আজ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আজ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৬

আজ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃটিশ-ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ‘মজলুম জননেতা’ খ্যাত বরেণ্য এই রাজনীতিক ১৯৭৮ সালের ১৭ নবেম্বর ছিয়ানব্বই বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন।

তিনি একাধারে ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থপতি। এই অবিসংবাদিত নেতার মৃত্যুদিনে তার স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

এদিকে, এ উপলক্ষ্যে আমৃত্যু গণতন্ত্রের লড়াকু ও গণমানুষের স্বার্থরক্ষাকারী রাজনীতিবিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ বাণী দিয়েছেন।

ঐতিহাসিকদের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ বলছে, মওলানা ভাসানী ছিলেন দেশের সংগ্রাম ও সংকটে বিশাল সহায়। কখনোই কোনো পদমর্যাদা, লোভ-লালসা এবং মোহ তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। সরল-সহজ জীবনযাপন করেছেন তিনি, একই সঙ্গে সরল প্রাণের কৃষক-মজুর তার প্রিয় ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশেও যখন গণতন্ত্রের নামে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছিল একের পর এক, যখন কেড়ে নেয়া হচ্ছিল বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা, তখনও সিংহের মতো গর্জে উঠেছেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। আদর্শ থেকে কখনও তিনি বিচ্যুত হননি। তিনি লড়াই করেছেন সব কালাকানুনেরও বিরুদ্ধে।

তার ওপর বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থ ও ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ অনুযায়ী, মওলানা ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন হাজী শরাফত আলী খান। স্থানীয় স্কুল ও মাদরাসায় কয়েক বছর অধ্যয়ন ছাড়া তার বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তার জীবন ছিল গ্রামভিত্তিক, মতবাদ উগ্র এবং ঔপনিবেশিক রীতিনীতির প্রতি আস্থাহীন। সারা রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন এবং বেশ কিছু সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন; তবে কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেননি। তার নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন।

কর্মসূচি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গৃহিত দুদিনের কর্মসূচির শেষ দিন আজ সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে দলটির একটি প্রতিনিধি দল টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। প্রতিনিধি দল সকাল সাড়ে ৯টায় চেয়ারপারসন ও দলের পক্ষ থেকে মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে। মাজার প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা, দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে এবং তবারক বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ (ন্যাপ বাংলাদেশ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি থাকবেন যথাক্রমে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএজডি) এর সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব এবং বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহার। এ ছাড়া ন্যাপ বাংলাদেশ মওলানা ভাসানীর ওপর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে স্মৃতিচারণমূলক লেখা/প্রবন্ধ আহ্বান করেছে- যা সংকলন আকারে প্রকাশ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল