আঘাত ছিলো কনুইয়ে, ওসমানীতে এক্সরে হলো আঙ্গুলে

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৯

আঘাত ছিলো কনুইয়ে, ওসমানীতে এক্সরে হলো আঙ্গুলে

মো.নাঈমুল ইসলাম :: নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য একমাত্র আশ্রয়স্থল হলো সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল (সিওমেক)। নিম্নবিত্ত মানুষের ঘনঘটা যেন সবচেয়ে বেশিই অবলোকন হয় ওই হাসপাতালে। কিন্তু নেই ভোগান্তির শেষ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত বুধবার (৩ জুলাই) ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ফরম পূরণের কার্যক্রমের মধ্যেই তিনজন মানুষকে আহতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়। ভোগান্তির শিকার অনেকেরেই দাবি, দক্ষ ডাক্তার না দিয়ে হাতুড়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে ফরম পূরণ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি বিভাগ। যার ফলে ভুল চিকিৎসায় বিব্রত হচ্ছেন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। এমনই ভুল চিকিৎসার শিকার হন সিলেটের আলোচিত একজন ফটো সাংবাদিক।

গত বুধবার (৩ জুলাই) সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামনে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক সিলেটের দিনকাল’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক নুরুল হাতের কনুই এবং কোমরের মধ্যে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে প্রাথমিক অবস্থায় সিওমেকের শরণাপন্ন হন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে হয়।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সাংবাদিক নুরুল ইসলাম সিলেটের দিনকালকে জানান, আমাকে আহতাবস্থায় আমার সাংবাদিক সহকর্মীরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তখন আনুমানিক ঘড়ির কাটায় দুপুর ১টা ছিলো। বিকেল ৪টা অতিবাহিত হয় ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ফরম পূরণের মধ্য দিয়ে, কিন্তু আমার হাতের কনুই এবং কোমরে প্রচন্ড ফ্র্যাকচার হলেও সেখানে কোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা আমি পাইনি। অতপর একজন নার্স এসে আমার হাতে একটি সিøপ ধরিয়ে দিলেন যেখানে লিখা ছিল হাতের কনুই এবং কোমর এক্স-রে করাতে হবে। আমার সহকর্মীরা নিয়ে গেলেন এক্স-রে রুমে। ওই রুমে যাওয়ার পর যখন আমার এক্স-রে শুরু হলো প্রথমে কোমরেরটা ভালোভাবে করলেও পরবর্তীতে যখন হাতের এক্স-রে করা হলো তখন মোট ৪টি ফিল্ম নষ্ট করলো ওই এক্স-রে রুমে দায়িত্বে থাকা দুই তরুণ যুবক। কিন্তু এক্স-রে রিপোর্ট দেখে আমি ও আমার সহকর্মীরা হতভম্ব হয়ে যাই। এক্স-রে হলো আমার হাতের কনুই কিন্তু ফিল্মের মধ্যে আসলো হাতের আঙ্গুল। তিনি আরো বলেন, আমাদের বেলা যদি এই হয় অবস্থা হয় তাহলে সাধারণ মানুষদের কি হবে। বিশেষ করে যারা নিম্নবিত্ত তারা কার দারস্থ হবে। অদক্ষ হাতুড়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালনা হলে এরকম ভুল ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায়না। আমি জোর দাবি জানাই, দক্ষ ডাক্তারদের পাশাপাশি ইন্টার্ন চিকিৎসক যাদের করা হবে তারাও যেন দক্ষ হয় তাহলে সাধারণ মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হবেনা।

জনসাধারণের এসব ভোগান্তি ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.ইউনুছুর রহমানের সাথে ফোনে আলাপকালে সিলেটের দিনকালকে জানান, আপনারা যে অভিযোগ করছেন এরকম হওয়ার কথা নয়। এরকম ভুলের পিছনে যেসব ডাক্তার বা নার্স দায়ী রয়েছেন আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। আর ভালো হয়েছে আমাকে ফোন দিয়ে অভিযোগ করেছেন। আমি চাই যারা কোনো ত্রুটি দেখবে আমাকে ফোন দিয়ে অভিযোগ করবে। তাহলে আমি সাথে সাথে সেটির বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পারবো। আমাদের উদ্দেশ্য হলো উত্তম সেবা দেওয়া। এরকম হওয়ার কথা নয় কারণ আমি রোগীদের সাথে কথা বলি ১০০ জনের মধ্যে ৯০জনই চিকিৎসা নিতে পেরে খুশি। আপনি আমার সাথে ঘুরে ঘুরে দেখবেন বেশিরভাগই সন্তুষ্ট। কিন্তু এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে সেটি তো আমরা আর ফিরিয়ে আনতে পারবনা। ভবিষ্যতে যাতে আমরা ভালো করতে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এরকম অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রোগীকে প্রাথমিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর যারা ফরম পূরণের দায়িত্বে রয়েছেন ফরম পূরণেও অনেক ভুল করতে দেখা যায় তাদেরকে। বাবার নামের জায়গায় ছেলের নাম অথবা ছেলের জায়গায় বাবার। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান জনসাধারণ।

সিডি/এসআর/৯ জুলাই ১৯/এমএনআই-১

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল