উন্নয়নে দেশ ভাসলেও সিলেট বিআরটিএ অফিস ভাসছে দুর্নীতিতে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উন্নয়নে দেশ ভাসলেও সিলেট বিআরটিএ অফিস ভাসছে দুর্নীতিতে

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

উন্নয়নে দেশ ভাসলেও সিলেট বিআরটিএ অফিস ভাসছে দুর্নীতিতে

সিলেট বিআরটিএ অফিসের ক্ষমতাধর এডি কে এম মাহবুব কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। যোগদানের পর থেকে সকল নিয়মকানুন পরিবর্তন, সর্বত্রই নজরদারী, ক্ষমতার দাপট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তাঁর উপরে। ফলে এডির সামগ্রীক নির্দেশ মেনে চলতে হচ্ছে সকল এমভিআই ও অফিস সহকারীদের।
বিআরটিএ অফিসে নিত্য দিনের দূর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনায় সর্বত্র আলোচনা-সমোলচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, সিলেট বিআরটিএ অফিসে প্রতিনিয়ত চলছে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি। আর এসবের জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে নির্ধারিত হারে টাকা।
সিলেট মোটর মালিক গ্র“পের জেনারেল ম্যানেজার পরিচয়দানকারী দেলোওয়ার হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, সিলেট বিআরটিএ অফিস হচ্ছে একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্টান। এ প্রতিষ্টানে সেবার পরিবর্তে গ্রাহকদের হয়রানি করাটা কাম্য নয়। তিনি বলেন, এডি যেভাবে দুর্নীতি শুরু করছেন, শীঘ্রই আমরা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনে যাবো।
তিনি বলেন, সিলেটের ৩৬০ আউলিয়ার পবিত্র ভুমিতে অতীতেও কোন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ঠাঁই হয়নি বর্তমানেও হবেনা। সাবেক এডি এনায়েত হোসেন মন্টু সিলেট বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি করে পার পাননি। তিনিও পার পাবেন না।
দেলোওয়ার হোসেন চৌধুরী বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, মোটর ডিপার্টমেন্টের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে গাড়ির কাগজ আপ-ডেট করতে প্রায়ই বিআরটিএ অফিসে আসতে হয়। গতকাল (সোমবার) একটি সিএনজি অটোরিকসার মালিকানা পরিবর্তন করতে গেলে তিনি বিড়ম্বনায় পড়েন। মালিকানা পরিবর্তন করতে গেলে যা যা কাগজপত্র তৈরী করতে হয় সবই করিয়েছেন।
অফিসে গাড়ি হাজির করে ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতিতে একজন পরিদর্শক ভেরিফাই করিয়ে দিলে ফাইল জমা দিতে ৩০৬ নম্বর কক্ষে গেলেই তিনি পড়েন বিড়ম্বনায়। বাচ্চুর ভাষায় কক্ষ থেকে এক গেটিস বের হয়ে আসলে তিনি ফাইল জমা রাখতে বলেন। কিন্তু গেটিস ফাইল জমা না রেখে জানিয়ে দেয় এখন এডি স্যার নিয়ম করেছেন মালিকানার প্রতিটি ফাইলের সাথে ২ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে।
টাকা না দিলে আপনি এডি স্যারের সাথে কথা বলে লিখিত নিয়ে আসেন। তা না হলে অফিস শেষে স্যারকে হিসেব দিতে পারবোনা। আমার চাকুরী চলে যাবে। দেলোওয়ার হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেছেন তিনি রাগ করে বিআরটিএ অফিস থেকে চলে এসে পরিবহন শ্রমিক সেক্টরের নেতাদের অবগত করেছেন। শীঘ্রই এডির প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে বিআরটিএ অফিস ঘেরাও করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অফিসের প্রতিটি সেক্টরে এভাবে টাকা দিয়ে ফাইল জমা করতে হচ্ছে। সাধারণ জনগন বিআরটিএ অফিসে এভাবে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসলেও সিলেট বিআরটিএ অফিস দুর্নীতিতে ভাসছে। এডি কে এম মাহবুব কবিরের দেশের বাড়ি গোপালগঞ্জ তাই তিনি সব সময় প্রধানমন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে দূর্ণীতি করে আসছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও তিনি মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেউ পরিচয় দিলে তিনি খেঁপে যান গিয়ে না না ধরেন কুটুক্তি করেন।
বিআরটিএ অফিসের ফিটনেস ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ আলী আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। তিনি উর্ধতন কর্মকর্তাদের কুশামুদে ব্যস্ত। নিজের ও অফিসারদের অংশ গ্রাহদের কাছ থেকে বুঝে নেন। পরে ভাগাভাগি করেন এক সাথে বসে। নিজে একজন সাধারণ ফিটনেস ক্যাশিয়ার হয়ে আজ কোটিপতি। দূর্ণীতিতে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। জানা যায়, তিনি সম্পন্ন অবৈধ ভাবে বিআরটিএ’র ফিটনেস ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছেন। তিনি ভাল দূর্ণীতিবাজ সে জন্য দীর্ঘ দিন যাবত এ পদে বহাল আছেন।
সিলেট বিআরটিএ অফিসের এডি কে এম মাহবুব কবির বলেন, বিআরটিএ অফিসে এমন ঘটনার অভিযোগ মিথ্যা। আমি যোগদানের পর সবকিছুর পরিবর্তন হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলছে। কোথাও কোন দূর্নীতি হচ্ছে না। যারা অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, বিআরটিএ অফিসে টাকা লেনদেন করার সুযোগ নেই। গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্রের নির্ধারিত ফি নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোতে জমা দিয়ে মেইন ফাইলের সাথে ব্যাংকের বিআরটিএ কপি জমা দিতে হয় এটাই নিয়ম। ফাইলের সাথে গ্রাহকদের কাছ থেকে কারা টাকা নিচ্ছে, তিনি খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল