অনেক উন্নত দেশ যা পারেনি বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অনেক উন্নত দেশ যা পারেনি বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৭

অনেক উন্নত দেশ যা পারেনি বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যা করে দেখিয়েছে; অনেক উন্নত দেশও তা করে দেখানোর সাহস করতে পারে নি। এতে করে আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আগের যেকোনো সময়ের থেকে বেড়েছে।

টানা ২০ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে গুণীজনদের সঙ্গে মত বিনিময়ের পরে আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা মঞ্চে দেয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুটা ১৯৭৮ সাল থেকেই। এবার প্রথম যখন তারা আসতে শুরু করলো-আমরা কিছুটা দ্বিধগ্রস্থ ছিলাম, কি করবো। লাখ লাখ মানুষ চলে আসছে! পরে আমি খোঁজ নিলাম। জানলাম-সেখানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করলো রেহেনা। সে বললো, তুমি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারছো; আর ৫-৭ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবা না?

তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম; ছুটে গেলাম নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষ গুলোর মাঝে। আমরা তখনও জানতাম না কি করবো-কি খাওয়াবো! এখন অনেক দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানায়। বিপন্ন মানুষ গুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে আমরা এক বেলা খাবো; আরেক বেলা আমাদের খাবার তাদের দেবো। আজ বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতো; পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।

মিয়ানমারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: প্রতিবেশি একটি দেশ থেকে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো যেনো কখন যুদ্ধ বেধে যায়। আসলে তারা চাইছিলো; উত্তেজনা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বিশ্বের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিতে। তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী,বর্ডারগার্ড, নৌবাহিনীসহ সকল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করলাম। আমাদের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরী ছিলো। আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম। আপনাদের সমর্থন আগেই ছিলো; এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থনও আমাদের সঙ্গে রয়েছে।

৯টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট হয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। তাকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে এসময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সমাজের বিশিষ্ট ও গুণীজনেরা।