আমি ছিনতাই করলে তোর অসুবিধা কী ? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আমি ছিনতাই করলে তোর অসুবিধা কী ?

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০১৮

“দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে আহত দুই শিক্ষার্থী এখনো চিকিৎসাধীন”

মো.নাঈমুল ইসলাম::
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় খোজারকলা মারকাজ জামে মসজিদের সামনে গত ৫ই মে শনিবার সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ছুরিকাহত সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে গুরুতর আহত দুজন এখনও চিকিৎসাধীন অপর একজনকে পুলিশ আটক করে জেলে পাঠিয়েছে।

ওইদিন কথাকাটাকাটির জের ধরে মারামারিতে আরিয়ান ইসলাম সাজু ওরফে অপু আহমদের ছুরিকাঘাতে আহত হয় ফাহিম আহমদ (২০) ও আকরাম আহমদ (২০)। বর্তমানে ফাহিম আহমদ ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং আকরাম আহমেদ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুজনের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখন আশংকামুক্ত নয় বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

ফাহিম আহমদ খোজাকলা বি ব্লকের বাসিন্দা লিয়াকত মিয়ার ছেলে, আকরাম আহমদ খোজারকলা ২২৪ নং বাসার বাসিন্দা আনছার মিয়ার ছেলে। অপু আহমদ বরইকান্দি ৩নং রোডের বাসিন্দা।

এই মারামারির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামী আরিয়ান ইসলাম সাজু ওরফে অপুকে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ওসমানী হাসপাতাল থেকে আটক করে গত সোমবার আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গত রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অপুকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ।

সেদিনের ঘটনা বর্ননা করে ওসমানী হাপাতালে চিকিৎসাধীন আকরাম এই প্রতিবেদককে জানান, শনিবার আমি ও ফাহিম সন্ধ্যার দিকে মারকাজ মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে আরিয়ান ইসলাম সাজু ওরফে অপু এসে ফাহিমকে জিজ্ঞেস করে ফাহিম ভাই আপনি কি আমাকে খোঁজছেন। তখন আমার বন্ধু ফাহিম তাকে বলল, হ্যা আমি তোকে খুঁজছি। আবার অপু ফাহিমকে বলল, কি জন্য ভাই ? ফাহিম তাকে বলল, তুমি যে ছিনতাই করছো তার সম্পূর্ণ দোষ আমাদের উপর পড়ছে, এলাকার নামে বদনাম হচ্ছে। তখন অপু উত্তেজিত হে বলে – আমি ছিনতাই করলে তোর অসুবিধা কী ? তখন আমার বন্ধু ফাহিম তাকে হাতে ধরে বলে, চল তোকে ক্লাবের সামনে নিয়ে যাবো। ফাহিম এই কথা বলতে না বলতেই অপু একটি ছুরি বের করে ফাহিমকে তিনটি কুপ দেয়। আমি এগিয়ে ফাহিমকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে অপু আমাকেও ছুরি দিয়ে একটি কুপ দেয়। অপুর সাথে আরো একজন ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি। পরে অপু পালানোর চেষ্টা করার জন্য দৌড় দেয় এবং আমিও তার পিছনে দৌড়ে তাকে জিঞ্জুরসা মাজারের সামনে ধরে ফেলি। আমার বন্ধু আবুল ও জীবন সেখানে ছিলো। আমাকে আহত অবস্থায় দেখে তারা আমাকে নিয়ে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং তখন অপুকে জিঞ্জুরসার মাজারের সামনে থেকে লোকজন ধরে নিয়ে খোজারকলা ক্লাবের সামনে নিয়ে গণধোলাই দেয়।অপরদিকে গুরুতর আহত ফাহিমকে তার আত্বীয় স্বজনরা উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান, তার অবস্হা আশংকাজনক বিবেচনা করে ডাক্তারের পরামর্শে রাতেই তাকে ঢাকায় স্হানান্তর করা হয়।প্রথমে এ্যাপলোতে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফাহিম এবং আকরামের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তাদের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুরা বলেন, ফাহিমেকে এ পর্যন্ত ২৫ ব্যাগ এবং আকরামের ৩ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে । ডাক্তার জানিয়েছেন তাদের অবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি।

দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, এলাকাবাসীর দায়েরকৃত মামলায় আমরা অপুকে ওসমানী মেডিকেল থেকে আটক করি এবং সোমবার তাকে আদালতে চালান করে দেয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল