আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন আরিফ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন আরিফ!

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন আরিফ!

রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের বিষয় ব্যক্তিগত : লোদী
আওয়ামীলীগের যোগদান করলে ভালো : আজাদ

মো. নুরুল ইসলাম
আরিফুল হক চৌধুরী। ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মো. শফিকুল হক চৌধুরী এবং মা আমিনা খাতুন। আরিফুল হক বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সদস্য হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি সিটি কর্পোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।
তবে এবার শহরজুড়ে আলোচনা-সমোলচনায় মেয়র আরিফ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটবাসীর আমন্ত্রনে ‘শ্রীভূমি’ সিলেটে এসেছিলেন ১৯১৯ সালের নভেম্বরে। ২০১৯ সালে এর শতবর্ষপূর্তি হচ্ছে। সিলেটবাসীর জন্য এই দিনটি অত্যন্ত স্মৃতিময়। আর সেই স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তাই সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। আর এই আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যে আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির আহবায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সদস্য সচিব বিএনপি নেতা মেয়র আরিফ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আয়োজক কমিটির সদস্যদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বাদ দেওয়ার দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচি।
আগামী ৫ নভেম্বর ক্বিনব্রিজ চত্বরে এবং ৭ ও ৮ নভেম্বর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হবে অনুষ্ঠানের মূলপর্ব। এছাড়া ১ নভেম্বর থেকে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে হবে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তবে এই আয়োজনের সদস্য সচিব মেয়র আরিফকে নিয়ে রয়েছে চরম বিতর্ক। অনেকে বলছেন, প্রভাবশালী এই বিএনপি নেতা বাংলাদেশের অর্থনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মরহুম শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি এবং সুনামগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবীদ প্রয়াত বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের উপর গ্রেনড হামলা মামলার আসামি। তবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আগ্রহ, উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখে ভাবিয়ে তুলেছে দুই শিবিরের রাজনীতিবীদদের। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা ভাবছেন নানা ভাবনা। এই দিন সিলেটের রাজনীতিতে নতুন ধারা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেনÑএমন আবাস পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেটের উন্নয়নের সাথে মিশে আছে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নাম ও অনন্য অবদান। যা সমগ্র সিলেটবাসী আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। আর সেই উন্নয়নের কারণে ‘উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে মরহুম এম সাইফুর রহমানকে আখ্যায়িত করা হয়। তৎকালীন সময়ে সিলেটের মেয়র ছিলেন বতর্মান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনত্যম সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। কিন্তু সেই সময় অঘোষিত মেয়র ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
একজন সিটি কাউন্সিলর হয়ে মেয়র আরিফ মরহুম এম সাইফুর রহমানের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থের পাহাড় করেছেন। তৎকালীন সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সুবাদে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেছেন। নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরিফ প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ কামরানকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে স্বঘোষিত মেয়র হিসেবে সিটি কর্পোরেশনকে নিজের ইচ্ছেমত ব্যবহার করেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আরিফুল হক চৌধুরী অনেক ভাগ্যবান-তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তূণমূল বিএনপি নেতারা মনে করছেন, নগরীর উন্নয়ন ও বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মেয়র আরিফ বিএনপি ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন। এমনটা আমরা ধারণা করছি। যেহেতু বিএনপি দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, সেহেতু এ ধরণের ক্ষমতাসীন ব্যাক্তি বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা খুঁজতে পারেন-তাতে অবাক হওয়ার কোনো বিষয় নয়।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, মেয়র সাহেব আধা সরকারী ও আধা বেসরকারী। তিনি কখন কি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না। আর রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
এ বিষয়ে ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ আয়োজক কমিটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই আয়োজন বিএনপি নেতার। আরিফের আওয়ামী লীগের যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি (আরিফ) সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছেন। তিনি (আরিফ) আওয়ামীলীগের যোগদান করলে ভালো

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল