‘আ’লীগের চক্রান্তে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

‘আ’লীগের চক্রান্তে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত’

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৮

‘আ’লীগের চক্রান্তে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত’

ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশকে একটি অকার্যকর ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় আওয়ামী লীগ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সেই চক্রান্তের ফলেই ড. জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করা হলো। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা পৌনে ১১টায় মানববন্ধন শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১২টার দিকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই দেশকে সম্পূর্ণভাবে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। সেই চক্রান্তের ফলেই দেশের জনপ্রিয় শিক্ষক, লেখক, বিজ্ঞানী ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক ড. জাফর ইকবাল সাহেবকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ছুরিকাঘাত করা হলো।

তিনি বলেন, কোনো তদন্ত না করেই বলে দেয়া যে বিএনপি এটার জন্য দায়ী। অথচ দেখা গেল যাদের ধরা হচ্ছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোকজন। আজকে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন এসে যাবে তাহলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকে এদেশকে একটি অকার্যকর ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজ গণতন্ত্রের এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছি যেখানে গণতন্ত্র মৃত। এই দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই।

তিনি দাবি করে বলেন, দেশনেত্রীকে সাজা দেয়া হয়েছে সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে। নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব চক্রান্ত করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাকে জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কলাকৌশল করে তার মুক্তিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নয়, তাদের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। পরিষ্কার করে বলেছি দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সকল দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সমস্ত মামলা প্রত্যাহর করে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই নির্বাচনে অবশ্যই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। একদলীয় শাসনের পতন হবে।

মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্থায়ী কমিটির সস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকতুল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদীন ফারুক, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বজলুল বাসিত আঞ্জু, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, ২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম, আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, সরফত আলী সপু, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, কামরুজ্জামান রতন, নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল খান, ডা. রফিকুল কবির লাবু, আফরোজা আব্বাস, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মফিকুল আহসান তৃপ্তি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিলে তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, মামুন হাসান, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, জিয়া পরিষদের মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদ,  কৌশলী শরীফ, ড. রকনুজ্জামান, বিশ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জাগপার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিঙ্কন, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল