উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ৯নং ওয়ার্ড – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ৯নং ওয়ার্ড

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ৯নং ওয়ার্ড

কানাইঘাট পৌরসভাকে যেন নিজ হাতে সাজিয়েছেন মেয়র নিজাম

আমিনুল ইসলাম কানাইঘাটঃপর্ব-৯..সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার সর্বশেষ ৯ নং ওয়ার্ডটি বিষ্ণপুর (করচটি), নিজ চাউরা (কান্দেবপুর) ও মন্দারগাম নামক পাড়া নিয়ে গঠিত। পৌরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে পল্লি এলাকার এ ওর্য়াডের চিত্র। সেই সঙ্গে বদলে গেছে ওয়ার্ডবাসীর জীবনমান। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করার অঙ্গীকার নিয়ে কানাইঘাটের পৌর পিতা নিজাম উদ্দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে অবহেলিত এ জনপদ। সরেজমিনে দেখা যায় পূর্বের তুলনায় মেয়র নিজাম উদ্দিনের আমলে এ ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শুরুতেই স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিনকে সাথে নিয়ে মেয়র নিজাম উদ্দিন কি ভাবে গ্রামীণ জনপদের এ ওর্য়াডকে সাজানো যায় তার জন্য একটি মাষ্টার প্লান তৈরী করেন। সেই অনুযায়ী তারা ধীরে ধীরে এগুতে থাকেন। এক পযার্য়ে তারা তাদের অভিষ্ট লক্ষে প্রায় পৌছে যান। গতকাল রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখ যায় কানাইঘাট-সুরইঘাট নামক গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক হতে শুরু করে বিষ্ণুপুর জামে মসজিদ বায়া বিষ্ণুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সহ রাস্তাটি টেকসই মানের সিসি ঢালাই করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর জামে মসজিদের পশ্চিম প্রান্তে অর্থাৎ মুল সড়ক হতে শুরু করে পশ্চিম মুখী আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করে ঢালাই করা হয়েছে। এই রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ফুট। রাস্তাটি পুরো গ্রাম বায়া সরাসরি নগলা ব্রীজ সংলগ্ন তামাবিল রোডের সাথে মিলিত হয়েছে। তবে ঐখানে ৩২ফুট দৈর্ঘ্যরে টেন্ডারকৃত একটি ব্রীজের কাজ বাকি রয়েছে। এই রাস্তাটি বর্তমানে ঐ এলাকার মানুষের কাছে বাইপাস রাস্তা নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ঐ রাস্তা হতে প্রায় হাজার খানিক ফুট দুরে তামাবিল রোড হতে আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করে পৌরসভার সবচেয়ে বড় অর্জন পানির প্রকল্প পর্যন্ত সিসি ঢালাই করে নেওয়া। ঐ রাস্তায়ও প্রায় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি টেন্ডার করা ব্রীজের কাজ বাকি রয়েছে। তবে অচিরেই এ ব্রীজগুলোর কাজ শুরু হবে। এ ছাড়াও বিষ্ণুপুর শহীদ মিনারের রাস্তা ঢালাই করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর করচটি গ্রামের আলা উদ্দিনের বাড়ির পাশ হতে শুরু করে আরেকটি রাস্তা একই গ্রামের আব্দুল আহাদের বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত ঢালাই করা হয়েছে। কানাইঘাট-সুরইঘাট বুরহান উদ্দিন সড়ক হতে আরেকটি রাস্তা বিষ্ণুপুর খালের পাড় হয়ে জালাল মিস্ত্রির বাড়ি বায়া করচটি গ্রামের তৈহিদ মিয়ার বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ফুট রাস্তা সিসি ঢালাই করা হয়েছে। ঐ রাস্তার মধ্যে কিছু অংশ ঢালাইয়ের কাজ সহ প্রায় ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কালর্ভাট বাকি রয়েছে। তা টেন্ডার করা হয়েছে। শ্রীর্ঘই কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। আবার বিষ্ণুপুর বাইপাস নামক নব-নির্মিত রাস্তা হতে শুরু করে প্রায় ২২’শ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি রাস্তা বিপরীত মুখী হয়ে ভানু লাল দাসের বাড়ি বায়া করচটির সংযোগ রাস্তার সাথে মিলিত করা হয়েছে। ঐ রাস্তার ১২’শ ফুট সিসি ঢালাই করা হয়েছ। বিশেষ বাধাঁয় এখনো ১ হাজার ফুট ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। বিষ্ণুপুর খালেরপাড় হতে শুরু করে আরেকটি নতুন রাস্তা সম্পুর্ণ মাটি ভরাট সহ নির্মাণ করে বিষ্ণুপুর জাঙ্গালবাড়ি কোনা জামে মসজিদ পর্যন্ত সিসি ঢালাই করা হয়েছে। এরপর বিষ্ণুপুর বড়বাড়ি নামক রাস্তার একটি অংশ কার্পেটিং করা হয়েছে। বাকি অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। এদিকে নিজ চাউরা কন্দেবপুর নামক ব্রীজ হতে শুরু করে ঐ গ্রামের জমির উদ্দিন প্রধানের পুরান বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই করা হয়েছে। আবার ঐ স্থান হতে শুরু করে মাটি ভরাট করে নতুন একটি রাস্তা বশির মিয়ার ফিসারী বায়া কান্দেবপুর গ্রামের উত্তর পশ্চিম ঘুরে পুর্ণরায় কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তার সাথে মিলিত হয়েছে। রাস্তাটি পাকা করণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার করা হয়েছে। আবার নিজ চাউরা দক্ষিণ মাদারগ্রাম জামে মসজিদ হতে শুরু করে আব্দুল হকের বাড়ি বায়া মিন্টু বাবুর বাড়ি পর্যন্ত সিসি ঢালাই করা হয়েছে। ঐ রাস্তার বাকি অংশ অর্থাৎ আজির উদ্দিন মাষ্টারের বাড়ি হতে ডগিরপাড় পর্যন্ত পাকা করণের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। মন্দারগ্রাম রাস্তার সংযোগ সংলগ্ন বিধান চৌধুরীর বাড়ি হতে বিলেরপাড় বায়া বিষ্ণুপুর বড়বাড়ি মোকাম মসজিদ পর্যন্ত সিসি ঢালাই করা হয়েছে। এবং ঐ রাস্তার আরো প্রায় ৫’শ ফুট রাস্তা ইট সলিং রয়েছে। তা অচিরেই পাকা করণের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। আবার বিলেরপাড় রাস্তা হতে শুরু করে কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন চৌধুরীর বাড়ি বায়া আরেকটি রাস্তা সিসি ঢালাই করা হয়েছে। ঐ রাস্তার সম্মুখ অংশ অর্থাৎ কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তার সংযোগ স্থল কার্পেটিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। তবে তা টেন্ডার করা হয়েছে। শ্রীর্ঘই কাজ শুরু হবে। কান্দেপুর কালর্ভাট হতে পশ্চিম মুখী সৈয়দ মিয়ার বাড়ির কর্ণারে রিং কালর্ভাট নির্মাণ করে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এলজিডি’র মাধ্যমে মেইন রোড হতে শুরু করে দুর্গা বাবুর বাড়ি বায়া পৌরসভার শেষ সীমান্ত গৌরিপুর পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর জাঙ্গাল জামে মসজিদ হতে পশ্চিম মুখী হয়ে আব্দুল মুছব্বিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সিসি ঢালাইয়ের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। একই মসজিদ হতে বিষ্ণুপুর খালের সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তাটি এলাকাবাসী ও পৌরসভার সহযোগীতায় মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তা হতে বিষ্ণুপুর গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর হাবিব মিয়ার বাড়ি বায়া একই গ্রামের ইযাহিয়া তানজিলের বাড়ির রাস্তাটি পাকা করণের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর ইসলাম মিস্ত্রির দোকান হতে শুরু করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারের বাড়ি বায়া বিলেরপাড় পর্যন্ত রাস্তাটিও পাকা করণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী ও পৌরসভার সহযোগীতায় আরেকটি দীর্ঘ রাস্তা কান্দেবপুর ব্রীজ হতে শুরু করে পুরো গ্রাম বায়া মাটি দিয়ে নির্মাণ করে সুরইঘাট-কানাইঘাট রাস্তায় সংযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে রাস্তাটি পাকা করণের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। নিজ চাউরা কান্দেবপুর ব্রীজ হতে পুর্বমুখী আরেকটি রাস্তা এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মন্দারগ্রাম জামে মসজিদ পর্যন্ত মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মাটি ভরাট করে মন্দারগ্রাম মিন্ঠু বাবুর বাড়ি হতে মাষ্টার আজির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকার বিধান বাবুর বাড়ি বায়া বিলেরপাড় পর্যন্ত আরেকটি রাস্তা পৌরসভা ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কাড়াখালের উপর ব্রীজ সহ পৌরসভা ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আরেকটি রাস্তা বিষ্ণুপুর বড়বাড়ি সংযোগ রাস্তা হতে শুরু করে বিলেরপাড় বায়া সুরমা ডাইক পর্যন্ত মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রবাসী বিলাল আহমদ ও স্ট্যাম্প ভেন্ডারী আব্দুল মান্নানের সহযোগীতায় বিষ্ণুপুর পুর্ব গ্রাম হতে বিষ্ণুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ ও দুটি কবরস্থান বায়া মুল রাস্তার সাথে মাটি ভরাট করে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মাটি ভরাটকৃত প্রায় প্রতিটি রাস্তা পাকা করণের জন্য টেন্ডার করেছেন পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন। এসব রাস্তার তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন জানান তার ওয়ার্ডকে নিয়ে তিনি উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। আগামী নির্বাচনে তিনি পুর্ণরায় নির্বাচিত হলে তার অসমাপ্ত কাজগুলো তিনি সমাপ্ত করবেন। এদিকে মেয়র নিজাম উদ্দিন প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে তার প্রিয় পৌরসভাকে উন্নয়নের রোলমডেলে রূপান্তরিত করতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এই কঠোর পরিশ্রমে পল্লি জনপদের এই ওয়ার্ডে রাস্তা-ঘাটের চিত্র বর্তমানে পাল্টে গেছে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল