অস্ট্রেলিয়া যাননি প্রধান বিচারপতি! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অস্ট্রেলিয়া যাননি প্রধান বিচারপতি!

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৭

অস্ট্রেলিয়া যাননি প্রধান বিচারপতি!

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা রোববার রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়া কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি যাননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ওসি নুর এ আজম এবং ওসি ইমিগ্রেশন আব্দুল জব্বার। তবে কি কারণে তিনি বিদেশ সফরে যাননি তা এখনো জানা যায়নি। এর আগে প্রধান বিচারপতি রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন বলে জানায় সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র। এমন তথ্যে তার বাসভবনের সামনে ভিড় করে সাংবাদিকরা।

তবে রাতে ফোনালাপে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি আমার কাছে কোনো জিও পেপার (গভর্নমেন্ট অর্ডার) জমা দেননি।’
ফলে প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের বাইরে যেতে হলে নিয়ম অনুসারে ওই জিও পেপারে স্বাক্ষর করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সূত্রটি জানিয়েছিল, রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধান বিচারপতি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সেন্টারে গিয়ে ভিসার আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ও তার স্ত্রী সুষমা সিনহা।
এরপর শনিবার প্রধান বিচারপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে তার হেয়ার রোডস্থ বাসায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি।
প্রধান বিচারপতির বড় মেয়ে সূচনা সিনহা দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানেই প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। তার আরেক মেয়ে কানাডায় থাকেন।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এক মাসের ছুটিতে গেলে গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটি চান প্রধান বিচারপতি। ছুটির বিষয়টি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অভিযোগ, বিচারপতিদের অভিশংসন সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করায় প্রধান বিচারপতিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে।