উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে কানাইঘাট পৌরসভা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে কানাইঘাট পৌরসভা

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে কানাইঘাট পৌরসভা

কানাইঘাট পৌরসভাকে যেন নিজ হাতে সাজিয়েছেন মেয়র নিজাম

আমিনুল ইসলাম কানাইঘাটঃ
উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা। সেই সঙ্গে বদলে গেছে পৌরবাসীর জীবনমান। ২০০৫ সালের প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার এতদিন সমস্যার অন্ত ছিলনা। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে মেয়র নিজাম উদ্দিন বিজয় লাভ করেন। পরে আনুষ্টানিক ভাবে দায়িত্ব গ্রহল করেন ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন বঞ্চিত এ পৌরসভার হাল ধরেন তিনি। এতে তার প্লান অনুযায়ী এগুতে থাকে সকল উন্নয়ন মুলক কাজ। ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে থাকে তার লালিত স্বপ্ন। একে একে কাঁটতে থাকে পল্লী জনপদের আধাঁর। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে মেয়র নিজাম উদ্দিনের হাত ধরে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে কানাইঘাট পৌরসভা। এরপর থেকে নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতি করণের আওতায় পৌরবাসীর জীবনমানসহ পৌর এলাকার পুরো চিত্র তিনি পাল্টিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে কানাইঘাট পৌর পিতা নিজাম উদ্দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় হাট-বাজারের কর ও পাবলিক হোল্ডিং কর দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে এই পৌরসভা। স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ এর ১৪ ধারা মোতাবেক পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ডে পৌরবাসীর অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়ে পৌরসভার কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে যে সকল নতুন নতুন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেছেন তা সত্যি অকল্পনীয়। সরেজমিনে গ্রামের বয়স্কদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন মেয়র নিজাম উদ্দিন যেন আগামী ৩০ বছরের কাজ এগিয়ে দিয়েছেন। এসব রাস্তার মোড়ে মোড়ে সড়ক বাতি সহ নানা উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এ ছাড়াও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে মেয়র নিজাম উদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে কানাইঘাট-শাহাবাগ রাস্তাটি মেরামত করে কার্পেটিং সহ রামপুর স্টিলের পুল নামক স্থানে ব্রীজ নির্মাণ, বারহাল ব্রীজ ও কানাইঘাট-দরবস্ত সড়কে মুরগীরপুল নামক স্থানে ব্রীজ নিমার্ণ করা হয়েছে। বর্তমানে বারহালের ব্রীজটির কাজ চলমান রয়েছে। মেয়র নিজাম উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কানাইঘাট উপজেলা গেইট হতে শুরু করে নন্দিরাই বাইপাস পয়েন্ট বায়া বায়মপুর বাইপাস পর্যন্ত বেহাল সড়কে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার কার্পেটিংয়ের কাজ বর্তমানে এলজিইডি বাস্তবায়ন করছে। এর পুর্বে এমপি সেলিম উদ্দিনের আমলে এলজিইডি’র মাধ্যমে পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তাটির কার্পেটিংয়ের কাজ করিয়েছিলেন। তাছাড়াও কানাইঘাট পৌরসভার পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনের সুরমা ডাইক মেরামত সহ পৌর এলাকায় নদী রক্ষা বাধেঁ বেশ কয়েকটি কাজ করিয়েছেন মেয়র নিজাম উদ্দিন। পৌরসভার উন্নয়নে তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমেও অসংখ্য কাজ করিয়েছেন। পৌরবাসীর সুবিধার্থে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও মানববর্জকে উন্নত সারে রুপান্তরিত করতে বড় দুটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন মেয়র নিজাম উদ্দিন। এছাড়ও পরিবেশ বান্ধব সৌরচালিত সড়ক বাতি ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু এসব নয় কানাইঘাট পৌরসভার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে শ্রেণী অনুযায়ী অসহায় মানুষকে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্দ্বী ও মাতৃত্বকালীণ শতভাগ ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছেন। তাছাড়া পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে পৌরসভার প্রত্যেক ওয়ার্ডের দরিদ্র জনগোষ্টির মহিলাদেরকে সাবলম্বী করার জন্য হাঁস মুরগী পালনের জন্য পুজির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। পুরুষদের জন্য শ্রেণী অনুযায়ী গাছের চারা, ছাগল ও মুদির দোকানের ক্ষুদ্র পুজির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মেয়র নিজাম উদ্দিন। এছাড়ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের আমলে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের বেশ কয়েটি মসজিদে তিনি ৩০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেছেন। মসজিদ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে গভীর নলকোপ স্থাপন করেছেন। প্রায় প্রতিটি মসজিদে সৌর বিদ্যুৎ লাগিয়েছেন। বর্তমানে এ ওয়ার্ডে ৩টি করে কমিউনিটি টয়লেট ও একটি করে পাবলিক টয়লেটের টেন্ডার করেছেন। এসবের মাধমে তিনি পুরো এলাকার চিত্র যেন পাল্টিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়ন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের মাধ্যমে ছোট বড় অসংখ্য প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় পৌরবাসী খুবই আনন্দিত। মেয়রের এই কর্মস্পৃহা ও আন্তরিকতায় খুশি রয়েছেন এই জনপদের সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন যে স্বপ্ন ও আকাঙ্খা নিয়ে তারা মেয়র নিজাম উদ্দিনকে নির্বাচিত করেছিলেন তা এখন বাস্তবে রুপান্তরিত হয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়র নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন তার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য দীর্ঘদিনের অবহেলিত কানাইঘাট পৌরসভাকে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত করতে চান। কানাইঘাট পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় এনে তার কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পৌরবাসী তাকে পূর্ণরায় আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত করলে পৌরসভার সকল নদী, খাল সংরক্ষণ করে লেক তৈরী করা হবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভার সকল অসমাপ্ত রাস্তা-ঘাটের কাজ সম্পন্ন করা হবে। পৌরবাসীর ঘরে ঘরে পানি পৌছে দেওয়া হবে। পৌরসভাকে আলোকিত করার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে গোটা পৌরসভা লাইটিং করা হবে। এসবের মাধ্যমে কানাইঘাট পৌরসভাকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় নিয়ে আসা হবে। ফাটাহিজল মৌজায় যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সে প্রকল্পের মাধ্যমে মানব বর্জকে উন্নত সারে পরিনত করা হবে। ইতিমধ্যে মানব বর্জন অপসারণের জন্য সকল সরঞ্জামাদি সহ জাপান থেকে গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে যার মাধ্যমে প্রতিটি বাসা বাড়ির টেংকি পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হবে। তিনি পুর্ণরায় বিজয়ী হলে সবুজ বিল্পবের মাধ্যমে কানাইঘাট পৌরসভাকে গ্রীণ পৌরসভায় রুপান্তরিত করবেন। পৌরসভার অনাবাদি সকল জমি চাষাবাদের উপযোগী করে পৌরসভার পক্ষ থেকে চাষাবাদ করে দিবেন মেয়র নিজাম উদ্দিন। এবং পৌরসভার কৃষকের জন্য সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ করে পথকলি শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্ব নেবে পৌরসভা। পৌরসভার অন্য দুটি স্কুলের মত প্রয়োজনে আরো স্কুল মাদ্রাসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। ২নং ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সহযোগীতায় কানাইঘাট মহিলা কলেজের দায়িত্ব বহন করবে কানাইঘাট পৌরসভা। ইসলামীক করিডগ্রাফি ডিজাইনে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসার বাউন্ডারীর কাজ সম্পন্ন করা হবে। উপ-মহাদেশের বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন আল্লামা আলিমুদ্দীন বড় হুজুরের লাইব্রেরীকে ইসলামিক লাইব্রেরীতে সমৃদ্ধি করা হবে। দারুল উলুম মাদ্রাসার বিল্ডিংয়ের উপর যুগপযোগী একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হবে। কানাইঘাট পৌরসভার বেকার যুব সমাজকে মানব সম্পদে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কানাইঘাট পৌরসভাকে একটি ডিজিটাল ওয়াইফাই জোনে সমৃদ্ধ করা হবে।