অদম্য মেধাবী ছাত্রী : কমলগঞ্জে উচ্চ শিক্ষা শেষে জজ হতে চায় কৃষকের মেয়ে ‘মুক্তা মল্লিক’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অদম্য মেধাবী ছাত্রী : কমলগঞ্জে উচ্চ শিক্ষা শেষে জজ হতে চায় কৃষকের মেয়ে ‘মুক্তা মল্লিক’

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

অদম্য মেধাবী ছাত্রী : কমলগঞ্জে উচ্চ শিক্ষা শেষে জজ হতে চায় কৃষকের মেয়ে ‘মুক্তা মল্লিক’

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের অবিনাশ মল্লিক একজন দরিদ্র সবজি বিক্রেতা। তার পরিবারে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। বড় ছেলে একটি সরকারি মেডিক্যাল এ্যাসিসটেন্স প্রশিক্ষণ স্কুলে(মেটস্) দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছে। দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে ২০২০ সনের বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তৃতীয় সন্তান মুক্তা মল্লিক সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় মুন্সীবাজার কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকী এক ভাই ৮ম শ্রেণি ও ছোট বোন ৫ম শেণিতে পড়ে। দরিদ্র পরিবারের হলেও বর্তমানে সবাই লেখা পড়ায় রয়েছে।
এসএসসিতে ভালো ফলাফল করে মুক্তা মল্লিক আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে একজন জজ হতে চায়। সবজি বিক্রেতা বাবা তাকে আর বেশী দূর পড়াতে চাচ্ছেন না দারিদ্রতার কারণে। তবে মুক্তার ইচ্ছে বড় ভাই ও বড় বোন নিজে টিউশনী করে নিজেদের লেখা পড়ার খরচ চালাতে পারছেন সেভাবে সেও একটি ব্যবস্তা করে নিজের লেখা পড়ার খরচ বের করতে পারবে বলে আত্ম বিশ্বাস।
মঙ্গলবার (৩জুন) বিকেলে দেবীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে কথা হয় অদম্য মেধাবী মুক্তা মল্লিকের সাথে। সে জানায়,নিজের চেষ্টায় বিদ্যালয়য়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা আর পরামর্শে পড়াশুনা করে সে প্রাথমিক সমাপনীতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস ও এবার এসএসসিতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকেও সে ভালো ফলাফল করে পরবর্তীতে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করে তার লক্ষ্য একজন জজ হবে। এতে দেশ ও সমাজের সেবা করতে পারবে বলে তার বিশ্বাস।
মুক্তার বাবা অবিনাশ মল্লিক জানান, তিনি নিজের জমিতে সবজি চাষ করে ও কৃষি কাজ করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় কিছুটা সহযোগিতা করেছেন মাত্র। তবে বড় ছেলে ও মেয়ে টিউশনী করে নিজেদের খরচ বের করে নিচ্ছেন। এখন তৃতীয় সন্তান মুক্তার লেখাপড়ার খরচ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তবে মেয়ে নিজেই অদম্য বলে সে পরবর্তী লেখা পড়া চালিয়ে যেতে চায়। কেউ মানবিক বিবেচনায় সহযোগিতার হাত বাড়ালে হয়তো বা তার মেয়ের এ ইচ্ছে পূরণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
কালী প্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, দারিদ্রতার যুদ্ধ করে মুক্তা মল্লিক নিজে ও ভাই বোনরা পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তার এ ফলাফলে এ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা খুশি। সেই সাথে মুক্তার আশা যাতে পুরন হয় সেই সাফল্য কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।a

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল