আলোর ফেরিওয়ালার কিছু কথা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

আলোর ফেরিওয়ালার কিছু কথা

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

আলোর ফেরিওয়ালার কিছু কথা

ইমতিয়াজ রহমান ইনু :: দেশ ও মানুষকে ভালবাসি বলে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ উপাধি দেওয়া হয়েছে আমাকে। উপাধি পেয়ে যতটুকু আনন্দ পেয়েছি তার চেয়ে আনন্দ পাই দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে পারলে। গাভী কখনোও তার দুধ পান করে না, বৃক্ষ কখনোও তার ফল আহরণ করে না। ঠিক তেমনি আমি আমার যতটুকু সম্পদ ছিল তা সমাজের জন্য, অসহায়দের জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে ছোট্ট একটি কুড়েঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে আছি। তবুও শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলতে আমি অসহায়দের জন্য আমরণ কাজ করে যাবো। আমার কুড়েঘর এতোই ছোট যে ২/৩ জনের উপরে মেহমান মুসাফির আসলে বসার জায়গাটুকুও দিতে পারিনা। তবুও শান্তির পরশ পেতে বুক ভরা আশা নিয়ে লোকজন আমার বাড়িতে যায়। গিয়ে সুখ দুঃখের কথা বলে। যতটুকু সম্ভব তাদের সহযোগিতা করি, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। আমার কাছে নেই কোনো আলাউদ্দিনের চেরাগ তবুও মানুষ আসে প্রশান্তি লাভের জন্য।

এবার মূল কথা শুরু করি- শিশির বেলা যখন হকার আমার বাসায় পত্রিকা দেয়, বেশির ভাগই দিন পত্রিকা খুলে দেখি পত্রিকার শিরোনামে থাকে হত্যা, ডাকাতি, নারী, ধর্র্ষন, পরকিয়া, গাড়ি চাপা, দুর্ঘটনায় নিহত ও দালানে আগুন, মাদকের বিচরণ আরো কত কিছু যা কখনো কাম্য করি না। আমাদের দেশে অতিতের চেয়ে অনেক এগিয়ে তাও অস্বীকার করি না। ছোট থাকতে যখন দুষ্টামী করতাম ও স্কুল ফাঁকি দিতাম বাবা তখন শাসন করতেন, বেত দিয়ে আঘাত করতেন। দাদী আগলে ধরে বাবার আঘাত থেকে রেহাই দিতেন। বুঝাতেন দাদী বলতেন ভাইরে একদিন থাকবো না এই পৃথিবীতে। তোমরা দেখবে যেই পথ নেই, সেই দিকে পথ হবে, ঘরে ঘরে ডাক্তার হবে, অমানুষ মানুষ হবে, মানুষ নামে কিছু সিংহ প্রাণীর চেয়ে ও ভয়ংকর প্রাণী হবে। আসলে আমরা সেই জগতেই চলে এসেছি। কোনো দূর্ঘটনা কিংবা মানুষ নামে হিংস্র প্রাণীর মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত করলে তখন তথ্য কমিটি হয় এর পূর্বে হয় না। আমাদের ব্যর্থতা কোথায়? ? এতো অপরাধীদের সাজা হয়, ফাঁসি হয়। তবুও অপরাধ কমে না। আর কিছু অপরাধী টাকার জোরে বা নেতার জোরে বার বার অপরাধ করেও ছাড়া পেয়ে যায়। হ্যা, এটাই বাস্তব। এমনকি সমাজের কোনো সন্ত্রাসী যখন কোনো নিরীহ মানুষের সাথে অন্যায়ভাবে অপরাধ করে ও আঘাত করে। তখন এই সমাজের বেশীর ভাগই মানুষ দেখে না দেখার জন্য ভাব করে, নিশ্চুপ থাকে প্রতিবাদ করে না। আর সন্ত্রাসী তো দিনে দিনে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠে। যখন ওই নিশ্চুপ মানুষকে সন্ত্রাসী আঘাত করে তখন বলে সেই দিন কেন প্রতিবাদ করিনি। অপরাধী হওয়ার পূর্বে কখনও তাকে বলা হয় না- তুমি কেন সন্ত্রাস করছো, অপরাধ করছো, নেশা মাদকে আসক্ত হয়েছো? অথচ- ভালো আচরণের মধ্য দিয়ে একজন অপরাধীকেও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমরা কি কখনও তা করেছি? যখন কেউ অপরাধ করে তখন কী কারণে অপরাধে জড়িত হচ্ছে তার কারণ খুজে বের করে অপরাধীদের সাথে কাউন্সিলিং করে তার মনের কথা শুনে ভাল পথে আনা সমাজের সবার দায়িত্ব। সরকারের উচিত বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় মনোবিজ্ঞানের ধারা কাউন্সিলিং সেন্টার খোলা। সেখানে কিছু কর্মি রেখে প্রতিটি এলাকায় সমাজে বিদ্যমান ব্যক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে কাউন্সিলিং সেন্টারে সেবা নেওয়ার জন্য আগ্রহ পোষন করা, সমাজ সচেতনের জন্য সচেতনমূলক বিভিন্ন বিষয়ের সচেতনমূলক কার্যক্রম করা। যে যেই ধর্মের থাকুক তাকে সেই ধর্মের প্রতি মনোভাব বিশ্বাস তৈরী করা। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলে বন্দিদের জন্য তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় করতে, তার অপরাধকে বুঝিয়ে দিয়ে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে একটি আদর্শ শোধনাগার তৈরী করা আবশ্যক মনে করি। এতে অপরাধীরা অপরাধ করে একবার জেলে গেলে শোধনাগার থেকে ভাল শিক্ষা পেয়ে বাহিরে আসলে সে আর কখনও অপরাধ করবেনা, তার মনোজগৎ ভাল পথে কাজ করবে।

সিডি/মুক্তমত/২২ মে ১৯/নাঈম-১৬

 

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল