অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করা উচিত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করা উচিত

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করা উচিত

পারভীন বেগম:
আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু কথা বলি যা অন্যকে কষ্ট দেয়। আর সেই কষ্টের মধ্যে আমরা সুখ খোঁজে পাই। একটি অপ্রয়োজনী কথা বলে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করা উচিত বলে আমি মনে করি। লক্ষ্যে করলে দেখা যাবে সমাজে বিবেদ বা ঝগড়া সৃষ্টির পেছনে মুখ্য ভূমিকার রাখছে অপ্রয়োজনীয় কথা। অপ্রয়োজনী কথা আমাদের পরিহার করা অতিব জরুরি। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন তার মধ্যে অপ্রয়োজনী কথা পরিহার একটি বিষয়। আমরা মানুষ ও সামাজিক জীব।

জীবনের প্রয়োজনে আমাদেরকে মিশতে হয় সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে। বলতে হয় নানা বিষয়ে কথাবার্তা। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক কিছু বিধিমালা প্রদান করেছে। প্রত্যেক মানুষের উচিত এসব মেনে চলা। প্রবাদে আছে, ‘বোবার কোনো শত্রু নেই।’ এ প্রবাদের দ্বারাই মূলত বুঝা যায়, কথাবার্তার নানাবিধ বিপজ্জনক পরিণতির কথা। কথা বলার ক্ষেত্রে মিথ্যা সবচেয়ে বাজে অভ্যাস। বলা হয়েছে, মিথ্যা হলো গোনাহের জননী। তাই আমাদের মিথ্যা বর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিনিন্দার অভ্যাসও পরিহার করতে হবে। কথা বলার ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়ে কথা বলা। যাচাই-বাছাই ও নিশ্চয়তা ব্যতীত কারো সাথে শোনা কথা বলতে নেই।

কারণ আপনি অন্যদের কাছ থেকে সত্য ও মিথ্যা এবং সত্য ও সন্দেহযুক্ত কথাবার্তা শুনতে পারেন। যদি আপনি যা শোনেন তাই বলে বেড়ান, তাহলে আপনি গোনাহের অংশীদার হবেন। কথা বলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে অন্যের সাথে কথা বলা। যেন এটা নিয়ে কোনো ভজঘট সৃষ্টি না হয়। সত্যের মিশেলে আংশিক মিথ্যা কিংবা সন্দেহ সৃষ্টি করে এমন কথা না বলা। অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তর্কে (যার উদ্দেশ্য থাকে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা অন্যের ওপর জয়লাভ করা) জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকা। আপনার বক্তব্য সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল করুন। বুঝতে অসুবিধা হয় এমন শব্দ ব্যবহার করবেন না।

অপ্রয়োজনীয় বাকপটুতা পরিহার করুন এবং অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কিছু বলবেন না। সবচেয়ে ভালো হয়, বক্তব্য ধীরস্থির, স্পষ্ট, শ্রুতিযোগ্য ও অন্যের নিকট বোধগম্যময় করে উপস্থাপন করা। কথা বলার সময় আন্তরিক হোন এবং ঠাট্টা-মশতরা এড়িয়ে চলুন। এছাড়া কারো কথা বলার সময় তাকে বাধাগ্রস্ত করবেন না ও তার বক্তব্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শুনতে থাকুন। প্রয়োজনে তার কথা বলা শেষে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটা নিয়ে আলোচনা করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাই ভালো। কিছু বলার আগে নিজের চিন্তাগুলো সংগঠিত করুন।

কীভাবে সেগুলোকে প্রকাশ করবেন, তা ঠিক করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কথা শরীরের ভার্সম্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতি কারক। গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় কথা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। আমাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভাল ভাবে ধারণা গ্রহণ করে প্রয়োজনে কথা বলা। আসুন আমারা সকল অপ্রয়োজনী কথা পরিহার করে সুন্দর ও সমৃদ্ধশীল সমাজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় কথা বলি। অপ্রয়োজনী কথা পরিহার করি শরীর, মন ও মানষিক ভার্সম্য ভালো রাখি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •