ইলাশপুরের গেদন ভাইয়ের কাচ্চি রেস্টুরেন্টে এক কাপ চা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইলাশপুরের গেদন ভাইয়ের কাচ্চি রেস্টুরেন্টে এক কাপ চা

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৭

ইলাশপুরের গেদন ভাইয়ের কাচ্চি রেস্টুরেন্টে এক কাপ চা

সিলেটের দক্ষিন সুরমার ইলাশপুরের গেদন মিয়ার রেস্টুরেন্টে চায়ের নিমন্ত্রণ টা পেয়েছিলাম অনেক আগেই। যাচ্ছি যাচ্ছি করে আর যাওয়া হয়ে উঠেনা। অবশেষে হৃদয়ে ৭১ এর মহাপরিচালক ইব্রাহীম আহমদ জেসির নিমন্ত্রণ পেয়ে এবার আর সোযোগটা হাতছাড়া করতে পারলাম না। স্নেহাস্পদ আহসানুল হক শুভ ও মুক্তিযুদ্ধা তনয় আপন মিয়াঁ কে নিয়ে সন্ধা ৭টায় রয়ানা হই। যদিও তেতলীর সালেহ আহমদ কে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু পরে তার ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সে সহযাত্রী হতে পারেনি। জেসি বারবার মোঠোফোনে জানতে চাচ্ছেন কতদুর এলাম। যাক ৭ টা ৩০ মিনিট নাগাদ গিয়ে পৌছাই, সেখানে পৌছে দেখি ইতিমধ্যে আমাদের জন্য অপেক্ষমান নব নির্বাচিত দক্ষিন সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ডালিম চৌধুরী ও এমাদ।তাদের সাথে কুশল বিনিময় শেষ করেই যেতে হয় সহযুদ্ধা ইব্রাহীম আহমদ জেসির মাতামহ মরহুম আলহাজ্ব মকদ্দস আলী সাহেবের বাড়িতে। সেখানে স্তানীয় যুবসমাজ ও তরুন দের সাথে কথা হয় এই এলাকার বিভিন্ন বিষয় ও নামকরণ নিয়ে। সেই সময় আড্ডায় শরিক হন আমার ছাত্র জাকির। ইলাশপুরের কৃতী ফুটবলার লুতফুর বললেন তাদের ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রম। যুব সংগঠক ফয়সাল জানালেন তাদের এলাকার ভ্রাতৃত্ববোধের নেপত্যকাহীনী। ঠিক তখনই ছোট ভাই রুবেল গরম গরম মসল্লা মাখা আলু সিদ্ধ নিয়ে আসল। আমার সহযাত্রী শুভ তখন মহাখুশি সে আবার এই আইটেম টা খুব পছন্দ করে। যাই হউক আড্ডায় তখন শরিক হলেন সরকারি কর্মকর্তা কামরান,যিনি এলাকার তরুন দের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সাহায্য করে থাকেন। তিনি শুনালেন কিভাবে তারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেন?কারা সাহায্য করে? এবং আরো অনেক কিছু। তার সাথে আসা নওশাদ বললেন ভাই আমরা এলাকার বিষয় এলে দল মত ভুলে যাই। শুনে ভাল লাগল, যদিও মনে মনে ভাবলাম আহারে সারা বাংলাদেশটা যদি এমন হত। এমন সময় জেসির মাতামহী চায়ের সাথে স্পেশাল নুডুলস পরিবেশন করলেন, কি বলব সেই স্বাদ!। আপ্যায়ন পর্ব শেষে যাত্রা করলাম গেদন মিয়ার কাচ্চি রেস্টুরেন্টের চায়ের স্বাদ নিতে। পথে গেদন মিয়ার সাথে দেখা জেসি ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন। আহা বেচারা কি খুশি আমি তার চা খেতে এসেছি শুনে। নিজে আমাকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে গেলেন তার বসার যায়গায়। মানুষ আর মানুষ দাঁড়ানোর যায়গা নাই,তারপর ও আমাদের সবাইকে চা খাওয়ালেন। প্রথম চুমুক দিতেই বুজতে আর বাকি থাকলনা কেন এই এলাকায় গেদন ভাই এত জনপ্রিয়। এই এলাকায় “কিশোর, যুবা,বয়স্ক সবার আড্ডার কেন্দ্র কেন এই রেস্তোরাঁ? সেখানে চা খেতে খেতে নওশাদ শুনালেন পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি কিভাবে নিজ জমিতে কৃষি পন্য চাষ করেন।আগ্রহ প্রকাশ করলেন দেখে আসার জন্য। মানা করতে পারলাম না। অবাক হলাম শহর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দুরের এই গ্রামের ছেলেগুলো কত কর্মঠ ও উদ্যোগী। অতচ আমাদের অনেককেই পাশের দুকানে পাঠাতে হলে বাবা মায়ের কত অনুরাগ দেখাতে হয়। যাই হউক পরে যেতে হল সেখানকার গড়াগড়ি রেস্টুরেন্ট দেখতে। এই নামকরনের কারন এখানে একটি চৌকী রয়েছে যেখানে শুয়ে বা বসে খাবার অর্ডার দেওয়া যায় বিশ্রাম নেওয়া যায়, তাই তারা মজা করে নাম দিয়েছে গড়াগড়ি রেস্টুরেন্ট। ভাল লাগল রেস্তোরাঁর মালিকের সাথে আলাপ করে। যদিও শুভ তাড়া দিচ্ছিল ফেরার। কি আর করার অসম্ভব ভাল কিছু সময় কাটানোর পরে ফিরে আসলাম ঠিক ই কিন্ত গেদন মিয়ার চা আর কামরান দের ভালবাসার ইলাশপুরের গল্পটা না শেয়ার করে পারলাম না।

রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল

সমন্বয়ক সাপ্তাহিক হৃদয়ে ৭১ পাঠচক্র