উদ্বোধনের আগেই দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুতে ফাটল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উদ্বোধনের আগেই দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুতে ফাটল

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৭

উদ্বোধনের আগেই দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুতে ফাটল

ভৈরবের মেঘনা নদীতে নবনির্মিত দ্বিতীয় রেলসেতুটি উদ্বোধনের আগেই এতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে গেছে অন্তত তিনটি পিলারের পাশের কিছু অংশ। অথচ এসব ব্যাপারে জানে না সেতুসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বুধবার এই প্রতিনিধি ফাটলের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সেতুর প্রকল্প পরিচালক ( পিডি) আবদুল হাই প্রথমে অবাক হন। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এর পরপরই ভৈরব ও আশুগঞ্জ এলাকায় কর্মরত প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

জানা যায়, ৯৮৪ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর ৮, ৯ ও ১০ নম্বর পিলারের পসাইড ভেঙে গেছে। তার মধ্য ৯ নম্বর পিলারে ফাটলের পরিমাণ বেশি। কীভাবে সাইড ভেঙে পিলারে ফাটল দেখা দিল কেউ বলতে পারছে না।
কেউ কেউ বলছেন, মেঘনা  নদীতে চলাচলকারী কার্গো বা বড় জাহাজের ধাক্কায় পিলারের সাইড ভেঙে ফাটলের সৃষ্টি হয়। আবার কেউ বলছেন, সেতুর নির্মাণকাজ নিম্নমানের হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

সেতুর নির্মাণকাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীসহ কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন প্রকৌশলী জানান, কার্গো বা জাহাজের ধাক্কায় পিলারের সাইড ভেঙে গেলেও নিম্নমানের কাজের কারণে ফাটলের সৃষ্টি হতে পারে। ঘটনাটি তদন্ত করলেই বুঝা যাবে ঠিক কী কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে।
নতুন রেলসেতুটির পাশেই ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৭ সালে নির্মিত প্রথম ভৈরব রেলসেতুটি। তার পাশে সড়কসেতু। এই দুটি সেতুতে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি বলে জানা যায়।

উদ্বোধনের আগেই ফাটলের ঘটনায় জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে পর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না তো!

ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনির্মিত দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার মো. আবদুল হাই মোবাইল ফোনে এই প্রতিনিধিকে জানান, ‘আপনার কাছ থেকে ঘটনাটি প্রথম শুনলাম। এখনই আমি খবর নিতেছি।’ ঘটনাটি দেখতে শিগগিরই ভৈরব আসবেন এবং তদন্ত করবেন বলে জানান তিনি।
ভারতীয় ইরকন অ্যান্ড এফকনস কোম্পানি দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর নির্মাণকাজ করছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৫৬৭ কোটি টাকা। তিন বছরে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়িয়ে চার বছর করা হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতিমধ্য সেতু দিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানোর কাজও শেষ হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, আগামী মাসে সেতুটি উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরই  মধ্যে কিনা ফাটল আর ভাঙন দেখা দিল সেতুতে।

সেতুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে ট্রেন চলাচলে এক ঘণ্টা সময় কমবে এবং যাত্রীসেবা বাড়বে বলে জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।