অামাদেরকে বদলাতে হবে —- মোঃ ফয়েজুল হাসান ফারহান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

অামাদেরকে বদলাতে হবে —- মোঃ ফয়েজুল হাসান ফারহান

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

অামাদেরকে বদলাতে হবে —- মোঃ ফয়েজুল হাসান ফারহান

14650041_665172176978623_2082861173595897289_n২৪ অক্টোবর ২০১৬ সোমবার: একটা শিশু যখন বর্ণমালা শিখতে শুরু করে তখন থেকে অামাদের শিক্ষা ব্যবস্থার হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ফাইভ পর্যন্ত সময়কালটা শিশুটির মস্তিষ্ককে সুন্দর একটা গাঠনিক রূপ দেয়ার উপযুক্ত সময়। পড়ালেখার পাশাপাশি এই সময়ে শিশুর চারিত্রিক গঠন, ধর্মীয় শিক্ষা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক দিক, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রিলেটেড জ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান সহ অারো বিভিন্ন গঠনমূলক দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘চার বছর বয়সী আইনস্টাইন’ অামেরিকার সুবর্ণ অাইজ্যাক বারী,যাকে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর কল্যাণের জন্য নিজ হাতে প্রতিভা দান করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সে পৃথিবীর বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। এবং সেটাই হবে ইনশাঅাল্লাহ, সে অামাদের গর্ব। সুবর্ণের সেই প্রতিভাকে মাত্র চার বছর সময়ের মধ্যে বাইরে নিয়ে এসেছে তার পরিবেশ,যেখানে তার পরিবারের পরিচর্যার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরাই শিক্ষা অর্জন করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া কিংবা ভালো চাকুরী লাভের অাশায়। অর্থাৎ সবটাই প্রফেশনাল।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মনুষ্যত্ব অর্জন। শুদ্ধ বাংলায় যাকে অামরা বলি মানুষের মতো মানুষ হওয়া। কিন্তু সত্যিই কি অামরা মানুষ? বর্তমান চিত্র তার ঠিক উল্টো। এখন দেখা যায় সকল দুর্নীতি, সকল অাকাজ এই শিক্ষিত মার্কা লোকেরাই করে। অশিক্ষিতরা কিভাবে করবে? তাদের মধ্যে তো অক্ষর জ্ঞান নেই। মানুষের একটা স্বপ্ন থাকতেই পারে। তাই বলে সেই স্বপ্নের তাড়নায় একজন মানুষ জীবসত্ত্বা অার মানবসত্ত্বার মধ্যকার পার্থক্য ভুলে যাবে, এটাতো হতে পারে না।
শিক্ষা শুধু বই থেকে নয়, বরং প্রকৃতি,জীব থেকেও শিক্ষা অর্জন করা যায়। শিক্ষা মানে শেখা। ভালো কিছু শেখা, যা অাপনাকে মানুষ হতে সাহায্য করবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে শুধুমাত্র কি তারাই প্রতিভাবান যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিজ্ঞানী? মোটেও না। অামার হিসেবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো বিষয়ে প্রতিভা লুকায়িত থাকে। অার তারাই প্রকৃতপক্ষে সফল হয়, যারা সেই সুপ্ত প্রতিভাকে খুঁজে বের করে তার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে। ট্যালেন্ট জিনিসটা শুধুমাত্র পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অাসল বিষয় হচ্ছে কার মধ্যে কি ট্যালেন্ট অাছে সেটা খুঁজে বের করা। কিন্তু সেখানেই অামরা ধরা খেয়ে যাই। অামাদের দেশে কে কোন বিষয়ে পারদর্শী সেটা দেখা হয় না। জোর করে শিক্ষার্থীকে যেকোনো একটা ভালো পেশার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। এতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই বিফল হয় এবং তাদের মূল প্রতিভা লুকায়িত থাকে। অার যদি তারা অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমের সফল হয় তবুও দেখা যায় সেই প্রভাবটা তার মানসিক অবস্থার পাশাপাশি অায়ুর উপরও পড়ে। অনেক মানুষ অনেকভাবে প্রতিভাবান। কেউ ভালো ডিজাইন করে, কেউ ভালো ছবি তুলে, কেউ ভালো গান গায়, কেউ ভালো পরিকল্পনা করে, কেউ ভালো নেতৃত্ব দেয়, কেউ ভালো কবিতা লিখে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা তাদের ওই প্রতিভাটাকে কাজে লাগাতে পারে না। কারণ অামার সিস্টেম তাদের মধ্যে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়।
এক্ষেত্রে অারেকটা বিষয় কাজ করে, সেটা হচ্ছে শ্রমের বৈষম্য। অামাদের দেশে বিভিন্ন পেশাকে ছোট-বড় অাকারে দেখা হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে সকল পেশাকে সম মর্যাদা দেয়া হয়। অামাদের প্রবলেমটা হচ্ছে অামরা প্রতিটা প্রতিভার সমান মর্যাদা দিতে পারি না। একজন নাপিত যে কাজটা করতে পারবে, একজন ডাক্তার কি সেই কাজটা করতে পারবে? একজন গায়ক বা ডিজাইনার যে কাজ করতে পারবে, একজন রাজনীতিবিদ কি ওই কাজটা এর চেয়ে ভালো করতে পারবে? এখন যদি অামি বলি নাপিত অার ডাক্তারকে সমমর্যাদা দেয়ার জন্য তাহলে মানুষ অামাকে পাগল বলবে। অার এটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অার এই পরিবেশটা অামরাই সৃষ্টি করেছি। যে কারণে ওরা এগিয়ে, অার অামরা পিছিয়ে।
বাদ দিলাম সেটা, যার যেটা করতে ভালো লাগে অন্তত তাকে সেটা করতে দেয়া উচিত। শচীন টেন্ডুলকারকে যদি কেউ গান গাইতে বলে তাহলে কেমন হবে? শাকিব খানকে যদি কেউ সাকিব অাল হাসানের জায়গা নিতে বলে, তাহলে সেটা কেমন লাগবে?
সিঙ্গাপুরের একজন স্কুল প্রিন্সিপালের লেটার পড়েছিলাম, যা অামি বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করেছিলাম। ভালো লেগেছিল উনার কথাগুলো পড়ে। তিনি বলেছিলেন, যে ভালো গান গাইতে পারে তার ম্যাথটা কোন কাজে লাগবে? যে ভালো ডিজাইন করতে পারে তার কেমিস্ট্রিতে ভালো রেজাল্ট করা কি বাধ্যতামূলক? তবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তার মানে এই না যে এর জন্য অামাকে একেবারে জীবন দিয়ে দিতে হবে। তাদের এই চিন্তাটাই অামাদের থেকে তাদের শিক্ষাব্যবস্থাটাকে অালাদা করেছে এবং তারাই উন্নত।
অামি যখন জনাব রাশিদুল বারী স্যারকে ( সুবর্ণ অাইজ্যাক বারীর গর্বিত পিতা) অাইজ্যাককে নিয়ে লিখতে দেখি, তখন অামার মধ্যে অালাদা একটা অনুপ্রেরণা কাজ করে। অামার মনে প্রশ্ন জাগে, অামরা কি বাংলাদেশে অারেকটা অাইজ্যাক বারী তৈরি করতে পারি না? নাকি অামাদের দেশে কোনো প্রতিভাই নেই। অবশ্যই অাছে। তবে কেন অামরা এতো পিছিয়ে? কারণ অামরা অামাদের সিস্টেমের কাছে পরাজিত। অামরা মেধাসন্ধানী না। অামাদের সিস্টেম ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার পরীক্ষা নেয় না। অামাদের দেশে এখনো শিক্ষাকে গলাধঃকরণ করানো হয়। অামাদের সিস্টেম ছাত্র-ছাত্রীদের মেমোরির পরীক্ষা নেয়। অামাদের দেশে শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা মানে এভারেস্ট জয় করা। সবকিছু মিলিয়ে অামাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা সার্টিফিকেট নির্ভর। যদিও সরকার প্রতিভার বিকাশের জন্য অামাদেরকে সৃজনশীল নামক একটা হাতিয়ার দিয়েছে, কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ কতখানি হচ্ছে সেদিকে কি কারো খেয়াল অাছে? সত্য কথা হচ্ছে ভালো কিছুকে অনুসরণ করতে অামাদের কষ্ট হয়, অার পাশ্চাত্য সংস্কৃতির টানে খারাপটাই অামাদের কাছে ভালো মনে হয়। যাহোক, অামার মতো স্বল্পজ্ঞানী মানুষের এসব জাতীয় ব্যপারে কথা না বলাটাই উত্তম। অার এই মুহূর্তে অামি যেটা বললাম, সেটাই হচ্ছে অামাদের সুশীল সমাজের বর্তমান চিন্তাভাবনা।

মূল অালোচনায় অাসা যাক। বাংলাদেশে প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলের সংখ্যা অনেক। অামার দেখা এক ছোট্ট শিশু এরকম একটা স্কুলে ক্লাস টু তে পড়ে। কিন্তু ওকে বাসায় জোর করে পড়াতে হয়। পড়াশোনার জন্য ওকে ফোর্স করতে হয়। কেন? একটা শিশুকে কেন অামি ফোর্স করবো? অামার কাজটা হবে পড়াশোনার প্রতি ওর অাগ্রহ সৃষ্টি করা। ও নিজেই জানতে চাইবে, শিশুটি নিজেই একটা নতুন জিনিস শিখতে চাইবে। অামার কাজ হবে জাস্ট তাকে সঠিকভাবে গাইড করা। একটা শিশু খেলাধুলা করবে, খেলার মাধ্যমে সে জ্ঞানটাকে অায়ত্ত্ব করবে। পৃথিবীতে দুটো জিনিস দান করলে বৃদ্ধি পায়, ১. জ্ঞান এবং ২. ভালোবাসা। অামি তাকে দুটোই দেব, যা তার ব্যক্তিত্বের বিকাশে কাজে লাগবে। একটা শিশু নিজে থেকেই প্রশ্ন করবে, মাঝে মাঝে এমন অদ্ভূত প্রশ্ন করবে যার উত্তর অামারও জানা থাকবে না। শুধু বই থেকে একটা শিশু কি শিখবে? তার জানার ৮০% ই তো হবে তার বইয়ের বাইরে। অার তার মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ ঘটানোর জন্য ওই ৮০% ই বেশি কাজে লাগবে। অারেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অামাদের দেশে শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার, এখানে সবাই পরীক্ষার্থী। যেটা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যে পৌছাতে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। অামাদের অভিবাবকদের চিন্তাধারাটাও এরকম। জন্মের অাগেই ঠিক হয়ে যায় শিশুটি বড় হয়ে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবে। প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলের কথা বলছিলাম। বইয়ে মোট ৫০০ টা প্রশ্ন অাছে। ওখান থেকে বার্ষিক পরীক্ষার জন্য ৫০ টা প্রশ্ন মার্ক করে দেয়া হয়। এগুলো ক্লাসে পড়ানো হয়, বাসায়ও পড়ানো হয়, অার এগুলো থেকেই পরীক্ষায় প্রশ্ন অাসে। অভিবাবকদের মধ্যে শুরু হয় প্রতিযেগিতা। মারাত্মক প্রতিযোগিতা, সবাই ৯৫-১০০% মারকস পায়। এখন কে প্রথম, অার কে দ্বিতীয় হবে? শুরু হয় লটারি, লটারি জেতার পর অানন্দের শেষ নেই। অামার সন্তান প্রথম হয়েছে, অামার সন্তান দ্বিতীয় হয়েছে, অারো কতো কি? কিন্তু অামরা জানিনা, অামরা এই নিষ্পাপ শিশুদের কত বড় ক্ষতি করছি। প্রারম্ভিক অবস্থাতেই অামরা তার জ্ঞানটাকে একটা গন্ডির ভেতরে রেখে দিচ্ছি। পড়াশোনার এই প্রেসারটা তার মস্তিষ্কের উপর কতখানি নেগেটিভ প্রভাব ফেলে সেই সম্পর্কে অামাদের কোনো ধারণাই নেই। হয়তো দুই একজন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হবে, কিন্তু মস্তিষ্কের উপর পড়া এই ভারটা তাকে অাজীবন বহন করতে হবে। এরকম মানসিক চাপ একটি শিশুকে দেয়া হলে তার সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা তো দূরের কথা, শিশুটির স্বাভাবিক প্রতিভারও সঠিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না। কয়েক দিন অাগে ওই প্রাইভেট স্কুলের হেড টিচারের সাথে কথা হচ্ছিলো। ভদ্রমহিলাকে বিষয়টি বলার পর তিনি বললেন, অনেক জায়গা থেকে ভালো টিচাররা উনার স্কুলে অাসেন। কিন্তু স্কুলের ফাউন্ডার কমিটিতে যারা অাছেন, তাদের জন্য ভালো টিচাররা টিকতে পারেন না। উনাদের নির্দেশ হচ্ছে যেকোনভাবে যেন উনাদের স্কুল টপ রেজাল্ট করে। বিজনেস, ছোট্ট শিশুদের জীবন নিয়ে এরা বিজনেস করে। অার এদের জন্যই অাজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছে। অার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ নয়, ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা হচ্ছে। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব অর্জন, এটা এদের অনেক টিচাররাই জানেন না। সার্টিফিকেট বিদ্যার উপর ভর করে ছাত্রসমাজ দিন দিন ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। ঐ স্কুলে নতুন শিক্ষিকা এসে যখন ক্লাস অাওয়ারে বাচ্চাদেরকে মাঠে নিয়ে ছন্দের তালে তালে অঙ্ক শেখাচ্ছিলেন, যখন অারেকজন টিচার বাচ্চাদেরকে সংগীত শেখাচ্ছিলেন তখন সেটা স্কুলের ফাউন্ডার কমিটির পছন্দ হয় নি। উনাদের কথা হচ্ছে অাপনি বাচ্চাদেরকে বইয়ের পড়া পড়াবেন, বইয়ের পড়াই এরা ঠিকমতো পড়তে পারে না। এসব পড়ানোর দরকার কি যেটা পরীক্ষায় অাসবে না? অামার ভাবতেও অবাক লাগে এসব লোকদের স্কুল বানানের অনুমতি সরকার কিভাবে দিল? টাকার জোরে না পলিটিকাল পাওয়ারের জোরে? স্কুলের নামটা অার বললাম না। কারণ এরকম স্কুল বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় ই অাছে । শুধু বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নয়, সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে এখন বাচ্চারা উপযুক্ত শিক্ষা পাচ্ছে না। অার অভিবাবকরাও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে সন্তানদের উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলতে ব্যর্থ হচ্ছেন। অার এই পরিবেশে থেকে অামরা অাইজ্যাক বারী গড়ার স্বপ্ন কিভাবে দেখবো? অামাদের শিক্ষার স্কেল এখন দুইটা ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একটা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অারেকটা খারাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে পড়বে সে মেধাবী, অার বাকিরা মেধাহীন। কিন্তু অামরা ভুলে যাই, ওই খারাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই একজন শিক্ষার্থীর মেধা ভালো প্রতিষ্ঠানের সকল মেধাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ একটি কাগজের পাতা একজন মানুষের মেধা যাচাই করার জন্য যথেষ্ট না। শিক্ষা ব্যবসা বন্ধ করা উচিত, যা স্কুল থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত শিক্ষার অালো মানুষের দরজায় পৌছে দেয়া উচিত, যা সরকারের একার পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব। সবার অাগে প্রয়োজন হবে শিক্ষা সম্পর্কিত অামাদের ভ্রান্ত মানসিকতাটাকে পরিবর্তন করা। মানুষের মেধার অনুসন্ধান করা এবং সেটাকে মূল্যায়ন করা। শিশুদেরকে একটা সুন্দর পরিবেশে সঠিক মানসিক পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা। অামাদেরকে বদলাতে হবে। নাহোক সেটি অামাদের জন্য, অামাদেরকে বদলাতে হবে অামাদের অাগামীর জন্যে । অাইজ্যাকের মতো বাংলাদেশী মেধাবী অস্ত্র অামাদের দেশেও তৈরি করা সম্ভব, সেটা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে । তাহলে হয়তো অামরা একদিন প্রকৃত অালোর দেখা পাবো।