অযোগ্য গৃহবন্দি নেত্রীদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি: নেতাকর্মীদের অসন্তোষ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অযোগ্য গৃহবন্দি নেত্রীদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি: নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭

অযোগ্য গৃহবন্দি নেত্রীদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি: নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

মো: নাঈমুল ইসলাম (নিজস্ব প্রতিবেদক): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সিলেট জেলা ও মহানগরের কমিটি সুনামের সহিত দীর্ঘ ৫ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছিল। গত ৭ ডিসেম্বর জাহানারা ইয়াসমীনকে সভাপতি ও নিগার সুলতানা ডেইজীকে সাধারণ সম্পাদকের করে ৯৩ সদস্যের সিলেট মহানগর এবং সালেহা কবির শেপীকে সভাপতি ও আমেনা বেগম রুমিকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৩ সদস্যের জেলা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রায় ১০ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তৎকালিন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নূরী আরা সাফা ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা দুটো কমিটির অনুমোদন করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর পাপিয়া বেগম চৌধুরীকে সভানেত্রী ও বর্তমান কাউন্সিলর সালেহা কবিরকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ১১৮ সদস্যের জেলা কমিটি এবং অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরীকে সভানেত্রী ও বর্তমান কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র রোকশানা বেগম শাহনাজকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যের মহানগর কমিটি ঘোষনা করা হয়।
দীর্ঘ ৫ বছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর মহিলা দলের কমিটি দেয়া অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু ঘোষিত মহানগর মহিলা দলের কমিটি নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কমিটি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কমিটিতে ত্যাগী ও রাজপথের নেতারা মূল্যায়িত হননি। এমনকি ওই কমিটি সিলেট মহানগর বিএনপি নেতাদের প্রেসক্রিপশন অনুসারেই তাদের সুপারিশে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তৃণমূল মহিলা দলের কর্মীরা মনে করেন কমিটিতে অয্যেগ্য গৃহবন্দি অনেক নেত্রী রয়েছেন।
মহিলা দলের পক্ষ থেকে জমা দেয়া কমিটি প্রত্যাখান করে বিএনপি নেতাদের সুপারিশকৃত কমিটি গত ৭ ডিসেম্বর মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ অনুমোদন দেন। ১৯৩ সদস্যের সিলেট জেলা ও ৯৩ সদস্যের মহানগর মহিলা দলের কমিটি ঘোষণার পর থেকে মহিলা দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রীদের বাদ দিয়ে বিএনপি নেতারা তাদের পছন্দ ও নিষ্কিয়দের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগর মহিলা দলের বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট ল’ কলেজের সাবেক ভিপি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র রোকসানা বেগম শাহনাজ এবার সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু সভাপতি পদ পাওয়া তো দূরের কথা সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সদস্য পদেও রাখা হয়নি তাকে। অভিযোগ ওঠেছে, এবারের মহানগর কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি জাহানারা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক নিগার সুলতানা ডেইজি রাজনীতির মাঠে ততটা সক্রিয় নন। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক ডেইজি বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতির মাঠে নিরব বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, এবারের কমিটিতে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বিএনপি নেতাদের প্রেসক্রিপশনে যে কমিটি দেয়া হয়েছে, তাতে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
মহানগর মহিলা দলের নেত্রী রোকসানা বেগম শাহনাজ কে বলেন, ‘আমি গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, এবার সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম। সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আমি, ছিলাম ল কলেজের ভিপিও। কিন্তু কোন অশুভ শক্তির কারণে আমাকে এবার সদস্য পদেও রাখা হল না, তা বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে জেনেছি, তারা সিলেট মহানগর বিএনপি নেতাদের দেয়া কমিটিই অনুমোদন করেছেন।’
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘আমাদের দেয়া কমিটিই কেন্দ্রীয় মহিলা দল অনুমোদন করেছে। আমরা ভারসাম্য রেখে কমিটি করেছি, নতুন মুখ এনেছি। কমিটি নিয়ে কোন অসন্তোষ নেই। যারা আগের কমিটিতে মূল দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখার জন্য আমরা সুপারিশ করেছি।’