একজন মোস্তফা আহসান হাবিবের কথকতা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

একজন মোস্তফা আহসান হাবিবের কথকতা

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

একজন মোস্তফা আহসান হাবিবের কথকতা

হাবিবুর রহমান নাসির:
স্কুলের ইতিহাস বইতে অনেক আদর্শ মানুষের গল্প পড়েছি যারা শুধুই জনসেবায় নিজেদের জীবন উতসর্গ করে গেছেন। নিজের কথা কখনই ভাবে নাই। কখনোই ব্যক্তিস্বার্থে কিছু করে নাই। এমন গল্প শুনেই তো বড় হয়েছি। কিন্তু বড় হয়ে বাস্তব জীবনে নিজের দেশে গল্পের সেই আদর্শ মানুষগুলির মত কাউকে আর খুজে পাইনা। কারো একদিক ভালো তো অন্যদিক থেকে দূর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। আপাত: দৃষ্টিতে ভালো মানুষ মনে হলেও একটু পরেই দেখা যায় মোটেও ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধে নয় বরং নিজ স্বার্থের জন্যই সব কিছু করে এরা। এরা মানুষের বিচারে ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়ার কথা ভাবে না, ভাবে তৎক্ষনাত নগদ প্রাপ্তির কথা।

তবে দীর্ঘ চাকুরী জীবনে আজ পেয়ে গেলাম এমন মানুষের দেখা। রুচি আর সৃজনশীল সৎ ব্যক্তিত্ব উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোস্তফা আহসান হাবিবের। যার প্রচেষ্টায় উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এসেছে উল্লেখ যোগ্য পরিবর্তন। যার ফলে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার হয়ে উঠেছে একটি দৃষ্টিনন্দিত ও আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠানে। একটু সময় পেলেই ছুটে যান গ্রামের বিভিন্ন স্কুলে। মাঝে মধ্যে মোবাইলে শিক্ষকদের খোজ খবর নেন কেউ স্কুল ফাকি দেয় কিনা।

ছাতক উপজেলার প্রতিটি অনুষ্টানেই রয়েছে মোস্তফা আহসান হাবিবের সরব পদচারনা। তিনি প্রতিটি অনুষ্টানেই উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি নিজের দিকে টেনে নেন। এ যেন রুপকথার গল্প আলাউদ্দিনের চেরাগের মতো। এত কিছু দিন আগের কথা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফুটবল টুনামেন্টে দর্শক হয়ে খেলা উপভোগ করতে গিয়ে, অবশেষে ধারা ভাষ্যকারের সিট নিজের করে নেন। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরুধে পরবর্তী খেলাগুলোই সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম মাতিয়ে তোলেন ইন্সট্রাক্টর মোস্তফা আহসান হাবিব। আমি তাহার দুইটা বক্তব্য শুনে ছিলাম, শ্রীকৃষ্ণপুর দিলাল পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাসনা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বক্তব্য গুলির কিছু অংশ পাঠকদের মাঝে তুলে ধরলাম, প্রাথমিক শিক্ষা স্তরটি যেকোনো শিক্ষার্থীর মেধা ও মনন বিকাশে সর্বোচ্চ সহায়ক সময়। প্রাথমিক শিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীর অঙ্কুরোদ্গমের সময়। তাই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষার ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। শিক্ষকরা তাঁদের অভিভাবক হিসেবে সততা, দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেবেন। আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মের কোনো বিকল্প নেই কথাটি মাথায় রেখে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চা কেন্দ্র হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নানামূখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের নৈতিক শিক্ষা সংবলিত গল্প, কবিতা, ছড়া ও উপন্যাস ইত্যাদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কিত কাজগুলো নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভালো কাজ করতে উৎসাহিত এবং খারাপ কাজে নিরুৎসাহীত করতে হবে। তারা যেন তাদের আশপাশের মানুষের সুখে-দুঃখে, বিপদে, আনন্দে পাশে থাকে, তা শেখাতে হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মনের জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে ঠিকমতো তাতে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে।উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জানান,স্যার অত্যান্ত ভালো একজন মানুষ।উনি প্রতিটি যায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন।উজির পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার তালুকদার ও খাগহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হোসনা বেগম জানান,স্যার অত্যান্ত ভালো ইমেজের মানুষ,শিক্ষকদের কাছ থেকে কোন কাজের বিনিময় এককাপ চা পান করেনি কোনদিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল