অভিযোগ স্বীকারঃ অবশেষে স্মিথ-ওয়ার্নারের পদত্যাগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অভিযোগ স্বীকারঃ অবশেষে স্মিথ-ওয়ার্নারের পদত্যাগ

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৮

অভিযোগ স্বীকারঃ অবশেষে স্মিথ-ওয়ার্নারের পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্টঃ বল টেম্পারিং–কাণ্ডে তীব্র বিতর্কের মুখে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের পদ ছেড়ে দিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে এই খবর। গতকাল কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ক্যামেরন ব্যানক্রফট বল টেম্পারিং করছেন। এর একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে সারা ক্রিকেট বিশ্বে শোরগোল পড়ে যায়। বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া সরকার পর্যন্ত গড়ায়। কালই সংবাদ সম্মেলনে পুরো অপরাধ স্বীকার করে নেন স্মিথ। জানান, টেস্ট জিততে মরিয়া হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁর দল। ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে এমনটা আর হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন স্মিথ। তবে ওই ঘটনার রেশ থাকতে থাকতেই নেতৃত্বই ছেড়ে দিতে হলো এই ব্যাটসম্যানকে। পদ ছাড়তে হলো তাঁর ডেপুটি ওয়ার্নারকেও।

বল টেম্পারিংয়ের দায়ে কোনো টেস্ট অধিনায়ককে সরে যেতে বাধ্য করা এমনিতেই বড় ঘটনা। আর একটি টেস্ট চলার মাঝপথেই অধিনায়কের পদ ছেড়ে দেওয়া তো আরও বিরল। চলতি টেস্টের চতুর্থ দিন থেকে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম পাইন। টেস্টের শেষ দুই দিনের নেতৃত্ব থাকবে এই উইকেটরক্ষকের কাঁধে। সিরিজ শেষে সিএ ভবিষ্যৎ অধিনায়ক ঠিক করবে।

এই শোরগোলের মধ্যেই এগিয়ে চলছে খেলা। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে এরই মধ্যে লিডের আকারটি ৩১৮ রানে নিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ টেস্টের সিরিজে ১-১ সমতা। এই টেস্ট জিতলে ২-১-এ এগিয়ে যাবে স্বাগতিকেরা। কাল স্মিথ স্বীকার করেছেন, অবস্থা বেগতিক দেখে মরিয়া হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও গতকাল পর্যন্ত তাঁর কথায় মনে হচ্ছিল, নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক এই ২৮ বছর বয়সী। কিন্তু চাপের মুখে আজ সরে যেতেই হলো।

সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড বলেছেন, ‌‘স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে আলোচনা পর ওরা এই টেস্টের বাকি সময়ের জন্য অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের নিজ নিজ পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে।’

সিএ চেয়ারম্যান ডেভিড পিভার জানিয়েছেন, জরুরি বোর্ড সভার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পাইনকে অন্তর্বর্তী অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিএর নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভাগের প্রধান ইয়ান রয় ও দলের টিম পারফরম্যান্স ম্যানেজার প্যাট হাওয়ার্ড এরই মধ্যে কেপটাউনে উড়ে আসছেন। ঘটনা এখানেই যে শেষ হয়ে যাচ্ছে না, তা পরিষ্কার।

প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার স্মিথদের

দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথম থেকেই চলছে বিতর্ক। কিন্তু সেগুলো যেন তবলার ঠুকঠাক। এবার রীতিমতো ব্যান্ডে বাড়ি পড়ার মতো করেই সামনে চলে এল বল টেম্পারিংয়ের বিতর্ক। গতকাল কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন মাঠের ক্রিকেট হারিয়ে যেতে বসেছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগে। ক্যামেরন ব্যানক্রফট হলুদ রঙের একটি বস্তু দিয়ে বল ঘষেছেন—অভিযোগটা এমনই। অস্ট্রেলীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ স্বীকারই করেছেন।

দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কিছুটা চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিই দেন ব্যানক্রফট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। স্মিথ নিজেকে এই ষড়যন্ত্রের একজন বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটিই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এই স্বীকারোক্তির ফলে এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছেন তাঁরা।

কেপটাউন টেস্টে চাপের মুখেই আছে অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের ৩১১ রানের জবাবে ২৫৫ রানে অলআউট হয়েছে স্টিভ স্মিথের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ফাফ ডু প্লেসির দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ২৩৮ রান তুলে ফেলায় এই মুহূর্তে ২৯৪ রানে পিছিয়ে তারা। এমনই একটা পরিস্থিতিতে বল টেম্পারিংয়ের ব্যাপারটি ক্রিকেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

ঘটনাটি তৃতীয় দিন চা বিরতির সময়। টিভি ক্যামেরায় ব্যানক্রফটকে বল তালুতে নিয়ে ঘষতে দেখা যায়। পরের দৃশ্যেই দেখা যায় হাতের তালু থেকে হলুদ রঙের কিছু একটা বের করে ট্রাউজারের পকেটে রাখছেন ব্যানক্রফট। ফুটেজ দেখেই টেলিভিশন আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড মাঠের দুই আম্পায়ার নাইজল লং ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থকে সতর্ক করেন।

আম্পায়াররা অবশ্য মাঠে কিছুই খুঁজে পাননি। ব্যানক্রফটকে চ্যালেঞ্জ করলে পকেট থেকে একটি সানগ্লাস কভার বের করে দেখান। পরে অবশ্য আম্পায়াররা ব্যানক্রফটের বিরুদ্ধে বল বিকৃতির অভিযোগ এনেছেন।

ব্যানক্রফটের পকেটে আসলে কী ছিল। সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার পকেটে শিরীষ কাগজ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আসলে শিরীষ কাগজ দিয়েই বলটা ঘষছিলেন। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বলেছেন, ‘যা ঘটেছে, তার জন্য তিনি দুঃখিত। আমার নেতৃত্বে এই প্রথম এমন কিছু ঘটল। কথা দিচ্ছি, এটাই শেষ। এটা করে কিছুটা সুবিধা নেওয়ার কথা ভেবেছিল। সিনিয়ররা ব্যাপারটা জানেন (লিডারশিপ গ্রুপ)। কিন্তু কোচ লেম্যান এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’

ব্যানক্রফট নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন দার্শনিকের মতোই, ‘আমি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলাম। আমি সংবাদ সম্মেলনে ইচ্ছা করেই এসেছি, কারণ যা ঘটেছে তার দায়ভার আমার।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল