আবারো র‌্যাবকে নিষিদ্ধের দাবি বিএনপির – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আবারো র‌্যাবকে নিষিদ্ধের দাবি বিএনপির

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৭

আবারো র‌্যাবকে নিষিদ্ধের দাবি বিএনপির

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না জনগণ:‌ রিজভী আহমেদ

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক: বাংলাদেশের জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া কোন প্রতিরক্ষা চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না। বাংলাদেশের দু’একজন লোক ভারতে চাকুরি করতে পারে, কিন্তু জনগণ একাত্তরের মতোই তাদের বীরত্ত্ব দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কাল দিল্লি যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রায় অর্ধশত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে গত দুদিন আগেও সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়সহ এ ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পুর্বেই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ দাবি তোলার পর পর পররষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রতিরক্ষাসহ ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। তবে তিনি বাংলাদেশের মানুষের বহু প্রতিক্ষিত তিস্তা চুক্তিকে অবজ্ঞা করে বলেছেন তিস্তা চুক্তি হলে বা না হলে কি আসে যায়। তার এই বক্তব্যে গোটা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভের ঝড় বইছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামীকাল ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর, সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর এবং সবশেষে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এসব সফর এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরাখবর নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সুধী সমাজের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে উদ্বেগ। কথা উঠেছে, এই সফরকালে ভারতের সাথে প্র্রতিরক্ষা চুক্তি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এসব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে জাতিকে স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না। ফলে উৎকণ্ঠা বেড়ে চলছে।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-যদি দু’দেশে মধ্যে চুক্তি হয় তাহলে তা বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই হবে। দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছুই করা হবে না। তিনি আরো বলেছেন-১৯৭৪ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তিকে গোলামীর চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল স্বার্থান্বেষী মহল। তিনি বলেছেন-তবে এই চুক্তি থেকে আমরা অনেক কিছুই লাভবান হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অসত্য, কারন গত পরশুদিন প্রথম আলোতে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান সাহেবের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়-উভয় দেশের নীতি-নির্ধারকরাই বলেছেন-২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি কোনভাবেই ফলপ্রসু হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে আরো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-২৫ বছর মেয়াদী ঐ চুক্তিটি গোলামীর চুক্তিই ছিল। সেই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সম্প্রসারিত করতে হলে ভারতের সাথে কথা বলেই করতে হবে, অর্থাৎ ভারতের অনুমতির অনুমতির ওপর তা নির্ভরশীল ছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে বলে দুদেশের সরকারি মহল থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে। যদি আকাশছোঁয়া সম্পর্কই থাকে তবে এতো তড়িঘড়ি করে চুক্তি কেন ? ভারতের নীতিনির্ধারকরা তো খুশী থাকবেনই, কারণ বাংলাদেশ থেকে না চাইতেই অনেক কিছু পাওয়া যায়। দিল্লী নিতে জানে কিন্তু দিতে জানে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০১০ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রায় ৫০টির মতো চুক্তি করেছিলেন। অপ্রকাশ্য চুক্তিগুলির বিষয়ে এখনও জনগণ কিছুই জানতে পারেনি। সীমান্ত সমস্য সমাধানের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এর বিনিময়ে যে, বাংলাদেশের ভূখন্ডকেই একরকম ইজারা দেয়া হয়েছে, যেমন-নামমাত্র মাশুলের বিনিময়ে ভারতকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বহুমূখী ট্রানজিটের নামে করিডোরের সুবিধা দেয়া হয়েছে। অবকাঠামো না থাকলেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ পাবে ভারত। আর দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ন্যায্য হিস্যা তো দুরে থাক এসমস্ত নদীসমূহের উজানে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, আর বাংলাদেশ অংশে এই নদীগুলি মরা খালে পরিণত হয়েছে।

সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ’র হাতে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশী নাগরিক খুন হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যেও বাংলাদেশের পণ্য রফতানীতে ভারত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া কোন প্রতিরক্ষা চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না। বাংলাদেশের দু’একজন লোক ভারতে চাকুরি করতে পারে, কিন্তু জনগণ একাত্তরের মতোই তাদের বীরত্ত্ব দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিষ্ঠুর নিপীড়ণের চিত্র আমরা বারবার বলেছি এবং আপনারা গণমাধ্যম তা নিজচক্ষে প্রত্যক্ষ করে তা প্রচার করেছেন। গুম-খুনের নানা বিভৎস দৃশ্য সরকারের বিধি-নিষেধের পরেও গণমাধ্যম সেগুলি প্রচার ও প্রকাশ করেছে। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-র‌্যাব এর বিরোধী দলদমনে অমানবিক নৃশংসতার ঘটনা আজ মানুষের মুখে মুখে। এ বিষয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। সন্তানহারা অনেক মায়ের আহাজারি, স্বামীহারা স্ত্রীর বুকফাটা কান্না এবং পিতাহারা শিশুর পিতার জন্য অপেক্ষার করুণ আর্তি এই র‌্যাবের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাবকে যেন অন্ধকারের মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একটি সংগঠনে পরিণত করেছে এই সরকার। সুইডিশ রেডিও’তে র‌্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে এদের কর্মকান্ডের বিভৎসরুপ এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের মানুষের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সন্তান কখন নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় এ নিয়ে এখন সারাদেশে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার উপর সারাদেশ এখন সুইডিশ রেডিওতে অডিওটি’র ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সারাদেশ এখন শোক ও বেদনায় স্তব্ধ। র‌্যাবের মতো একটি খুনে বাহিনী ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দমন করান এবং জনগণকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন।

এই সমস্ত বাহিনী দিয়েই ক্ষমতাসীনরা আমাদের জনসমাজ থেকে গণতন্ত্র, সহনশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়-বিচার, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সবকিছুকেই স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর এ কারনেই জঙ্গীবাদ নামক একটি নতুন উপদ্রবের উপসর্গ সারাজাতিকে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। এই জঙ্গীদের সাথে জড়িতদের মধ্যে শাসকদলের সংশ্লিষ্টতা জাতিকে হতবাক করেছে। গত কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহে যে জঙ্গীদের ধরা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল আমিন, আরো দু’জন আওয়ামী পরিবারের সদস্য এবং যেই ভবন থেকে তাদেরকে ধরা হয়েছে সেই ভবনটি আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপি’র বাড়ী। যেমনভাবে শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে হলিআর্টিজানের জঙ্গী হামলার সাথে জড়িত কেউ কেউ আওয়ামী পরিবারের সদস্য।a1news-04-06-2017_(9)

তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০১৭
ব্রিফিং : এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
সবাইকে শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিষ্ঠুর নিপীড়ণের চিত্র আমরা বারবার বলেছি এবং আপনারা গণমাধ্যম তা নিজচক্ষে প্রত্যক্ষ করে তা প্রচার করেছেন। গুম-খুনের নানা বিভৎস দৃশ্য সরকারের বিধি-নিষেধের পরেও গণমাধ্যম সেগুলি প্রচার ও প্রকাশ করেছে। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-র‌্যাব এর বিরোধী দলদমনে অমানবিক নৃশংসতার ঘটনা আজ মানুষের মুখে মুখে। এ বিষয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। সন্তানহারা অনেক মায়ের আহাজারি, স্বামীহারা স্ত্রীর বুকফাটা কান্না এবং পিতাহারা শিশুর পিতার জন্য অপেক্ষার করুণ আর্তি এই র‌্যাবের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাবকে যেন অন্ধকারের মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একটি সংগঠনে পরিণত করেছে এই সরকার।্ সুইডিশ রেডিও’তে র‌্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে এদের কর্মকান্ডের বিভৎসরুপ এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের মানুষের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে।

সুইডেনের সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত ‘সভারিজেস রেডিও’ গোপনে ধারণকৃত একটি অডিও প্রকাশ করেছে, ঐ রেডিওতে একজন উচ্চ পদস্থ র‌্যাব কর্মকর্তা কিভাবে মানুষ হত্যা করে সাজানো নাটক বানায় সেটির বর্ণনা উঠে এসেছে। সেই ধারণকৃত অডিও’তে শরীরে কাঁটা দেয়া মর্মস্পর্শী ঘটনার অসংখ্য বর্ণনার মধ্যে একটি জায়গায় বলা হয়েছে-“যদি তুমি তাকে (টার্গেটকৃত ব্যক্তি) খুঁজে পাও তাহলে সেই যেই হোক না কেন তাকে গুলি করো ও হত্যা করো, তার পাশে একটি অস্ত্র রেখে দাও”। সেই অডিও’তে ক্রসফায়ারে কিভাবে হত্যাটিকে নাটকীয় কায়দায় মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের নিকট তুলে ধরা হবে সেটিরও বর্ণনা আছে। সেখানে বলা হয়-র‌্যাব সদস্যদের দিকে গুলি করার কারণেই র‌্যাবকে পাল্টা গুলি চালাতে হয় এবং তাতেই তাদের টার্গেটকৃত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

ঐ কর্মকর্তা কিভাবে কোন ব্যক্তিকে গুম করা হয় সেটির তিনটি কৌশলের কথাও উল্লেখ করেছেন। কৌশলগুলি হলো-টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ধরা, তাকে হত্যা করা, লাশ লুকিয়ে ফেলা। নিহতদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়ার আগে লাশের সঙ্গে কিভাবে কংক্রিটের ব্লক বেঁধে দেয়া হয় অডিও কথোপকথনে সেটিরও বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কার সন্তান কখন নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় এ নিয়ে এখন সারাদেশে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার উপর সারাদেশ এখন সুইডিশ রেডিওতে অডিওটি’র ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সারাদেশ এখন শোক ও বেদনায় স্তব্ধ। র‌্যাবের মতো একটি খুনে বাহিনী ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দমন করান এবং জনগণকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন।

এই সমস্ত বাহিনী দিয়েই ক্ষমতাসীনরা আমাদের জনসমাজ থেকে গণতন্ত্র, সহনশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়-বিচার, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সবকিছুকেই স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর এ কারনেই জঙ্গীবাদ নামক একটি নতুন উপদ্রবের উপসর্গ সারাজাতিকে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। এই জঙ্গীদের সাথে জড়িতদের মধ্যে শাসকদলের সংশ্লিষ্টতা জাতিকে হতবাক করেছে। গত কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহে যে জঙ্গীদের ধরা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল আমিন, আরো দু’জন আওয়ামী পরিবারের সদস্য এবং যেই ভবন থেকে তাদেরকে ধরা হয়েছে সেই ভবনটি আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপি’র বাড়ী। যেমনভাবে শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে হলিআর্টিজানের জঙ্গী হামলার সাথে জড়িত কেউ কেউ আওয়ামী পরিবারের সদস্য।

বন্ধুরা,
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কাল দিল্লি যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রায় অর্ধশত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে গত দুদিন আগেও সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়সহ এ ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পুর্বেই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ দাবি তোলার পর পর পররষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রতিরক্ষাসহ ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। তবে তিনি বাংলাদেশের মানুষের বহু প্রতিক্ষিত তিস্তা চুক্তিকে অবজ্ঞা করে বলেছেন তিস্তা চুক্তি হলে বা না হলে কি আসে যায়। তার এই বক্তব্যে গোটা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভের ঝড় বইছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামীকাল ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর, সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর এবং সবশেষে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এসব সফর এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরাখবর নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সুধী সমাজের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে উদ্বেগ। কথা উঠেছে, এই সফরকালে ভারতের সাথে প্র্রতিরক্ষা চুক্তি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এসব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে জাতিকে স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না। ফলে উৎকণ্ঠা বেড়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-যদি দু’দেশে মধ্যে চুক্তি হয় তাহলে তা বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই হবে। দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছুই করা হবে না। তিনি আরো বলেছেন-১৯৭৪ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তিকে গোলামীর চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল স্বার্থান্বেষী মহল। তিনি বলেছেন-তবে এই চুক্তি থেকে আমরা অনেক কিছুই লাভবান হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অসত্য, কারন গত পরশুদিন প্রথম আলোতে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান সাহেবের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়-উভয় দেশের নীতি-নির্ধারকরাই বলেছেন-২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি কোনভাবেই ফলপ্রসু হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে আরো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-২৫ বছর মেয়াদী ঐ চুক্তিটি গোলামীর চুক্তিই ছিল। সেই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সম্প্রসারিত করতে হলে ভারতের সাথে কথা বলেই করতে হবে, অর্থাৎ ভারতের অনুমতির অনুমতির ্ওপর তা নির্ভরশীল ছিল। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুমতির তোয়াক্কা না করে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করেছিলেন এবং ক্যান্টনমেন্ট এর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিলেন। আজকের মতোই জনমতকে তাচ্ছিল্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অঙ্গচ্ছেদ করে বেরুবাড়ী দিল্লির দরবারে উপহার হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা ভূমি সীমান্ত সমস্যার এক ধরণের লোক দেখানো সমাধানের কথা বলা হলেও এখনও কঠিন জটিল আবর্তের মধ্যে পড়ে আছে ছিটমহলবাসীরা। উপরন্তু চুক্তি ছাড়াই ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালুর প্রস্তাব তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নিয়ে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ নিয়ে স্থায়ীভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু রেখেছে, ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে শুস্ক, রুক্ষ ও মরুময় অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। অতি নতজানু হওয়ার কারনেই দিল্লীর মতলব টের পায়নি তৎকালীন আওয়ামী সরকার।

কিন্তু বর্তমান সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে বলে দুদেশের সরকারি মহল থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে। যদি আকাশছোঁয়া সম্পর্কই থাকে তবে এতো তড়িঘড়ি করে চুক্তি কেন ? ভারতের নীতিনির্ধারকরা তো খুশী থাকবেনই, কারণ বাংলাদেশ থেকে না চাইতেই অনেক কিছু পাওয়া যায়। দিল্লী নিতে জানে কিন্তু দিতে জানে না।

২০১০ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রায় ৫০টির মতো চুক্তি করেছিলেন। অপ্রকাশ্য চুক্তিগুলির বিষয়ে এখনও জনগণ কিছুই জানতে পারেনি। সীমান্ত সমস্য সমাধানের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এর বিনিময়ে যে, বাংলাদেশের ভূখন্ডকেই একরকম ইজারা দেয়া হয়েছে, যেমন-নামমাত্র মাশুলের বিনিময়ে ভারতকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বহুমূখী ট্রানজিটের নামে করিডোরের সুবিধা দেয়া হয়েছে। অবকাঠামো না থাকলেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ পাবে ভারত। আর দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ন্যায্য হিস্যা তো দুরে থাক এসমস্ত নদীসমূহের উজানে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, আর বাংলাদেশ অংশে এই নদীগুলি মরা খালে পরিণত হয়েছে।

সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ’র হাতে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশী নাগরিক খুন হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যেও বাংলাদেশের পণ্য রফতানীতে ভারত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া কোন প্রতিরক্ষা চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দেবে না। বাংলাদেশের দু’একজন লোক ভারতে চাকুরি করতে পারে, কিন্তু জনগণ একাত্তরের মতোই তাদের বীরত্ত্ব দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল