আওয়ামীলীগের কাউন্সিল: কারা আসছেন সিলেটের নেতৃত্বে ? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আওয়ামীলীগের কাউন্সিল: কারা আসছেন সিলেটের নেতৃত্বে ?

প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৬

আওয়ামীলীগের কাউন্সিল: কারা আসছেন সিলেটের নেতৃত্বে ?

sylhet-awqaaaaa-01শামীম আহমেদ, ১৫ অক্টোবর ২০১৬, শনিবার: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর। আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে আওয়ামী লীগে এখন পদপ্রত্যাশীরা বেসামাল। রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে নব্য হাইব্রীড নেতাদের মাঝে। শুরু হয়েছে তদবির, লবিং ও গ্র“পিং। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে সর্বাত্মকভাবে। গত কয়েক দিন দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত মঞ্চ সাজসজ্জা এবং স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপকমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে একের পর এক প্রস্তুতি সভা। এমনকি ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সিলেটের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেন। সভাটি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিছবাহ উদ্দিন সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট থেকে কারা আসছেন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ? পুরনোরাই নতুন করে, না নতুনরাই আসছেন মডার্ন হয়ে। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের ১৯ তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ২০তম জাতীয় কাউন্সিল।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় বিএপিতে সিলেটের প্রায় ২ ডজন নেতাকর্মী স্থান পান।
আওয়ামীলীগের ২০তম কাউন্সিলের সিলেট থেকে কতজন নেতাকর্মীকে কেন্দ্রীয় সম্মান দেওয়া হবে সিলেটবাসী এটা দেখার অপেক্ষায় ।
আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দৌড়ঝাঁপ বাড়ছে নেতা-কর্মীদের। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং জেলা নেতারাই নন বরং সহযোগী, অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অনেক নেতাও কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে লবিং-তদবির করছেন। পিছিয়ে নেই সাবেক আমলা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী কিংবা প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও।
বিশেষ করে সিলেটে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বেশ কয়েকজন নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের ছবি পোস্ট করে নিজেদের জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি গণভবনে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা আওয়ামী লীগের দুর্দিনে পাশে ছিলেন না তারাও এখন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশা করছেন। যে কোনো প্রোগ্রামের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হচ্ছেন। বিগত দিনে নিজেদের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি নিয়ে হাজির হচ্ছেন নেতাদের দ্বারে দ্বারে। কেউবা আবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেরও ‘সাহায্য’ নিচ্ছেন। নিজের ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণাদি পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ২০১৩ সালে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল তখন তারা অনেকেই বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন। দেখা যায় তারাই এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় নেতা।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের তিন জন নেতা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। এছাড়া সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন সহ-সম্পাদকের দায়িত্ত্ব পালন করছেন।

এবার জাতীয় কাউন্সিলে নতুন কমিটিতে স্থান করে নিতে সিলেট নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির, সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর নিভর করছে কারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন। বিভিন্ন কারনে কেন্দ্রীয় নেতা নানা কারণে বিতর্কিত হওয়ায় সিলেট থেকে নতুন মুখ নেয়া হবে সিলেট বিভাগে দলীয় নেতা কর্মীদের ভাবনা। গত পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে নৌকার মাঝিদের ভরাডুবির জন্য কেন্দ্রীয় জনৈক নেতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
সিলেট বিভাগে আওয়ামীলীগের বর্তমানে একক নেতা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গ্র“পিং কোন্দল তার একেবারে না পছন্দ। ফলে সিলেট বিভাগে আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল নেই। স্থানীয় ভাবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে মত বিরোধ রয়েছে তবে তা স্বাভাবিক। অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই, জাতি সংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে মোমেন বর্তমানে সিলেটে আওয়ামীলীগের রাজনীতি দেখ ভাল করছেন। তিনি এবার জাতীয় কাউন্সিলে ভাল অবস্থান পেরেন আশা করা হচ্ছে।

দলের একাধিক সূত্র মতে জাতি সংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.একে মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনা সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মন্নানের মধ্যে যে কেউ দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হতে পারেন। কেন্দীয় আওয়ামীলীগে স্থান পেতে পারেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাকসু’র ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। নগর আওয়ামীলীগের আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র আওয়ামীলীগের সহ সম্পাদক আজিজুস সামাদ ডন, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মোমেন দলের গুরুত্ত্বপুর্ন পদ পেতে পারেন।