ইভিএমে সন্তুষ্ট বড়লেখার ভোটাররা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইভিএমে সন্তুষ্ট বড়লেখার ভোটাররা

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০

ইভিএমে সন্তুষ্ট বড়লেখার ভোটাররা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বড়লেখা মুহাম্মদিয়া আলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে একজন ভোটারকে ইভিএমে ভোট দেওয়ার নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল সাড়ে ১০টা। মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়লেখা সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রে মক (অনুশীলনমূলক) ভোট দিতে এসেছেন হাটবন্দ এলাকার রুবেল আহমদ। ইভিএমে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও ভোট দেওয়ার পর ভালো লেগেছে তার।

রুবেল আহমদ বলেন, ‘প্রথমে চিন্তায় আছলাম। ইভিএমে ভোট কিলা অইবো। মক ভোট দিয়া মনে অইল ইভিএমে জাল ভোট দেওয়ার কোনো লাইন নাই। আমি একবার দিলাম। কোনও অসুবিধা হয়নি। আবার দেওয়া যায়-নি চেষ্টা করলাম। মেশিনে ভোট নেয়নি। লেখা উঠল আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এই পদ্ধতিতে সুষ্ঠু হবে বলে মনে হচ্ছে।’

শুধু রুবেল আহমদই নন, তার মতো যারা ভোট দিয়েছেন সকলেই সহজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা।

প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে বড়লেখায় ভোট নেওয়া হবে আগামী সোমবার (২৮ ডিসেম্বর)। তবে এর আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুশীলনমূলক (মক) ভোট অনুষ্ঠিত হয় শনিবার (২৬ ডিসেম্বর)। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পৌরসভার ১০টি ভোটকেন্দ্রে পৃথকভাবে অনুশীলনমূলক (মক) ভোট আয়োজন করা হয়। এসময় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ভোটারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ১০টি কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ভোটার মক (অনুশীলনমূলক) ভোট দিয়েছেন।

দুপুরে ১টা। শহরের ৪ নম্বর ওর্য়াডের বড়লেখা মুহাম্মদিয়া আলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মক ভোট দিতে ভোটারের দীর্ঘ লাইন। এ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে মক ভোট দেন ভোটাররা।
এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নারী ভোটার আলেয়া বেগম বলেন, ‘মেশিনের ভোট টা ভালা লাগের। আমার ভোট অন্য কেউ দিতে পারতো নায়। আগে কয়েকটা ভোটে ভোট দিতাম পারছি না। আইয়া দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। ইবার মনে অর সঠিক ভোট দিতাম পারমু।’

দুপুর দেড়টার দিকে মক (অনুশীলনমূলক) ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন জেলা নির্বাচন ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান।

বড়লেখা সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে একজনের ভোট আরেক জনেরও দেওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্র দখল করেও ভোট দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই ইভিএম পদ্ধতিতে।’

জানতে চাইলে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ অনুশীলনমূলক ভোটে মানুষের ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। ১০টি কেন্দ্রে প্রায় দেড় হাজার ভোটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।’

বড়লেখা পৌরসভার ভোটকেন্দ্রগুলো হলো গাজিটেকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়লেখা সরকারি কলেজ, ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়লেখা মুহাম্মদিয়া আলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বড়লেখা মডেল স্কুল, নারী শিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিংহগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথারিয়া ছোটলিখা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হিনাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবাদুর রহমান টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ।

বড়লেখা পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৬ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৫২৩ জন ও নারী ভোটার হচ্ছেন ৭ হাজার ৯২০ জন। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। ভোট কক্ষের (বুথের) সংখ্যা ৪৩টি।

জেলা নির্বাচন ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মক (অনুশীলমূলক) ভোটে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ইভিএমের ভোটে মানুষের আগ্রহ আছে। এর আগে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রদানে উৎসাহ এবং প্রশিক্ষণ দিতে কয়েকদিন নানাবিধ প্রচার ও প্রদর্শনী করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ভোটারদের প্রশিক্ষণ দিতেই অনুশীলনমূলক (মক) ভোট উদ্যোগ। এ অনুশীলনের মাধ্যমে ভোটারদের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়া হয়েছে। কীভাবে ইভিএমে ভোট দেওয়া যায়, তা শিখেছেন ভোটাররা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’