অর্থমন্ত্রীর কাছে যখন যা চাই, তখন তা পাই, আগামীতেও দেবেন-মেয়র আরিফ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অর্থমন্ত্রীর কাছে যখন যা চাই, তখন তা পাই, আগামীতেও দেবেন-মেয়র আরিফ

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

অর্থমন্ত্রীর কাছে যখন যা চাই, তখন তা পাই, আগামীতেও দেবেন-মেয়র আরিফ

বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন- ‘যখন যা চাই, তখন তা পাই। আগামীতেও দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

শনিবার নগরভবনে গায়েব হওয়া তিনটি গাড়ি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী অর্থমন্ত্রীকে এ ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি সিলেট নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন।

তিনি বলেন- ‘সিলেট নগরবাসী এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। এই নগরের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা পাচ্ছি।’

আরিফ এ সময় স্পষ্ট জানিয়ে দেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী ভবনের ডাম্পিং এলাকা থেকে তিনটি গাড়ি সরানো হয়নি। ওইগুলো ছিল পুরাতন তিন গাড়ির যন্ত্রাংশ। যেগুলোর দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। বিআরটিএ থেকে সব কার্যক্রম শেষ করার পর ওই তিন গাড়ির যন্ত্রাংশকে পরিত্যক্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। পরিষ্কার করার সময় সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই যন্ত্রাংশ আবর্জনার মধ্যে পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এরপরও ওই গাড়ির যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেওয়ার পেছনে কারও কোনো ইন্ধন থাকলে সেটিরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কাজ করছে। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, শনিবার ফুটপাত নিয়েও কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সিলেটের ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি নিজেই এবং তিনি ওই কাগুজে সাক্ষর করে আদালতে জমা দিয়েছেন। যারা ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রেখেছে তাদের নাম ওই তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। এখন আদালত পরবর্তী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, নগরীতে একাধিক গাড়ির স্ট্যান্ড রয়েছে। যেগুলো রাস্তা দখল করে রেখেছে। এতে করে যানজট হয়। সব কিছু শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এজন্য সব মহলকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ফুটপাতের দখলদারদের গডফাদার কারা সেটি সাংবাদিকরাই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। সুতরাং এখানে আমার বলার অবকাশ নেই।

অন্যদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পুরাতন অস্থায়ী কার্যালয় পাঠাগার এলাকায় পৌরসভার আমলে ক্রয় করা তিনটি গাড়ি ছিল। ওই গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। এক সময় সেগুলো পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। সিটি কর্পোরেশন নিয়ম মতো সেগুলো ‘স্ক্রাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো। কিন্তু সরানোর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল না। অভিযোগ উঠেছিল- সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের সহযোগিতায় এক ঠিকাদারের কাছে ওই স্ক্রাপগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। সেটি সিটি কর্পোরেশনের আইনে ছিল না। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রথমে থানায় জিডি করা হলে সিলেটে হৈ-চৈ পড়ে যায়।

এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু কমিটি রিপোর্ট প্রদানের আগেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিষয়টি সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে খোলাসা বক্তব্য রাখলেন এবং সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনটি গাড়ি নয়, তিন গাড়ির অবশিষ্ট যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেগুলো ময়লা ডাম্পিং এলাকায় রয়েছে।