আদালতে ফারহানার অভিযোগ : ‘দেবরকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আদালতে ফারহানার অভিযোগ : ‘দেবরকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে’

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৮

আদালতে ফারহানার অভিযোগ : ‘দেবরকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে’

এম. শামীম আহমেদ: সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের গুলিতে হাবিবুর রহমান নিহতের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাবি ফারজানা আক্তার গত ২৬ ডিসেম্বর সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে এ মামলা (নং- সিআর ৩৭১/১৭) করেন। মামলায় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আহাদ সহ ৫ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হচ্ছেন কানাইঘাট থানার এস আই আবু কাওছার, এসআই বশির আহমদ, কনস্টেবল পারভেজ মিয়া, কনস্টেবল রাজ্জাক নুর। আদালত মামলা গ্রহণপূর্বক তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন। এঘটনায় নিহতের ভাই ফয়জুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতাবস্থায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় পুলিশ। গত ২১ ডিসেম্বর রাতে কানাইঘাট থানার চরিপাড়া গ্রামের ফয়জুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় ফারজানা আক্তার জানান, কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের নির্দেশে থানার এসআই আবু কাওসার আমার দেবর হাবিবুর রহমানকে গুলি করে হত্যা এবং স্বামী ফয়জুর রহমানকে গুরুতর আহত করেছে। তিনি জানান, তার স্বামী ফয়জুর রহমান ও দেবর হাবিবুর রহমান এলাকার নিরীহ লোক। গত ২১ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের নির্দেশে থানার এসআই আবু কাওছার কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ফারহানার ঘরে অনুপ্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ বলে তার স্বামী ও দেবর নাকি ডাকাতি মামলার আসামী। এক পর্যায়ে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তার দেবর হাবিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে এবং তার স্বামী ফয়জুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় ফারহানার শ্বাশুড়ি বৃদ্ধ সায়বান বিবি (৮০) দৌড়ে ছেলেদের কাছে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ জোরপূর্বক ফারহানার দেবর হাবিবুর রহমানের লাশ ও তার স্বামী ফয়জুর রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গাড়িতে উঠাইয়া নিয়ে যায়। ঐ দিন রাত ৩টায় ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফারহানার বাড়িতে পূণরায় অভিযান করে তাদের বাড়ির সব জিনিসপত্র তছনছ করে চলে আসে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা প্রাণভয়ে অন্যত্র পালিয়ে যান। পরদিন হাবিবুর রহমানের লাশ পুলিশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠালেও ফারহানার স্বামী ফয়জুর রহমানের কোন সন্ধান দেয়নি। তার শ্বাশুড়ি সায়বান বিবি ছেলে ফয়জুর রহমানের সন্ধান চেয়ে থানার ওসির কাছে গেলে ওসি আব্দুল আহাদ তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং বলেন, এ বিষয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে তার পরিবারের সকলকে জেলে ঢুকিয়ে দেবেন। এখন পর্যন্ত ফারহানা তার স্বামী কোন সন্ধান পাননি। মামলায় ফারহানা আরো জানান তার স্বামী এলাকার নিরীহ লোক। তার সাথে এলাকার কোন মানুষের বিরোধ নেই এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। কে বা কার ইন্ধনে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার পরিবারকে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন। তিনি এ ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআই কে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল