অযত্নে পড়ে আছে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কবর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অযত্নে পড়ে আছে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কবর

প্রকাশিত: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

অযত্নে পড়ে আছে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কবর

image-43447-1477140408২৪ অক্টোবর ২০১৬ সোমবার: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে শনিবার ও রোববার। সম্মেলনকে ঘিরে শুধু ঢাকা শহর নয়, সেজেছে পুরো দেশ। ফেস্টুন-ব্যানারে ছেয়ে গেছে দলীয় কার্যালয়সহ রাস্তাঘাট। সম্মেলনের হাওয়া লেগেছে দেশ বিদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থদের মধ্যে। সম্মেলনে অংশগ্রহন করছেন আওয়ামী লীগের হাজারো কাউন্সিলর, ডেলিগেট, সম্মানিত অতিথিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজগার্ডেন প্যালেসে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী মুসলিমলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক দুই জনেই চিরনিন্দ্রায় শায়িত আছেন টাঙ্গাইলে।

সামছুল হকের জন্ম ১৯১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের মামার বাড়িতে। পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার মাইঠাইন গ্রামে। তার পিতা দবির উদ্দিন সরকার এবং মাতা শরিফুন্নেসা।

সামছুল হক ১৯৩৮ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা এবং ১৯৪০ সালে করটিয়ার সা’দত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ পাস করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে এমএ চুড়ান্ত পরীক্ষা দিতে পারেননি। নিজ মেধা ও দক্ষতায়  রাজনৈতিক অঙ্গণে তার অবস্থান ধীরে ধীরে মজবুত হয়ে উঠে। সামছুক হক স্কুল জীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বঙ্গের আলীগড় খ্যাত সা’দত কলেজের ছাত্রসংসদের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত পাকিস্তান ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে যে জননেতা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে সামছুল হক অন্যতম। বাঙ্গালী জাতির মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম রূপকার সামছুল হক। এজন্য তাকে কারাবরণ করতে হয়। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তার স্ত্রী ইডেন কলেজের শিক্ষিকা আফিয়া খাতুন তাকে ছেড়ে চলে যান। সামছুল হকের ২ সন্তান আমেরিকান নাগরিক ড. তাজমা শাহীন এবং ফাতেমা শায়কা বর্তমানে নাসায় কর্মরত।

১৯৫৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তির পর দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রে সামছুল হককে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবুও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে নিজেকে উজার করে কাজ করেন। পারিবারিক অশান্তি এবং নিজের হাতে গড়া দল থেকে নিগৃহিত হয়ে এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।

জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ১৯৬৫ সালে মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অনেক খোঁজাখুজির পর ২০০৭ সালে সামছুল হক গবেষণা পরিষদ কালিহাতীর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের কদিম হামজানী গ্রামে সামছুল হকের কবর আবিষ্কার করে।

কালিহাতীর দূর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত মহিউদ্দিন আনসারীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনসারী (৭২) বলেন, আমি ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের বাড়িতে একজন পাগল প্রকৃতির মানুষ থাকতেন। আমাদের এলাকার মৃত ডা: আনসার আলী তালুকদারের সঙ্গে উক্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা ছিল। জানা গেছে সেই পাগল প্রকৃতির ব্যক্তিটিই সামসুল হক। পরবর্তীতে কদিম হামজানীতে জননেতা সামছুল হকের কবর সনাক্ত হয়।

কিন্তু বাংলার অবিসংবাদিত নেতার কবরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কবরটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে, দেখার কেউ নেই। কবরস্থানে গরু ছাগল ঘাস খাচ্ছে। সীমানা দেয়াল না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে কবর এলাকা। সামছুল হক লেখা টিনের পুরোনো একটি সাইন বোর্ড কবরের পাশে টানানো রয়েছে।

বেলাল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, কবর জিয়ারত করতে প্রায়ই অনেক মানুষ আসে। এত বড় মাপের নেতার কবর সংস্কার এবং কবর এলাকার স্থায়ী কাজ না হওয়ায় অনেকেই আফসোস করে।

সামছুল হক গবেষণা পরিষদের সভাপতি ও সামছুল হকের ভাতিজা ডা: সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমাদের পরিবারের খবর কেউ নেয় না। অনেক কষ্টে চাচার কবরের সন্ধান পেলেও সরকারিভাবে কবর সংস্কারের কোন কাজই হয়নি। আমরা কবরের পাশে ২ শতাংশ জায়গা কিনেছি। সামছুক হকের একমাত্র জীবিত সহোদর আনোয়ারুল হকসহ আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের কাছে এই বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, আমি করবটি এখনো দেখেনি। সরেজমিনে দেখার পর কবর ও কবর স্থানের সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।