ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করে বিপ্লবী চেতনায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করে বিপ্লবী চেতনায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করে বিপ্লবী চেতনায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে

নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক: নতজানু এবং সেবাদাসী সরকার দিয়ে জনগণের দাবি আদায় করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সরকারের কোনো ভিত্তি নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে অন্যের উপর নির্ভরশীল। এই নতজানু এবং সেবাদাসী সরকার দিয়ে জনগণের অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যখন ভারত সরকার বলে তিস্তা চুক্তি হবে না, তখন তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলতে পারতেন আমিও অন্যান্য চুক্তি করবো না। সে কথা তিনি বলেননি। তার সেই শক্তি নেই। বরং তিনি নতজানু হয়ে অন্যান্য সকল চুক্তি স্বাক্ষর করে এসেছেন।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গুম (নিখোঁজ) হওয়া এম ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট বিভাগ সংহতি সম্মিলনী এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন এই কষ্টের দিনে শপথ গ্রহণ করি- যে কোনো মূল্যে আমাদের গণতন্ত্র ও অধিকারকে ফিরিয়ে আনবো। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবো। কারণ এই সরকার করবে না। তারা তিস্তার পানি আনবে না। আনার ক্ষমতা নেই। তাদের গণভিত্তি নাই। ভারতের সাথে ধরকষাকষির ক্ষমতা নাই।’

তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করে নয়, কারণ ইলিয়াস আলী আছেন, ফিরে আসবেন। তার পথকে অনুসরণ করে বিপ্লবী চেতনায় আন্দোলনে যাই এবং সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আসি।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আবারও বলছি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন চাই। সেই নির্বাচন দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে খুঁজে না পাওয়ার ব্যাথা-বেদনা ভুলে যাবার নয়। কিন্তু এ ব্যাথা, আমাদের নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। যেখানে কেন জানি না আজকে আমরা বার বার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছি। সেখানে একটি গণবিচ্ছিন্ন সরকার যাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় টিকে থাকার তারা ক্ষমতায় টিকে আছে? এই জায়গাগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু এক ইলিয়াস আলী নয়, হিসাব মতে ২হাজারের অধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ৫শত অধিক ইলিয়াস আলী গুম হয়ে গেছে। এই ঢাকা মহানগরে প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী এবং সারাদেশে ৫০০-এর অধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। অনেকে পঙ্গু হয়ে গেছে, মামলা আর আসামির তো কোনো সংখ্যাই নাই। জানি না এরা কবে আসবে, নাকি আসবে না। সরকার এখনও অস্বীকার করে। কিন্তু একথা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে কোনো খবর নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী যে দিন গুম হয়ে যান, নিখোঁজ হয়ে যান সেদিন খুব পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল সকলের কাছে, তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে এবং আশপাশে যে সমস্ত লোকজন ছিল তারাও পরিষ্কার করে বলেছিল, ইলিয়াস আলীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। অথচ সরকারের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে। তার সহধর্মিণী স্বামীকে খুঁজে পাবার আশায় প্রায় সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। এমনকি ছোট্ট মেয়েটাকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও গিয়েছেন। কিন্তু এখনও ফিরে পাননি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে আমরা (বিএনপি) অনেক শক্ত অবস্থান নিতে পারতাম। তিনি গুম হওয়ার পর অবরোধ দিয়েছিলাম যা অত্যন্ত সফল অবরোধ হয়েছিল। তারপর আস্তে আস্তে ঠেকিয়ে গেলো। এটা হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ তা ঠেকিয়ে গেছে। তারপরও কার্যকর হতো যদি আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিষয়ে বারবার আঘাত করতাম, তাগিদ দিতে পারতাম তাহলে ইলিয়াস আলীকে পাই, না পাই- সরকারের মুখোশ আন্তর্জাতিকভাবে অনেক উন্মোচিত করা হতো। এ সময় তিনি আয়োজক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিএনপি পাশে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত হয়েছি যারা তারা অনেকেই সিনিয়র নেতা যখন বক্তব্য দিচ্ছেন তখন উত্তর-দক্ষিণ বলে স্লোগান দিচ্ছি। এটা কেন? এই যে একটা অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এটাকে পরিহার করুন। বিএনপিতে উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম বলতে কিছু নাই। বিএনপি তো একটাই। আজকে আমার খুব কষ্ট হয়েছে যে, যাকে উপলক্ষ্য করে এই আলোচনাসভা তার নামে কোনো স্লোগান শুনেনি এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো দাবি কারো মুখ থেকে শুনিনি। এটা খুব দুঃখজনক।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি আমি খালেদা জিয়ার নির্দেশে নেত্রকোণা জেলাধীন হাওর অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে মানুষের যে অভূতপূর্ব আবেগ দেখেছি তাতে করে আমার কাছে এখন বিশ্বাস জন্মেছে এই মর্মে যে, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি তাহলে এই অপশক্তি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কাউয়ূম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সুলতানা আহমেদ, হেলাল খান, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, সহ-সভাপতি এমজল হোসেন পাইলট প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দীর্ঘদিন ধরে গুম (নিখোঁজ) থাকা এম ইলিয়াস আলী’র স্ত্রী তাহমিনা রুশদি লুনা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল