অল্প সময়ে বন্ধুত্ব নয় অন্ধত্ব গড়ে উঠে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অল্প সময়ে বন্ধুত্ব নয় অন্ধত্ব গড়ে উঠে

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

অল্প সময়ে বন্ধুত্ব নয় অন্ধত্ব গড়ে উঠে

সুয়েবুর রহমান

রাত তখন ১২টা বেজে ২০মিনিট।অবসর সময় পাড় হচ্ছিল সামাজিক মাধ্যমের রঙ ঢঙ দেখেই।হঠাৎ একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসলো।আমি কোন কিছু না ভেবেই রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে নিলাম। একটু পরই রিকোয়েস্ট কৃত ঐ একাউন্ট থেকে মেসেজের মাধ্যমে একটি বার্তা আসলো ‘ assallamualikum’। আমি কিছুক্ষণ পরউত্তর পাঠালাম ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম ‘।
এর পর থেকে শুরু হল কথা বার্তা।নাম ঠিকানা আদান-প্রদান। সহ নানা রঙের কথোপকথন। কিন্তু একটা কথা না বললেই নয়।তার কথা বার্তায় ছিল রসিকতা। তাই আমিও আগ্রহ ছিল তার সঙ্গে সময় পাড় করতে।ভালই সময় কাটতো আমার।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আপডেট খবরের সন্ধানে আমি বেশিরভাগ সময় ফেইসবুকে কাটাতাম। মাঝেমধ্যে মেসেঞ্জারে অচেনা সেই মানুষটির সঙ্গে কথা বলে বাকি সময়টা রঙে ঢঙে কাটত।
সামাজিক মাধ্যমে  রঙে ঢঙের এ অপ্ল  সয়য়ের বন্ধন বন্ধুতে পরিণত হলেও ক্ষনিক প্রাণ ছিল এ বন্ধুত্বের।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ বন্ধুত্ব তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।তবে, সে ছিল বেসামাল, উন্মাদ মন মানসিকতা রূপের এক মানব কন্যা ।রঙ ঢঙ চরিত্রের মাহা নাইকা ছিল সে।কাথা বার্তায় ছিল ‘সম্মোহনী’ আবাস।আমার মনে হয় যে ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলবে সেই তার প্রতি আকৃষ্ট হবে। ইচ্ছে জাগবে তাকে দেখবার।
যাই হোক এখন আর হয়না তার সঙ্গে যোগাযোগ।মেসেঞ্জারে নেই তার রঙ ঢঙের সেই আবেগময় এসএমএস।
বন্ধুত্ব যেন এক  নাটাই ঘুড়ির মতন ছিল। প্রচন্ড বাতাসে ঘুড়ি নীল আকাশে উড়ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি এলো ঘুড়ি আকাশে’ই ভিজে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল।
এসব কি বন্ধুত্ব ?  না এসব বন্ধুত্ব হতে পাড়ে না। কিন্তু কেন?  বন্ধুত্ব হলে দুই আত্মার এক অস্তিত্ব। স্বার্থহীন। উদ্দেশ্যহীন।অল্প সময়ে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব নয় অন্ধত্ব গড়ে উঠে।
তাই আমি মনে করি প্রকৃত মনুষ্যত্ব রুপী মানুষ ব্যতিত কারো সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।অপরিচিত কোন ব্যক্তি যদি   সামাজিক মাধ্যমে কারো সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে তাহলে মনে করবেন এটা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত।