অন্যের খাতা দেখতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় পরীক্ষার্থীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অন্যের খাতা দেখতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় পরীক্ষার্থীর

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮

অন্যের খাতা দেখতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় পরীক্ষার্থীর

পঞ্চগড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষাচলাকালীন অন্যের খাতা দেখে লেখতে নিষেধ করায় এক শিক্ষককে চড়-থাপ্পর মেরেছে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী।

বৃহষ্পতিবার পরীক্ষার পর পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ঘটনা ঘটে। শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শামিমুর হাসান সাগর পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

কেন্দ্র সচিব ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে জানান এবং পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চলতি বছরের এসএসসির রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে শামিমুর হাসান সাগর পাশে আরেক পরীক্ষার্থীর খাতা দেখে লেখছিল।

এ সময় দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক ও পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হকিকুল তাকে অন্যের খাতা দেখে লেখতে নিষেধ করেন এবং পাশের শিক্ষার্থীকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দেন।

পরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে যায় সাগর। এক পর্যায়ে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে থেকে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রের মূল ফটকের কাছে শিক্ষক হকিকুল ইসলামকে গালে থাপ্পর দিয়ে পালিয়ে যায় সাগর ও তার বন্ধুরা।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক ও কক্ষ পরিদর্শক হকিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেয়। এনিয়ে কথা বলতে গেলে তারাই আমাদের ওপর চড়াও হয়, হুমকি দেয়। অন্যের খাতা দেখতে নিষেধ করায় কেন্দ্রের সামনেই ওই সাগর তার সহপাঠি বন্ধুরা আমাকে আটক করে গালাগালি করে। এক পর্যায়ে আমাকে থাপ্পর মেরে পালিয়ে যায়।

পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব রেখা রাণী দেবী বলেন, ‘আমরা ওই পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি এবং পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থী সাগরের আমাদের শিক্ষককে থাপ্পর মারার ঘটনাটি সিসি ক্যামেরাতেও রেকর্ড হয়েছে। এজন্য আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন বলেন, ঘটনাটি যেহেতু অন্য কেন্দ্রের, এজন্য এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই জানিনা। তবে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের কাছে শুনেছি। একজন শিক্ষার্থীর এমন আচরণ অবশ্যই দুঃখজনক। আমরা তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়েছি। শিক্ষককে লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।