আতংকের নগরী সিলেট নিরাপত্তার চাদরে ডাকা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আতংকের নগরী সিলেট নিরাপত্তার চাদরে ডাকা

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৬

আতংকের নগরী সিলেট নিরাপত্তার চাদরে ডাকা

fileগোটা সিলেটে গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শাহজালাল (রহ.) মাজার, সরকারি স্থাপনা, আদালতপাড়াসহ সব এলাকায়ই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সক্রিয় রাখা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে সিসি ক্যামেরা।
সিলেটে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে। এর কারণ, ২০০৫ সালে এই মাজারেই ওরসে একদফা ও পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছিল। এ কারণে এবার ঈদের দিন থেকে দরগাহ মসজিদ ও মাজারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা দরগাহ এলাকাই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ভেতরে আগত ভক্ত ও মুসল্লিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। একইভাবে আলিয়া মাদরাসা অংশে ও ঝর্ণারপাড় অংশেও তল্লাশি করা হয়। গত শুক্রবার জুমার দিনে মুসল্লিদের ঢল নামে দরগাহে। কিন্তু ওই দিন দরগাহ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তল্লাশির আয়োজন করা হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করেন। ভারি ব্যাগ নিয়ে যারাই ঢুকছেন তারাই পড়ছেন তল্লাশির মুখে। সন্দেহভাজন দেখলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
দরগাহ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ছাড়াও মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন থেকে আরো অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয় এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছেন, দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টায়ই পুলিশ মোতায়েন থাকছে দরগাহে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা নজরদারি করছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পক্ষ থেকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে পুরো দরগাহ এলাকা। সিলেট মহানগর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা প্রতিদিন একবার দরগাহ এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করে আসেন।
অপরদিকে, সিলেটের আদালতপাড়ার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালত চত্বরে প্রবেশের প্রধান দুইটি ফটক ছাড়া বাকি সব ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আদালতের এজলাসে ওঠার আগে সংশ্লিষ্টদের তল্লাশি করা হচ্ছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মেটাল ডিটেক্টর। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ট্র্যাজেডি এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর দেশের সব আদালতের নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি সিলেটের আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, মাজারের পাশাপাশি আদালত পাড়ায় আগের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা এবং তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা এবং পোশাকদারি পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে তল্লাশি করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল