উত্তরবঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল জেএমবি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উত্তরবঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল জেএমবি

প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

উত্তরবঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল জেএমবি

সিলনিউজ ডেস্ক : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার উকিলপাড়ায় আত্মসমর্পণ করা চার জঙ্গি উত্তরবঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে জঙ্গি সংগঠন কাজ করছিল। উকিলপাড়ায় জঙ্গিরা মাসিক সভার জন্য মিলিত হয়েছিল। সেখান থেকে আমরা চার জনকে পাই। এই এলাকায় তাদের একটি অস্থায়ী আস্তানা আছে সে তথ্য আমাদের কাছে ছিল। কিন্তু বাসা সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার মাহমুদকে গত রাত ১১টার দিকে রাজশাহী থেকে আটক করা হয়। ভোররাত ৪টার দিকে তাকে নিয়ে আমরা উকিলপাড়ার বাড়িটি শনাক্ত করি। সে সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গি সদস্যরা চার-পাঁচ রাউন্ড ফায়ার করেছে। ২০-২৫ দিন আগে তারা বাসাটা ভাড়া নেয়। তাদের মূল কৌশল হচ্ছে তাবলিগের ছদ্মবেশে এলাকায় থাকা এবং আড়ালে জেএমবি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ করা চার জন হলেন— জেএমবি’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কিরণ ওরফে শামীম ওরফে হাবিব (২২), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাইমুল ইসলাম, দিনাজপুরের আতিউর রহমান ও সাতক্ষীরার আমিনুল ইসলাম শান্ত। তারা স্বীকার করেছেন তারা জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজশাহী থেকে জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার জুয়েল আলী ওরফে মাহমুদ, খুলনার আশরাফুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলিফ হোসেন, সাতক্ষীরা জুয়েল শেখকে আটক করা হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত থাকায় মাহমুদ আগেও জেল খেটেছেন। জামিনে বের হয়ে আবারও জেএমবিতে যোগ দেন।

উকিলপাড়ায় আরও কিছু জঙ্গি সদস্যের আসার কথা ছিল। কিন্তু নেতৃত্ব স্থানীয় এক জনের নির্দেশে বাকিরা আসেননি। এখানে তাদের অস্ত্র বা গোলা-বারুদের আস্তানা নেই। এখান থেকে মূলত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। বাড়ি সার্চ করে বোমা তৈরির বই, জিহাদি বই পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, দুটি বিদেশি পিস্তল, বিয়ারিং বল, গান পাউডার, ডেটোনেটর, ফিউজ, ক্যাবল, সার্কিট, রড কাটার, জিহাদি বই, বিভিন্ন নির্দেশিকা, একটি চাপাতি, দুটি রামদা ও কয়েকটি ব্যাগ পাওয়া গেছে— বলেন মোস্তফা সারোয়ার।