আসুন ঐক্যবন্ধ ভাবে সংকট মোকাবেলা করি

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০

আসুন ঐক্যবন্ধ ভাবে সংকট মোকাবেলা করি

পারভীন বেগম:
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কে মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বছরের নভেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া এই ভাইরাস এখন সারা বিশ্বের আতঙ্ক। এর প্রাদুর্ভাব এখন ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। মহামারি ঠেকাতে নানা দেশ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোয়ারেন্টিন–সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বাতিল হয়েছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। লাখ লাখ কোটি টাকার লোকসান। এই ভাইরাস কেবল স্বাস্থ্যে মারছে না, অন্নেও মারতে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের শেয়ার ও তেলের বাজারে ধস নেমেছে। বছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কত কমবে, তাই নিয়ে এখনই শুরু হয়ে গেছে হিসাব-নিকাশ। সব মিলিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে বিশ্ব।প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। তার আক্রোশ পারমাণবিক বোমার ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে বিশেষ কম নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর জুলুম করার ফলে মানুষের সমাজে নতুন নতুন ধরনের বিপদ আসে, যা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ কঠিন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, দাবানলের মতো নতুন রোগের মহামারি বিশ্ববাসীকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।

কী কারণে নতুন নতুন ভাইরাসের দ্বারা মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটছে, তা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলতে পারবেন। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর তা মোকাবিলা করা শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাজ নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেকের ভূমিকা রাখতে হয়। সম্মিলিতভাবে এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্ববাসী। বাংলাদেশে যদি বিশ্বের অন্য দেশের মত ভাইরাসের সংক্রমণ হয় তাহলে কী অবস্থা হবে। ডেঙ্গু নিয়ে যা দেখেছি, অবস্থা খুব একটা সুবিধাজনক ঠেকছে না। আমাদের দেশে না আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়াগনোসিস করার ব্যবস্থা, না আছে প্রশিক্ষিত জনবল। হাসপাতালগুলোর অবস্থা আমরা কমবেশি সবাই জানি। ইনফেকশন প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এসব ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থার কথা নাই বললাম।

এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন চিকিৎসক ও হাসপাতালের অন্য কর্মীরা। তাঁদের প্রোটেকশনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি আমার জানা মতে। এসব ব্যাপারে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একবার যদি আক্রান্ত হয়ে পড়ি আমরা, এই দেশ মৃত্যুপুরি হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ছাড়া উপায় নেই। প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে সব সময় উত্তম। আর একটি মহল এই সংকটে কাজে লাগিয়ে নিজ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা লিপ্ত। করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিত্যপণ্যের কেনাকাটা বেশ বাড়ছে বাজারে। অনেকে মাত্রাতিরিক্ত কিনছেন। তাদের আশঙ্কা দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে আগেই কিনে মজুদ করছেন। যদিও সরকার ক্রেতাদের আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে। তার পরও বাজার বেশ অস্থির। এটা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এদিকে নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের ধরতে বাজারে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন স্থানে টিম গঠন করে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালায়। অভিযানে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন অমান্য করায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।এদিকে বাজার থেকে অতিরিক্ত পণ্য কিনে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এর পরেও পণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনা আতঙ্ককে পুঁজি করে চালের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী কারসাজি করে চালের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রেতাদের জন্য ওএমএসে (খোলাবাজারে) চাল বিক্রি চলছে। সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সিলেট নগরীর খুচরা বাজার ও সুপারশপগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। পণ্যের মূল নিয়ে বিশেষ শর্তকতায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের এই ক্লান্তি কালে দেশের মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। অসকল অবৈধ প্রন্তা বন্ধ করে আতংক গ্রস্থ মানুষের মনে সাহস যোগাতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশের এই সংকট মোকাবেলা করি।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল