উৎসব আমেজের নির্বাচন নির্বাসনে কেন ??? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

উৎসব আমেজের নির্বাচন নির্বাসনে কেন ???

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০১৬

উৎসব আমেজের নির্বাচন নির্বাসনে কেন ???

hhপ্রিয় ফাহাদ ভাই , অনুজ গুলজার ,মিনহাজুর রহমান রকি , নাসিফ দের কথা হল ভাই নির্বাচন নিয়ে লিখেন না কেন ? কি করে বলি আমার সব কিছুই যে ধার করা ,কেন না যে কোন বিষয়ের উপর বলতে বা লিখতে গেলে সেই বিষয় সম্পর্কে ধারনা অর্জন করতে হয় , অর্থাৎ একটু হলেও পড়াশুনা করতে হয় । আর আমার প্রিয়তমা জীবনসঙ্গিনী স্বর্ণা চৌধুরীর ভাষায় অলসের সর্দার কে দিয়ে কি অসব হয় । এখন মূল বিষয়ে আসি , আজকের বিষয় নির্বাচন। মানব সভ্যতার বিকাশ কালেই একজন বা দুই জন দলপতি নির্বাচন করে আদি মানব রা তাদের নেতৃত্বে শিকার ,শত্রুদমন ,কিংবা জীবন ধারন করত বলে জানা আছে আমাদের । এই নির্বাচন শব্দ টার উৎপত্তি এবং যাত্রা প্রাচীন গ্রীসে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে ।Election সম্পর্কে ধর্ম,মিথলজী বিষয়ক Encyclopedia man, myth’s magic এ বলা হয়েছে Election, the word derived from the Greek word eloge (choice).The idea is basic to the traditional structure of Christian theology. অর্থাৎ, ইলেকশন বা নির্বাচন শব্দটি উৎপত্তি লাভ করেছে গ্রীক শব্দ Eloge হতে, যার অর্থ ছিলো পছন্দ। সাধারণভাবে নির্বাচন বলতে বুঝায়, “একাধিক পদপ্রার্থী থেকে ভোটদানের মাধ্যমে একজনকে নির্বাচিত করা।” মূলত , নির্বাচন হচ্ছে গনতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কেননা নির্বাচনের মাধ্যমেই গনতন্ত্র বাস্তবায়িত হয়। আর নির্বাচন তখনই প্রয়োজন হয়, যখন কোন পদে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হয়। মূলকথা, গনতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে সার্বভৌমত্ব জনগনের। অর্থাৎ জনগনই হচ্ছে গনতন্ত্রের মূল অথবা গনতন্ত্রে জনগনই সকল সার্বভৌমত্বের মালিক। বর্তমান সময়ে এসে নির্বাচনের নানা দিক পাল্টে গেছে। এখন নির্বাচন হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ প্রশাসনিক কাজের জন্য একজন প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে । আধুনিক নির্বাচন বলতে এখন বোঝায় জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচন। নির্বাচন দেয়া হয় সমাজের সবার কল্যাণ সাধনের জন্য সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত ও সবার মতের প্রতিফলন ঘটাবার জন্য। আর সবার মতের প্রতিফেলনের আধুনিক এই ভোট ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয় ইংল্যান্ডে ১৬৮৮ সালে । ইংল্যান্ডে ১৬৮৮সালে বিপ্লবের পর রাজনৈতিক ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে চলে যায়। সে অনেক লম্বা ইতিহাস আমি সেদিকে যাবনা , আজকে আমার আলোচ্য বিষয় আমদের এই প্রিয় বাংলাদেশে “উৎসব আমেজের নির্বাচন নির্বাসনে কেন”??? আসুন একটু দেখে নেই আমাদের নির্বাচনের বর্তমান ,অতীত , ও ভবিষ্যৎ ।আমাদের দেশে নির্বাচন এই কিছুদিন পূর্বে ও উৎসব থেকে ও আনন্দের এবং উপভোগের বলে প্রচলিত ছিল । স্থানীয় নির্বাচন ছিল অংশগ্রহণ মূলক ও উৎসব আমেজের ক্ষেত্র । বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত । গ্রামাঞ্চলে শুধু মাত্র ভোট প্রাপ্তির জন্য প্রভাবশালী ও বৃহৎ ভোট ব্যাংক দেখে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ও রেওয়াজ ছিল । এমনকি নির্বাচনের ২-৩ মাস পূর্ব থেকেই নিকট আত্মীয় রা কাথা বালিশ নিয়ে হাজির হতেন প্রার্থীর বাড়ীতে । সাহায্য করতেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় ।অমুক মেম্বার আমার তালই কিংবা চেয়ারম্যান আমার মামা এটা পরিচয় দেওয়া ছিল এক সময় গৌরবের ।তবে আজকের বাস্তবতায় সেই আমেজ কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে । কারো করো মতে দেশে নাকি চলছে “ওয়ান পার্সন শো” । যেখানে বিরোধী দল আছে তবে তারা নাকি আবার সরকারের ও অংশ । অর্থাৎ সে দলের অনেকে আবার মন্ত্রী এমনকি খোদ দলীয় প্রধান ও মন্ত্রীর মর্যাদায় পতাকা শোভিত বাহনে চড়েন । আপনি যদি এদেশের নির্বাচনী অধ্যায় অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখবেন তা কখনওই বিতর্কের উর্ধে ছিল না । সংবিধান প্রণীত হবার পর সর্ব প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালে ।সে সময় যদিয় কোন বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বী দল ছিলনা । রাগে বা অভিমানে সে সময়ের গঠিত হওয়া নতুন দল জাসদ ছিল মুক্তিযুদ্ধ তথা বহু সংগ্রাম আর ঐতিহ্যের ধারক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মূল প্রতিপক্ষ । সে সময়ও কয়েকজন নেতা নিজস্ব বাহিনী নিয়ে জেলা ও মহকুমা প্রশাসকের কাছে কিছু প্রার্থীকে যেতেই দেন নি এবং যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উনারা পার পেতে পারেন সে ব্যবস্থা ও করেছিলেন ।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু তা অবগত হওয়ার পর বিষণ বিরক্ত হয়েছিলেন । ২য় মহাকাব্য টি রচনা করেন সেনা শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ।তার নির্বাচন অনেকটাই পাকিস্তানী ধাঁচের । কোনো প্রার্থী ছাড়াই তিনি ইতিহাসের নব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত করলেন জাঁতীকে । বসালেন দুইটি বাক্স ইয়েস বক্স এবং নো বক্স । অর্থাৎ আপনি তাকে চান কি চান না । কথিত আছে তার নিজস্ব লোকেরাই সেদিন তার বাক্স ভর্তি করে রেখেছিল সাধারন ভোটারের খুব একটা দরকারই হয় নাই । ঐ একই বছরেই তিনি মিলিটারি শাসনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করিয়ে জিতিয়ে আনলেন নিজের পছন্দের সবাইকে ।তবে তিনি অন্য ১৩ টি দল থেকেও ২ বা ১ জন করে জিতিয়ে আনেন । জানা যায় সে সময় আওয়ামীলীগের কিছু প্রার্থীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হন বলে তারা সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিলেন । এরপরের নির্বাচন টির কথা মানুষের মুখে মুখে এখনও শুনা যায় ।সংবাদ মাধ্যম যার নাম দিয়ে ছিল চর দখলের নির্বাচন । কেন না আরেক স্বৈর শাসক এরশাদ ১৯৮৬ সালে এই অভিনব পন্থাটির উদ্ভাবন ঘটান । আগের রাতে ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করতে উনার বিশেষ বাহিনী গোলোকে অনেক পরিশ্রম নাকি করতে হয়েছিল ।বোমা মেরে কেন্দ্র দখলের পক্রিয়া টা সে সময়ই ব্যাপক হারে শুরু হয় বলে জানা যায় । টিক দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে আরেকটি নির্বাচন দেন এরশাদ । একমাত্র জাসদ ও কিছু নাম সর্বস্ব দল এতে অংশগ্রহন করে । পরবর্তীতে তিন জোটের রূপরেখায় ১৯৯১ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার পতনের পর একটি নির্বাচন অনুষ্টীত হয় । অনেক লড়াই সংগ্রামের পর আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করবে এমনটাই যখন নিশ্চিত । তখন এরশাদের নিয়োগ করা সেনা শাসক নুর উদ্দিন রাতেই ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দিয়ে এক সময় ঘোষণা করালেন তৈরি করা নির্বাচনী শিট । মসনদে বসলেন বেগম খালেদা জিয়া । তিনি ও কারো থেকে কম দেখালেন না । ১৯৯৬ সালে কুনো দল ছাড়াই প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে ২১ দিন ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করলেন ।যদিয় সে সময় আওয়ামীলীগ দেখিয়ে ছিল আন্দোলন কত প্রকার ও কি কি । এরপর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ।২০০১ সালে আবার সুক্ষ কারচুপির নির্বাচনে ফলাফল বদল করে ক্ষমতায় বসান হয় বিএনপি কে । এমনকি একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার , আল-বদর রা মন্ত্রী হয় ।আর এরপরে আবারও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রচেষ্টা বাধাপ্রাপ্ত হয় সেনা হস্তক্ষেপে । শুনা যায় জিয়াউর রহমানের নিকট জনেরা নাকি বিএনপির এই পরিণতির জন্য উনার গুনধর পুত্র তারেক রহমান কে দায়ী করে থাকেন । সেটি অবশ্য ভিন্ন কথা । এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ফখরুদ্দিন ও জেনারেল মইন উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনে বিপুল জন সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হন শেখ হাসিনা । আর তার পরের ইতিহাস সকলেরই জানা সংবিধান রক্ষার দোহাই দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাঁতীয় পার্টী ও কয়েকটি শরীক দল নিয়ে নির্বাচন করে ফেললেন বঙ্গবন্ধু কন্যা । বিএনপি জামাত সহ একটি বৃহৎ অংশ যারা এই নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের ভাষায় এটি স্মরণ কালের সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য ও ভোটার বিহীন নির্বাচন । এই হল মোটামুটি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের হাল হকিকত । আমার বন্ধু সাবেক ছাত্র নেতা ফরহাদ আহমদ ফাহাদ জানালেন ত্যাগী , আদর্শবান প্রকৃত বঙ্গবন্ধু প্রেমীরা জনক কন্যার থেকে দূরে থাকায় ততাকথিত হাইব্রিড আওয়ামীলীগ , ও ভ্রান্ত বামদের একটি অংশ যারা নাকি এ যুগের বড় আওয়ামীলীগার তারাই নাকি বঙ্গবন্ধু কন্যা কে ভুল বুজিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্য করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই প্রতীকের গরিমা কে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছেন । আর ইউনিয়ন নির্বাচন এবার অতীতের সব মাত্রা কেই নাকি হার মানিয়েছে । ক্ষমতাবান দের দ্বারা প্রভাবিত এই নির্বাচন প্রসঙ্গে অনুজপ্রতিম ইব্রাহীম আহমদ জেসির বক্তব্য হল পুকুর চুরি না বলে সে নাকি এই নির্বাচন কে সমুদ্র চুরি বলবে । তার যুক্তি হল কচুরিপনা দিয়ে পুকুর ডেকে পার পাওয়া গিয়েছে নিকট অতীতে , কিন্তু ফেসবুক , ভাইবার ,ইউ টিউব যুগে দৃশ্যমান সমুদ্র চুরির পর এ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহিতা করবেন কীভাবে ? পরিশেষে, আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলে অভিহিত করেন অনেকেই । তাদের কথা হল আপনি হলেন জাতির জনকের কন্যা গন মানুষের প্রত্যাশা আপনার উপর অন্য যে কারো থেকে বেশি । সেই আপনার সময়ে জনগনের ভোট ও ভাতের অধিকার যদি প্রশ্ন বিদ্ধ হয় তাহলে মানুষের আর যাওয়ার জায়গা আছে কি ? মাননীয় নেত্রী আপনার চেয়ে আপন কিংবা নিরাপদ আশ্রয় এই বাংলার জনগণের ২য় টি কি আছে ? আজকে যারা আপনাকে কিংবা আপনার সরকার কে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বা করে চলেছে তাদের লাগাম টেনে ধরার কি এখনই সময় নয় ? ??

লেখক ও কলামিষ্ট:  রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল (সমন্বয়ক হৃদয়ে ৭১ ফাউন্ডেশন)