ইউপি নির্বাচন: ‘উন্নয়ন’ বনাম ‘ইলিয়াস গুমের প্রতিবাদ’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইউপি নির্বাচন: ‘উন্নয়ন’ বনাম ‘ইলিয়াস গুমের প্রতিবাদ’

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০১৬

ইউপি নির্বাচন: ‘উন্নয়ন’ বনাম ‘ইলিয়াস গুমের প্রতিবাদ’

elis aliআওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করতে ভোটারদের বলা হচ্ছে, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিন।’ সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর) জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকায় দলের প্রার্থীর প্রচারণায়ও ‘চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে’ ভোট চাওয়া হচ্ছে। আর বিএনপির প্রার্থীদের মুখে শুধু এক কথা,‘ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদ জানাতেই ভোট দিন।’

৭ মে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ছয়টি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দেওকলস ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ছয়টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল মনোনীত ও স্বতন্ত্র ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল জালাল, খেলাফত মজলিসের আবদুল মতিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছয়ফুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লামাকাজীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কবির হোসেন ধলা মিয়া, আওয়ামী লীগের শাহনুর হোসাইন, জাতীয় পার্টির এ কে এম দুলাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন।
খাজাঞ্চীতে উপজেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের শংকর চন্দ্র ধর, বিএনপির তালুকদার গিয়াস উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির রুবেল আহমদ আফছল ছাড়াও শিব্বির আহমদ, আবদুস ছত্তার ও পীর লিয়াকত হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অলংকারীতে আওয়ামী লীগের রফিক মিয়া, বিএনপির আবদুল হক, জাতীয় পার্টির ছালেহ আহমদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাজমুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রামাপাশায় আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলমগীর এবং বিএনপির জয়নাল আবেদীন ছাড়াও আজিজুর রহমান ও বশির আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের আমির আলী, বিএনপির হাফিজ আরব খান, জাতীয় পার্টির সাইদুর রহমান ছাড়াও আছাব উদ্দিন, বাবুল মিয়া ও খালেদ আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথ। তাঁর গ্রামের বাড়িও বিশ্বনাথের রামধানায়। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সন্ধান দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ উত্তপ্ত ছিল বিশ্বনাথ। সড়ক অবরোধ, টানা হরতাল কর্মসূচি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের তিন কর্মী নিহত হন।
এ আন্দোলনে তখন দল ছাপিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা মুখ্য ভূমিকা পালন করায় বিশ্বনাথের সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানকে একসঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। পরে অবশ্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত হয়েছিল।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বরখাস্ত হওয়া সেই সাত চেয়ারম্যানই এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। ইলিয়াস অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি থাকায় তাঁদের প্রচারণায় ‘ইলিয়াস গুম ইস্যু’ আবার আলোচনায় আসে। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীরও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর মুখেও ভোট দিয়ে ইলিয়াস গুমের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান রয়েছে।
এদিকে গত সোমবার খাজাঞ্চী ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ‘উন্নয়নের ধারা’ অব্যাহত রাখতে দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই রকম নির্বাচনী প্রচারণা চালানো প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রধান বাস্তবতা হচ্ছে উন্নয়ন। এখানে শুধু রাজনীতি চলবে না। তা ছাড়া চলমান সব উন্নয়ন তো সাংসদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তাই চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চাওয়ার কথা বলা বাস্তবিকই বলা চলে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন বলেন, ‘ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গ অমীমাংসিত একটি বিষয়। সাধারণ ভোটাররা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ইলিয়াস প্রসঙ্গ আলোচনায় আনছেন। ভোটারদের তুষ্ট করতেই মুখে মুখে এ বিষয়টি প্রচারণায় এনে আমরাও বলছি ইলিয়াস গুমের প্রতিবাদ জানাতেই ভোট দিন।’