অর্থমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অর্থমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৭

অর্থমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের

 সাংবাদিকদের নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করায় অর্থমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার দুপুরে এক সমাবেশ এ আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিকরা।

নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও এর বিরুদ্ধে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ডের ঘোষণা না দেন তাহলে ১৬ আগস্ট থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে সাংবাদিকরা।’

একই সমাবেশে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা।

তিনি বলেন, ‘আপনি (অর্থমন্ত্রী) সাংবাদিকদের রাবিশ বলে অপমান করেছেন। আপনার এ দাবি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আপনি যদি আপনার বক্তব্য ১৭ আগস্ট এর মধ্যে প্রত্যাহার না করেন তাহলে আমরাও আপনাকে রাবিশ বলতে বাধ্য হব। আপনি নোয়াব নেতাদের শিখিয়ে দেওয়া কথা বলেছেন। নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা আদায় করে নেব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাদশা বলেন, ‘আপনি সাংবাদিকদের ভালোবাসেন। আপনার প্রতি অনুরোধ অর্থমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে আদেশ দিন, তারা যেন দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘সাংবাদিকদের বেতন শুরু হয় ১২ হাজার টাকা থেকে। আর সরকারি চাকরিতে বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে। আপনি বলেছেন, দেশে এতো পত্রিকা, টেলিভিশনের দরকার নেই! আমরা বলতে চাই, সকল টেলিভিশন, পত্রিকা তো আপনারাই অনুমতি দিয়েছেন। কেন আপনারা অনুমতি দিয়েছেন?’

এ সময় তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মালিকরা পত্রিকার নাম না দেওয়ায় ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে পারছি না। শ্রম আইনে তো এ কথা বলা নাই, যে নাম ছাড়া ওয়েজ বোর্ড গঠন করা যায় না। আপনি জাতির সঙ্গে মিথ্যা কথা বলছেন, প্রতারণা করছেন।’

ওমর ফারুক বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, আমাদের এ কর্মসূচি আপনাদের স্বার্থে, মর্যাদা রক্ষার জন্য, আপনাদের অপমান করেছে তার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার জন্য। তাই আপনারা আমাদের যেকোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তা সফল করবেন।’

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন— ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, বিএফইউজের যুগ্ম সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান মিয়া, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদসহ বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে কর্মরত সাংবাদিকরা।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন-নোয়াব নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড নিয়ে একান্তে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে তথমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবি টোটালি রাবিশ, বোগাস বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার দাবি, সাংবাদিকরা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে বেশি বেতন পান।

অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর সাংবাদিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তারা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান