ইয়াবা ব্যবসায়ী তোতা আওয়ামী লীগের সভাপতি: ফুঁসে উঠছে কানাইঘাট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ইয়াবা ব্যবসায়ী তোতা আওয়ামী লীগের সভাপতি: ফুঁসে উঠছে কানাইঘাট

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

ইয়াবা ব্যবসায়ী তোতা আওয়ামী লীগের সভাপতি: ফুঁসে উঠছে কানাইঘাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইয়াবা ব্যবসার আসামী তিনি। বর্তমানে কারাবন্দী। এই কারাবন্দী অবস্থায়ই কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি হলেন তিনি। এই আলোচিত এই ব্যক্তির নাম তোতা মিয়া। গেলো বৃহস্পতিবার বিকেলে কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তোতা মিয়া। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তোতা মিয়া একাধিক মামলার আসামী, চিহ্নিত চোরাকারবারি এবং মাদক ব্যবসায়ী।
লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি কমপ্লেক্সে প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কাউন্সিলারদের ভোটে ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণার পর পাল্টে যায় কানাইঘাটের দৃশ্যপট। তোতা মিয়ার অনুসারিরা এ সময় মিষ্টি মুখ বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করলেও প্রতিদ্বন্দ্বি অপর দুই প্রার্থীসহ অন্যন্যরা বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন। ইউপি আ’লীগের বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন সহ অপর দুই প্রার্থী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালিক ও বোরহান উদ্দিন মোহরী আপত্তি তোলে এ সময় কাউন্সিলে বক্তব্য রাখেন।
এ ঘটনায় ভোট গ্রহন পরবর্তী ফলাফল বর্জন করে সম্মেলন স্থল থেকে বেরিয়ে যান তারা। সভাপতি পদে প্রতিদন্ধিতাকারী আব্দুল খালিক সহ অপর দুই প্রার্থী জানান, কারাবন্দী বিজয়ী প্রার্থী, মাদক মামলার আসামী তোতা মিয়ার বিষয়ে সম্মেলন আয়োজন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সিলেট জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলালের কাছে তুলে ধরা হয়েছে সম্মেলনের আগেই। এ সময় তারা বলেন, বিষয়টি অবগত করার পরও কোন অদৃশ্য কারণে বিভিন্ন মামলার আসামী তোতা মিয়া জেল হাজতে থেকে সভাপতি প্রার্থী হলেন- বিষয়টি আমাদের বোধোগম্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বৃতি নিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা- কোনো চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, একাধিক মামলার আসামী কোনো ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত করা হবেনা, সেখানে কানাইঘাটে যাদের প্রত্যক্ষ মদদে মাদক ব্যবসায়ীকে সভাপতি নির্বাচিত করা হলো-তা কানাইঘাট বাসী জানতে চায়। নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সিলেট জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে তোলে ধরে অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যতায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোসহ আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দিবেন বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
ইউপি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীও বিক্ষোভের সুরে জানিয়েছেন-সম্মেলন হয়নি, এখানে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। কালো টাকার বিনিময়ে রাতের অন্ধকারে সবকিছুই সেরে ফেলা হয়েছে। অধিকাংশ কাউন্সিলারদের ভোট তোতা পরিবারের সদস্যরা কালো টাকার মাধ্যমে কিনেছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনার পরও তোতা মিয়ার প্রার্থীতা বাতিল না হওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা।
সম্মেলনে ইউপি আ’লীগের আহ্বায়ক ফখর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম উদ্দিন মেম্বারের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, স্বাস্থ্য ও পরিসংখ্যান বিষয়ক সম্পাদক ডা. আরমান আহমদ শিপলু, উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ, জেলা আ’লীগের সদস্য কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, এডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম,পৌর আ’লীগের আহ্বায়ক উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক যথাক্রমে এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, এডভোকেট মামুন রশিদ, রিংকু চক্রবর্তী, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা জেমসলিও ফারগুশন নানকা সহ জেলা উপজেলা ও ইউপি আ’লীগ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।