ইসলামের দৃষ্টিতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইসলামের দৃষ্টিতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

ইসলামের দৃষ্টিতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার

মো. আবু তালহা তারীফ

 

তথ্য মানুষের জীবনের চাহিদা মেটায়। আমরা প্রতিদিন পরিবারে, সমাজে, অফিস- দালতে, হাটে-মাঠে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমনকি পথ চলতেও তথ্যের বিনিময় করি। সংবাদপত্রে, অনলাইন পত্রিকায়, টেলিভিশনে ও বেতারে জনগণের উদ্দেশে তথ্য প্রচার করা হয়। তথ্য অধিকার আদান-প্রদান সংরক্ষণ কীভাবে করতে হবে, সে বিষয় সম্পর্কে ইসলামে রয়েছে ব্যাপক নির্দেশনা। তথ্য প্রকাশের জন্য নিজেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রকাশ করতে হবে। সামান্য জেনে তথ্য প্রকাশ করলে সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্তরে ভয় নিয়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে। নিজ কানে শুনে, চোখে দেখে, তথ্য প্রমাণ করে অন্যের কাছে প্রকাশ করা জরুরি। যেহেতু আমাদের আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর- এর প্রতিটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৩৬।

অন্যের দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে বিশ্বাস করতে হবে। হতে পারে কেউ আপনাকে ভুল তথ্য দিয়ে সমস্যায় ফেলতে চাইছে। আপনাকে মুহূর্তে পরাজিত করে অপমান করতে চাইছে। ভুল তথ্য দিয়ে কেউ আপনার সঙ্গে অন্যের সম্পর্ক নষ্ট করার অপেক্ষায় রয়েছে। একটি ভুল তথ্য বিশ্বাস করে আপনি পরাজিত হতে পারেন। একটি ভুল তথ্যের কারণে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে। উহুদের যুদ্ধে কাফির-মুশরিকরা ভুল তথ্য ছড়াল- রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত নেই। ভুল তথ্য শুনে সাহাবিরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় যুদ্ধ বন্ধ করে দিলেন। নবীকে খুঁজতে বের হলেন। কোথায় দীনের নবী? এজন্যই আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা সে বার্তা পরীক্ষা করে দেখবে যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়।’ সুরা হুজুরাত, আয়াত ৬।
তথ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মারাত্মক অন্যায়। মিথ্যা কথা বলে তথ্য প্রকাশ করা ইসলাম নিষেধ করছে। ইসলাম কাউকে মিথ্যা শিক্ষা দেয়নি। মিথ্যাকে কবিরা গুনাহ বলা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের কবিরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? কথাটি তিনি তিনবার বললেন। সাহাবিরা বলেন, হ্যাঁ, বলুন। অবশেষে তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া। এরপর তিনি হেলান থেকে সোজা হয়ে বসে বললেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা।’ বুখারি।

একটি তথ্য উপস্থাপন করতে হলে অবশ্যই সুন্দর, সাবলীল, যুগোপযোগী মিষ্টি ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন