জামায়াত নেতা বোমা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ছাতকে বোমা মেশিন : আব্দুস সহিদ

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২১

জামায়াত নেতা বোমা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ছাতকে বোমা মেশিন : আব্দুস সহিদ

ছাতকে নৌ-পুলিশের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই মামলার আসামি হয়েছেন। পুলিশের উপর হামলা করা নিন্দনীয়, এটা দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহিতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি প্রসিদ্ধতম স্থান হলো ছাতক। এখানে বালু পাথর চুনা পাথরের ব্যবসা ব্রিটিশ আমল থেকেই জমজমাট। স্থানীয় লেবার বিশেষ করে ছাতক দোয়ারা বাজার ও কোম্পানীগঞ্জের হাজার হাজার শ্রমিক এই ব্যবসার সাথে জড়িত। বারকি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ নানান ভাবে এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থেকে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করে থাকেন। শ্রমিক থেকে অনেকেই বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন। সমাজে স্বচ্ছলভাবে চলাফেরা করার সুযোগ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে বৈধভাবেই ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে এই ব্যবসায় একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হল কেন? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার নতুন করে বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ছাতকের চেলা নদীতে।

সিলেটের খনিজ সম্পদে ভরপুর পর্যটনের লীলাভূমি জাফলংয়ের পাথর কোয়ারিতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে সেখানকার পরিবেশ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে জাফলং এলাকায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা বন্ধ রয়েছে।সেখানে পাথর উত্তোলন ও ব্যবসার সাথে জড়িত এবং জেলা প্রশাসনের সকলেই জানেন বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করার প্রধান কারিগর মোঃ আলাউদ্দিন ওরফে বোমা আলাউদ্দিন। ছাতক দোয়ারা বাজারবাসি এই বোমা আলাউদ্দিনের নামের সাথে খুব একটা বেশি পরিচিতি নেই। এবার তিনি ছাতকের চেলা নদীতে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় অনেকেই চিনতে পেরেছেন । তিনি ছাতক উপজেলা জামায়াত ইসলাম এর সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মিলে ‌ছাতকের কিছু উদীয়মান ব্যাবসায়ীরা বোমা সদৃশ্য স্যালো মেশিন এর কার্যক্রম শুরু করেন। ফলে ছাতক অঞ্চলে সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা টানাপোড়েন চলছিল। পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। বৈধভাবে বালু উত্তোলন না করায় প্রশাসনের বাঁধার কারণে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। নৌ পুলিশের উপর হামলা করা হয়। তাতে হয়তো অনেক নিরপরাধীও মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিন্দনীয়।
বোমার সাথে ছাতকবাসি সম্ভবত ১৯৯৮ ইংরেজি থেকে পরিচিত। স্থানীয় এমপি জনাব মুহিবুর রহমান মানিকের বাসভবনে যেদিন বোমা বিস্ফোরিত হয়ে দুজন লোক নিহত হয় সেদিন থেকেই বোমার সাথে পরিচয় ছাতক-দোয়ারাবাসি। যদিও মাননীয় এমপি মহোদয় সেদিন জাতীয় সংসদে ছিলেন। আমার ধারণা তিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। কিন্তু যারা এই কর্মটি করেছিলেন তারা এমপি মহোদয়ের কাছের লোক ছিলেন এবং এমপি মহোদয়ের নিজ শয়ন কক্ষে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় তিনি এর দায় এড়াতে পারেননি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। জেল জরিমানা অথবা খালাস আমরা সবই দেখেছি। কেউ মুক্তির আন্দোলন করেছি আবার কেউ ফাঁসীর দাবিও করেছেন। এমপি মহোদয় সেই ক্ষত কাটিয়ে আরো তিন বার নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ছাতক-দোয়ারা বাজারবাসি ধীরে ধীরে সেই বোমা বিস্ফোরণের কথা ভুলতে বসেছিল। সম্প্রতি জামায়াত নেতা বোমা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আবারো সেই বোমা মেশিন ছাতকে আসায় এবং বালু উত্তোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে আবারো ছাতক-দোয়ারা বাজারবাসি বোমা আতঙ্কে ভুগছেন। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে রক্ষা করেন, হেফাজতে রাখেন, নিরাপদে রাখেন।
বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিদিন কত পরিচিত আপন জন বিদায় নিচ্ছেন পৃথিবী থেকে। নিষ্ঠুর নিয়তির ডাক কখন যে কার আসবে আমরা কেউ বলতে পারবোনা। পরম করুনাময়ের কাছে অতিমারি করোনার জন্য করুনা প্রার্থনা করছি। যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাঁদেরকে যেন জান্নাতবাসী করেন। তাঁদের আত্বার শান্তি কামনা করি। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করি। আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা অভিভাবক ছাতকের সম্মানিত ব্যক্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি,সংগ্রামী আহ্বায়ক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সালিশ ব্যক্তিত্ব জনাব আলহাজ্ব আবরু মিয়া তালুকদার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
রাজনীতির মাঠে তিনি অনেকের সাথেই আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, সহযোদ্ধা ছিলেন। অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে ছিলেন। রাজনীতিতে কেউ চিরস্থায়ী শত্রু নয়। ব্যক্তিগত হিংসা-বিদ্বেষ আমরা যেন ভুলে যাই। আমরা যেন ভুলে যাই কে পক্ষে ছিল আর কে বিপক্ষে ছিল। আমাদের উচিত সকলেই একজন প্রবীণ নেতাকে সম্মান করা। যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের ও জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব মতিউর রহমান সাহেব শোক বার্তা দিয়ে যে মূল্যায়ন করেছেন। এর চেয়ে বেশি পাওয়া একজন রাজনৈতিক নেতার আর কি হতে পারে। গভীর শ্রদ্ধা জানাই জননেতা জনাব মরহুম আলহাজ্ব আবরু মিয়া তালুকদার সাহেবকে। এই পৃথিবী থেকে আমরা সকলেই বিদায় নিব। কেউ চিরস্থায়ী নয়।
সকলের মঙ্গল কামনা করে বলি:
“চিরদিন কাহারো সমান নাহি দিন যায়
আজকে যে রাজা ধীরাজ কাল সে ভিক্ষা চায়”।।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
লেখক : আব্দুস সহিদ মুহিত
(জেলা পরিষদ সদস্য)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল