আমলের জন্য বাদশাহি পরিত্যাগের নজিরও রয়েছে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আমলের জন্য বাদশাহি পরিত্যাগের নজিরও রয়েছে

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

আমলের জন্য বাদশাহি পরিত্যাগের নজিরও রয়েছে

মাওলানা মাহ্মূদুল হক

 

আমলের প্রতি আগ্রহের অন্যতম কারণ লাভের আশা-ভরসা। মানুষ যখন আমলের বিনিময়ে লাভ ও কল্যাণ উপলব্ধি করে তখন তার জন্য সে আমল করা সহজ হয়। সে আমলের জন্য নিজের বাদশাহি পরিত্যাগেও কোনো চিন্তা বোধ করে না।

ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলখের সর্বজনপ্রিয় বাদশাহ ছিলেন। দেশবাসী ও মন্ত্রীরা তাঁকে আজীবন বাদশাহ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু তিনি শাহি শান-শওকত, তখত ও তাজ পরিত্যাগ করে ফকিরি লেবাস গ্রহণ করেন এবং গভীর জঙ্গলে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হন। এদিকে দেশবাসী তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থির ও কাতর হয়ে পড়ে। দেশবাসীর অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও বুদ্ধিজীবীরা জঙ্গলে গিয়ে তাঁকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ এবং শাহি তখতে সমাসীন হওয়ার আকুল আবেদন জানান। তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম তাঁর ছেঁড়া কাপড় সেলাই করার সুচটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করে উপস্থিত মন্ত্রীদের বললেন, আপনারা আমার সুচটি সমুদ্র থেকে এনে দিন। তারা তৎক্ষণাৎ ডুবুরির সাহায্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেন কিন্তু সমুদ্র থেকে একটি সুই বের করা কি সহজ ব্যাপার! বহু খোঁজাখুঁজি ও চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হলেন। তখন তিনি সমুদ্রের মাছকে সম্বোধন করে বললেন, তোমরা আমাকে সুই এনে দাও। এ নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য মাছ একটি করে সোনার সুই নিয়ে হাজির হলো। তিনি বললেন, সোনার সুই নয়, আমার হাত থেকে পড়ে যাওয়া সেই লোহার সুইটি এনে দাও। মুহূর্তের মধ্যে অন্য একটি মাছ লোহার সে সুইটি নিয়ে হাজির হলো। এবার তিনি উপস্থিত মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা বলুন, এখন আমি যে বাদশাহির মসনদে সমাসীন তা উত্তম না নাকি আপনারা যে বাদশাহির কথা বলছেন, তা? আপনারা কি চান আমি স্থায়ী জগতের বাদশাহি বর্জন করে অস্থায়ী জগতের বাদশাহি গ্রহণ করি? তিনি তাদের ফিরিয়ে দিয়ে বস্তুজগতের বাদশাহি পরিত্যাগ করে আখিরাতের বাদশাহির আসনে সমাসীন হয়ে রইলেন। কারণ তাঁর সামনে বস্তুজগতের বাদশাহির তুলনায় আখিরাতের বাদশাহি অধিক লাভজনক মনে হয়। তাই তাঁর জন্য বস্তুজগতের বাদশাহি ছেড়ে আখিরাতের বাদশাহি লাভের আমল করা সহজ হয়। আমলের প্রতি আগ্রহের আরেকটি কারণ স্বাদ ও মজা পাওয়া। স্বাদ ও মজা পাওয়া গেলে মানুষ আমলে আগ্রহী হয়। প্রসিদ্ধ আছে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এশার অজুতে ৪০ বছর পর্যন্ত ফজরের নামাজ আদায় করেন। তিনি সব সময় রোজা রাখেন এবং ৪০ হাজার বার কোরআন খতম করেন। এক সাহাবির শরীরে নামাজরত অবস্থায় তীর বিদ্ধ হয় তবু তিনি নামাজ ও তিলাওয়াতে মগ্ন থাকেন। সাহাবিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, নামাজে একটি লম্বা সুরা তিলাওয়াত আর তিলাওয়াতের স্বাদ উপভোগ করছিলাম। এরূপ অসংখ্য ঘটনা বিদ্যমান রয়েছে।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন