিত ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন খোয়াই নদীর দুইপাশ দখল করে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
উচ্ছেদ পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে জানা যায়, শহরের পুরাতন খোয়াই নদীর আড়াই কিলোমিটার এলাকাকে নান্দনিক করাসহ ‘খোয়াই রিভার সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নে ১ হাজার ৮’শ ৭২ কোটি টাকার যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল তা সংশোধিত হয়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।