উচ্ছেদ–আতঙ্কে দুই পুঞ্জির বাসিন্দারা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উচ্ছেদ–আতঙ্কে দুই পুঞ্জির বাসিন্দারা

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৬

উচ্ছেদ–আতঙ্কে দুই পুঞ্জির বাসিন্দারা

molobebazar oppuiyyমৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার খাসিয়াদের গ্রাম নাহারপুঞ্জি-১ ও ২-এর বাসিন্দারা উচ্ছেদ-আতঙ্কে ভুগছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এক নোটিশে ১২ জুনের মধ্যে তাদের পানগাছ অপসারণ করে ভূমির দখল ছেড়ে দিতে বলেছে। অথচ এ দুই পুঞ্জি নিয়েই মামলা আছে।
নাহারপুঞ্জি-১ (আসলমপুঞ্জি) ও নাহারপুঞ্জি-২ (কাইলিনপুঞ্জি)-এর বাসিন্দারা বলেন, গত ৩০ মে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি উচ্ছেদ নোটিশ দুই পুঞ্জিপ্রধানের কাছে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের কাছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দুটি প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদনে তাঁরা এ ভূমি দখলমুক্ত করতে আবেদন জানান। প্রতিবেদন দেখে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত হয়েছেন নাহারপুঞ্জি-১ ও ২ সরকারি মালিকানাধীন ভূমি। এ ভূমি অবৈধভাবে দখল করে পান চাষ করা হচ্ছে।
১২ জুনের আগে পানগাছ অপসারণ করে বাসিন্দাদের ভূমির অবৈধ দখল ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি দখলমুক্ত না করলে নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে তাঁদের উচ্ছেদ করা হবে। নোটিশে ভূমির পরিমাণ ১৫০ একর বলা হয়েছে।
নাহারপুঞ্জির-১-এর মন্ত্রী ডিবারমিন পতাম গতকাল রোববার বলেন, উচ্ছেদ নোটিশের কথা জানার পর থেকে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। এত মানুষ কোথায় যাবে, কী করবে—এখনো কিছু বুঝতে পারছেন না।
ডিবারমিন বলেন, নোটিশে পান চাষের কথা বলা হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগে তাঁরা এখানে পান চাষ শুরু করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ইউনিয়ন কর পরিশোধ করছেন। এখানে ৪০টি পরিবারের প্রায় ২৫০ জন মানুষ আছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাসের কারণে এই জায়গার মালিকানা দাবি করে তাঁরা ২০১২ সালে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটি বিচারাধীন। কিন্তু নোটিশে মানুষ ও মামলার বিষয়টি আড়াল করা হয়েছে।
নাহারপুঞ্জি-২ এর মন্ত্রী পেরলি সুরং বলেন, ‘আমরা পুঞ্জির মানুষ আতঙ্কে আছি। যুগ যুগ ধরে আমরা এখানে আছি। আমার জন্ম-কর্ম এখানে। ৫০-৬০ বছর আগের এই পুঞ্জি আমার বাবার আমলের।’ তিনি আরও বলেন, নাহারপুঞ্জি-২-এ ৫৪টি পরিবারের বাস। জনসংখ্যা প্রায় ২৫০ জন। এ পুঞ্জি নিয়েও একটি দেওয়ানি মামলা আছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, শ্রীমঙ্গলের ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছ থেকে উচ্ছেদ নোটিশ পেয়েছে প্রশাসন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই ভূমি নিয়ে মামলা থাকে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার বিষয়টি ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের নোটিশে ছিল না। বিষয়টি জানতে তাঁদের চিঠি দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল