”আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পাওয়া যাবে সুস্বাস্থ ”

প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ৬, ২০২২

”আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পাওয়া যাবে সুস্বাস্থ ”

”আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পাওয়া যাবে সুস্বাস্থ ”

মাহবুবুল আলম,উলসান, কোরিয়া থেকে

দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য কেজিতে ৩৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি যে কেবল তেলের বোতলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটা হলফ করে বলা যায়। এর প্রভাব বাজারে অন্য সব পণ্যের ওপরও পড়বে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সারা দুনিয়াজুড়ে তেলের হাহাকার। ফলে তেলের দাম বাড়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তেলের সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলতে পারে।

সারা পৃথিবীর মোট সানফ্লাওয়ার উৎপাদনের প্রায় ৪৭% উৎপন্ন হয় কেবল ইউক্রেনে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাশিয়াতে, প্রায় ২৩%। পৃথিবীতে সানফ্লাওয়ার রপ্তানির প্রায় ৬০% এর যোগানদাতা ইউক্রেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন হতে সানফ্লাওয়ার রপ্তানি ৯৫% বন্ধ হয়ে গেছে।

পৃথিবীতে পাম ওয়েলের ৫০% এর বেশি উৎপন্ন হয় কেবল ইন্দোনেশিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ার বৈদেশিক আয়ের ১১% এর বেশি আসে শুধুমাত্র পাম ওয়েল রপ্তানি থেকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইন্দোনেশিয়ায় ভোজ্যতেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় সে দেশের সরকার গত ২৮শে এপ্রিল থেকে পাম ওয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। ফলে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের সংকট তীব্রতর হয় ও দাম আরেক দফা বাড়ে।

এখন কথা হলো আমাদের বাজারে তো সয়াবিন ছাড়া অন্য ভোজ্যতেল তেমন একটা দেখা যায় না। তাহলে সানফ্লাওয়ার ও পাম ওয়েলের সংকট দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে? বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট ভোজ্যতেলের প্রায় ৮০% আমদানি করতে হয়। ২০০৩ সাল থেকে দেশের বাজারে মোট তেলের ৫৫-৬০% তেল পাম ওয়েল। এখন প্রশ্ন হলো বাজারে প্রায় সব ভোজ্যতেল সয়াবিন তেল। তাহলে এই পাম ওয়েল ও সানফ্লাওয়ার ওয়েল যায় কোথায়? নিজেকেই প্রশ্ন করুন, সয়াবিন তেলের নামে কি খাচ্ছেন।

যাইহোক, সারাবিশ্বে তেলের সংকট বাড়ার সাথে সাথে দেশের মানুষের তেল খাওয়ার পরিমাণও বাড়ছে সমান্তরালে। ২০১৫ সালে দেশে মাথাপিছু তেল ব্যবহার ছিলো ১৩.৮০ কেজি যা ২০১৯ সালে ৩৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮.৭ কেজিতে! প্রতিবছর এ পরিমাণ বাড়ছেই।

ইদানিং দেশে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়বেটিস, স্থুলতা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসবের অন্যতম প্রধান কারণ ভোজ্যতেল। ভোজ্যতেলের স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের (LDH) এর মাত্রা বাড়াচ্ছে। ফলে রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা এলার্মিং রেইটে বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর ৭০% সংঘটিত হচ্ছে শুধুমাত্র উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিস জনিত বিভিন্ন জটিলটা এবং ক্যান্সারের কারণে।

যেহেতু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই, তাই তেলের অতিরিক্ত দামের প্রভাব কমানোর কেবল একটাই উপায় আছে, তা হচ্ছে রান্নায় ও খাবারে তেলের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে দেয়া অর্থাৎ নামমাত্র তেলে রান্না করা। এতে আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি বোনাস হিসেবে পাওয়া যাবে সুস্বাস্থ। তেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রার সকল ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনও অত্যন্ত জরুরি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল