আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক: মির্জা আলমগীর

প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক: মির্জা আলমগীর

1-4-1-696x364২৪ অক্টোবর ২০১৬ সোমবার: জাতীয় কাউন্সিলে দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আফসার সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপি নেতারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাউন্সিলের শেষ সেশনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যে কথাগুলো বলেছেন, তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক কথা। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। এর সঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন, আগামীবার আওয়ামী লীগকে অবশ্যই ক্ষমতায় আসতেই হবে যে কোনো মূল্যে। এ কথাগুলো থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে তাদের লক্ষ্য কী এবং তারা কী করতে চান।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিদেশি মেহমানরা ছিলেন, তাদের সামনে খুব বড় গলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতায় বলেছেন, তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, তারাই গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে চায়।’

আওয়ামী লীগ সরকার অনৈতিকভাবে দেশ শাসন করছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা গণতন্ত্রের সব স্তম্ভ ভেঙ্গে দিয়েছে। ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার, লেখার, সমবেত হওয়ার, প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এমন একটি সরকার যারা একটি কর্তৃত্বপরায়ণ সরকার প্রতি মুহূর্তে মিথ্যাচার করে জনগণের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের অপকৌশলের আশ্রয় নেয়।’

5

তিনি বলেন, ১৯৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ক্ষমতায় এসে ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাদের দু:শাসনের কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। সে কথাটা আমরা অনেকে ভুলে গেছি। তখন তারা সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।

তিনি বলেন, আজকে যুগ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে, বিভিন্ন ব্যাখ্যাও পাল্টেছে, এখন গণতন্ত্রের ব্যাখ্যাও পাল্টে গেছে। সেই জায়গায় আসছে উন্নয়ন না গণতন্ত্র। তারা বলছে, উন্নয়ন আগে, পরে গণতন্ত্র।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আরেকটি কথা আসছে, ইফেক্টিভ গভর্নমেন্ট। অর্থাৎ, যারা অত্যাচার-নির্যাতন করে, দমননীতি চালিয়ে বিরোধীদলকে নিশ্চুপ করে রাখতে পারে, সে সরকার হচ্ছে ইফেক্টিভ গভর্নমেন্ট। এর মধ্যে দিয়ে তারা বাংলাদেশের জনগণের রক্ত দিয়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হরণ করছে। এখন তারা স্বপ্ন দেখছে ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। সে স্বপ্ন দেখতে তারা দেখতে শুরু করেছে।’

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনার আগামী নির্বাচনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন এমটা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রস্তুতির দরকার কি? আপনারা তো গতবার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় চলে এসেছন এসেছেন বিনা ভোটে। ভোটের বা দরকার কি? ঘোষণা করে দিলেই হয়, আমরা আবার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় চলে গেলাম। তাহলে তো এ নাটকের তো প্রয়োজন নেই।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নের সহযোগী’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এদের তো বিচার হওয়ার উচিত। সময় যদি আসে তাহলে অবশ্যই এদের বিচার হবে। আমরা নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন চাই। অন্যথায় সাজানো নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নিবে না।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অতীতে সার্চ কমিটির নামে এমন লোক খুঁজে বের করা হয়েছে যাদের সত্যিকারের অর্থে কোনো মেরুদণ্ড নেই। যারা আইনের ভেতর চলতে পারে না। বরং ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছায় কাজ করেছে। আবারো এধরনের ব্যত্যয় ঘটলে তা মেনে নেয়া হবে না। প্রতিবাদ করা হবে।’

আলোচনা সভায় আফসার আহমদ সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারা।

আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক সেলিম ভূইয়া, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল