“অভ্যন্তরীণ অথবা বহিঃবিশ্বের উস্কানি হতে পারে রোহিঙ্গাদের এই অসৌজন্যমূলক আচরণের মূল কারণ”‍‌‌‌-মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“অভ্যন্তরীণ অথবা বহিঃবিশ্বের উস্কানি হতে পারে রোহিঙ্গাদের এই অসৌজন্যমূলক আচরণের মূল কারণ”‍‌‌‌-মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৭

“অভ্যন্তরীণ অথবা বহিঃবিশ্বের উস্কানি হতে পারে রোহিঙ্গাদের এই অসৌজন্যমূলক আচরণের মূল কারণ”‍‌‌‌-মো.নাঈমুল ইসলাম

‍মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব সৃষ্টির সেরা যে জীব মানুষের মধ্যে দিয়ে তাকে এই ধরণীতে পাঠিয়েছিলেন মহান রাব্বুল আ’লামীন। সেই মানবিকতা এবং মনুষ্যত্বের কারণেই আশ্রয় দেয়া হয়েছিল বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত সে এক রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিদের। তারা মুসলিম ধর্মাবলম্বী বলে তাদের ঠাই দেয়া হয়নি এতো তাদের প্রতি মানবিকতার পরিচয়। তাদের এই দুঃখ দুর্দশাগ্রস্ত শোক বিরহে মলিন প্রত্যেকটি দিন ছিল যেন না খেয়ে শুধু হাল চাষ করে যাওয়া। তাদের এই বিপন্ন দিনগুলোর সাথীও ছিল আন্তর্জাতিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনও। তারা তাদেরকে নিজের একবেলা খাবার না খেয়ে সেই টাকা একত্রিত করে সাহায্য করেছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের জীবিকা নির্বাহী করার সুযোগও করে দিয়েছে। তাদেরকে আমাদেরই একজন মনে করে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও অনেক সাহায্য করা হয়েছে। এমনকি এ পর্যন্ত বিশ্বের বিত্তবান এবং সম্পদশালী অনেক দেশ তাদের সাহার্য্যার্তে এগিয়ে এসেছে। তাও আবার তাদের সাহায্য ছিল বিরল। কেউ দিয়েছে ১২০ কোটি টাকা কেউ আবার দিয়েছে ১২০ টন খাবার,বস্ত্র। শুধু তারা নয় বিভিন্ন চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বন্ধুবান্ধব মিলে টাকা একত্রিত করে তাদেরকে সাহায্য এবং অনেক অনুদান দেয়া হয়েছে। তারা এই অনুদান পেয়ে অনেক খুশিও হয়েছে। কিন্তু ২৭ অক্টোবর রোজ শুক্রবার ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার জড়। কথায় আছে “যার জন্য ডাকাতি করলেন শেষ পর্যন্ত তারাই আবার ডাকাত বলে আখ্যায়িত করে”। ঘটনা এরকম ছিল শুক্রবার ২ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পাশে রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে টিউবওয়েল সারানোর কাজ করছিলেন মিস্ত্রিরা। এ সময় ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে পাশের ক্যাম্প থেকে কয়েকজন রোহিঙ্গা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আঘাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত পুলিষ দু’জন রোহিঙ্গাকে আটক করে এবং চারজন মিস্ত্রি আহত হন। দুজন রোহিঙ্গাদের আটক করার পর তাদের কাছ থেকে একনলা বন্দুক, এলজি, চারটি কার্তুজ ও দুটি কার্তুজের খোলা খোসা পাওয়া যায়। অবশেষে জানা যায় তারা ক্যাম্পে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছিল। কতদিন তাদেরকে এভাবে আশ্রয় দেয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ক্ষতি বড় পরিসরে যে দেখা না দেবে তার কি নিশ্চয়তা আছে। অর্থাৎ তাদের প্রথম আক্রমন এটি। তারা অন্য একটি দেশের জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের স্থায়ী নয়। যদি বার্মিজদের কোনো চক্রান্ত থাকে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা হয়তো কোনো চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। হতে পারে জাতিসংঘ এমনকি কমিউনিস্টদেশগুলোও এর মধ্যে রয়েছে। রোহিঙ্গারা নিষ্পাপ কিন্তু মিয়ানমার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা তো নিষ্পাপ নয়। যদি রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ে তারাও এসে ঢুকে পরে। যারা এসে আশ্রয় নিয়েছে তারা তো উপজাতি। কেনো এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ এই ঘটনার স্থায়ী সমাধান দেয়ার পদক্ষেপ নিলেন না। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সব মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাত্বতা লেভেল জিরো। অনেক তো দেখেছি ধর্ম নিয়ে প্রতিবাদ করেন তাহলে এখন পর্যন্ত কেনো তারা কিছু করলো না।  নাকি তাদেরকে অভ্যন্তরীণ অথবা বহিঃবিশ্ব থেকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। কোথায় গিয়ে শেষ হবে এই রোহিঙ্গা কাহিনী। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান দিতে হবে তা না হলে বাঙালিদেরকে ভবিষ্যতে কাল দেখতে হবে। নাকি বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতাশীন দলগুলো বহিঃবিশ্ব থেকে আশা সাহায্য থেকেও মুনাফা পেতে চায় সেই জন্য তারা এটির সমাধান দিচ্ছে না। আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি যা সাহায্য এসেছে সবকিছু বর্তমান সরকারের হাত দিয়েই দিতে হয়েছে। যদি বহিঃবিশ্ব সাহায্যের নাম করে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে থাকে। বর্তমান সরকার তাদের মুনাফা পাওয়ার জন্যও কি শেষ পর্যন্ত তাদের মানবিকতাকেও বিক্রি করে দেবে। মানবিকতা আমাদের ধর্ম। কিন্তু এই মানবিকতা দেখাতে গিয়ে আজ আমাদের নিজেদেরই পাশবিকতার শিকার হতে হলো। তবুও আমরা তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত এবং করেও যাবো। আগে আমি একটি কথা বলেছিলাম যেটি আমার মনে সংশয় বেধেছিল। “যদি রোহিঙ্গাদের রূপ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা বাংলাদেশে ডুকে পড়ে”। আজ কথাটি এরকমও হতে পারে। কারণ এই সেই অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জাতি যাদের চোখের সামনে তাদের মা বোনদের দিনের পরে দিন ধর্ষণ করা হয়েছে তবুও তারা প্রতিবাদ করে নি তাহলে কিভাবে তারা অস্ত্র নিয়ে এসে এই ঘটনা রটানোর চেষ্টা করবে। এখনও বলছি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলে ভালোভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বিজিবি ভেরিফিকেশন দিয়ে আশ্রয় দেয়া হোক এবং নিরাপত্তা কঠোর জোরধার করা হোক। আর যদি অভ্যন্তরীণ কোন্দল হয়ে থাকে তাহলে হাজার নিরাপত্তা দিলেও এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।