একটা সমস্যা নিয়ে শেখ হাসিনার দ্বারে যান, খালি হাতে ফেরার সুযোগ নেই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

একটা সমস্যা নিয়ে শেখ হাসিনার দ্বারে যান, খালি হাতে ফেরার সুযোগ নেই

প্রকাশিত: ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

একটা সমস্যা নিয়ে শেখ হাসিনার দ্বারে যান, খালি হাতে ফেরার সুযোগ নেই

একদলীয় সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর স্বভাবতই সেই সরকারের প্রতি সাধারণ জনগণের একটা অনীহা জন্মে যায়। কারণ, মানুষ ভুলত্রুটির অধীন ; হোক সেটা স্বাধীনতা পক্ষ অথবা স্বাধীনতা বিরোধী কোনো শক্তি। মেনে নিচ্ছি- কমবেশ চুরি হয়েছে, লুটপাট হয়েছে ; কেউ স্বীকার করে, কেউ না। এটা যার যার ব্যক্তিগত সমস্যা। কিন্তু আপনার অবস্থান থেকে চিন্তা করে দেখুন তো, বিগত দিনগুলোর তুলনায় দুর্নীতি কমেছে নাকি বেড়েছে, সন্ত্রাস কমেছে নাকি বেড়েছে, কালো টাকা কমেছে নাকি বেড়েছে, চাঁদাবাজি কমেছে নাকি বেড়েছে, সড়কখাত/কৃষিখাত/শিল্প/অর্থনীতি/বস্ত্র/কর্মসংস্থান/ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমেছে নাকি বেড়েছে?

একসময় চালের দর কেজিতে ১০ টাকা ছিলো, এখন ৪০ টাকা ; কিন্তু জনগণ কি না খেয়ে আছে?

সমস্যা অনেক আছে.. কিন্তু একদিনে সেগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। সময় দিতে হবে। প্রতিটা সরকারের অতীত ইতিহাস ঘেটে দেখুন, ফলাফল সামনে চলে আসবে।

এদেশে শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়। আর সেজন্যই আমরা জয় বাংলা-বাংলাদেশ জিন্দাবাদ নিয়ে ঝগড়া করি, হানাহানি করি। অথচ দুটোতেই কিন্তু ‘বাংলা’ শব্দটা আছে।

বহিঃবিশ্ব যেখানে মহাকাশ দখলের চিন্তা করছে, আমরা সেখানে নিজেদের ঘর বাঁচানোর চেষ্টা করছি। বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা- রোহিঙ্গা সমস্যা। এই সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরাশক্তির কাছে আমরা বিপর্যস্ত হলেও এখন অবধি নত হইনি। আর সেটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার বদৌলতে।
জঙ্গিবাদ/ধর্মীয় কোন্দল সৃষ্টি করে প্রায় প্রতিনিয়তই চলছে বাংলাদেশকে ইজরাইল বানানোর অপচেষ্টা… প্রত্যক্ষ সমর্থন দিচ্ছে মওদূদীবাদী অপশক্তি! তাও আমরা দাঁড়িয়ে আছি এবং সেটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার জন্যই।

কুসংস্কার ও কুশিক্ষায় ভরা বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সমস্যার ঘাটতি নেই। প্রতিটি সেক্টরেই সমস্যা! তারপরও ১০ বছর আগের বাংলাদেশ, আর এখনকার বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা করুন। ঘাটতি আছে, কিন্তু উন্নয়ন কম হয়নি।

আমরা আমাদের দেশ নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশী চিন্তা করছি, তরুণ-বৃদ্ধ সবাই রাজনীতি নিয়ে ভাবছে, শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা বলতে গেলে প্রায় ৯০ ভাগ কন্ট্রিবিউট করছে, কালোবাজারিদের বিপক্ষে শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ পৌঁছামাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, বিদ্যুৎ-তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, আইজিপি/বিভিন্ন বাহিনী প্রধানদের কানে অভিযোগ পৌঁছামাত্রই তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন ; এগুলো কি আগে ছিলো! আর থাকলেও বা কতটুকু ছিলো?

অনেকে হয়তো বলবে গুম-হত্যা-ব্যাংক লুট কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইনও তো এদেশে আছে! ভেবে দেখুন, এই সমস্যাগুলোর সূত্রপাত কারা ঘটিয়েছে? এখন আবার তারাই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা সেগুলোর সমাধান করবে!

বাঙালি জাতি এমনিতেই অলস! তার মধ্যে বেকার ভাতা.. ইউরোপের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে আজকের এই সুবিধাগুলো আছে, কেননা তারা ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে। তার দেশে এই সুবিধাগুলো আছে, কেননা তারা এই ব্যবস্থা সামাল দেয়ার মতো প্লাটফর্ম আগেই তৈরি করে রেখেছে।
কিন্তু আমাদের অবস্থান চিন্তা করে দেখুন! তারপরও কিন্তু আগের তুলনায় বয়স্ক/প্রতিবন্ধী/নারী ও শিশুদের সুযোগ সুবিধা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ,বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য নানা উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে, আইটি বিভাগ অভূতপূর্ব ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলো কি উন্নত বাংলাদেশের আগাম বার্তা নয়?

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে, পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ধারা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পারলে এমন দিন বেশী দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র আয়তনের জনবহুল রাষ্ট্রে কোনো বেকার থাকবে না। উদ্যোক্তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

একটা বড় প্রতিষ্ঠানে সবাই স্বচ্ছ ইমেজধারী হয় না। সবার কাছ থেকে আপনি ভালোটা পাবেন না । ঘরে বসে না থেকে যে জায়গায় আপনার দাবির মূল্যায়ন থাকবে, সেটাকেই প্রাধান্য দিন। যাদের আচার-ব্যবহার শৃঙ্খল নয় তারা আপনাকে স্বান্তনা দিবে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে পাবেন না।

দুর্নীতি ও কালো টাকা এদেশের গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। দুর্নীতির সাগরে ডুবে আছি আমরা। এখন, একদিনে যদি প্রশাসনের সকল দুর্নীতিবাজদের বহিষ্কার করা হয় ,তাহলে আপনার আমার দায়িত্ব নেয়ার জন্য না থাকবে কোনো সরকার, না থাকবে স্বাধীনতা। এটা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ কিংবা দুর্নীতি নির্মূল অভিযানও যথেষ্ট নয় ; তার জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। খারাপকে খারাপ বলে যদি আমরা নিজেরাই খারাপের দ্বারস্থ হই, তাহলে সেই খারাপ বলার কোনো অর্থ থাকে না।

জনগণ যদি মনে করে- এটা একজনের জামাইয়ের দেশ, অন্যজনের বাপের দেশ ; তাহলে এই দেশ কারোরই থাকে না। শতবিরোধ, শত সংঘাতের পরেও যখন কেউ বাংলাকে গালি দেয়, তখন বাঙালির রক্ত গরম হয়ে ওঠে। এটাই দেশপ্রেম।

স্বাধীন দেশে সংঘাতের প্রয়োজন হয় না ,প্রয়োজন হয় সম্প্রীতির। এমন কিছু মহৎ চিন্তা-ভাবনা সামনে রেখেই দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাকে কি সেই সুযোগটা দেয়া উচিত নয়?

ধরে নিলাম, আপনি শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী বানাতে অনিচ্ছুক। কাকে প্রধানমন্ত্রী বানাবেন তাহলে! ভুলে গেলেন ১৫-ই আগস্ট, ভুলে গেলেন জাতীয় চার নেতা হত্যা, ভুলে গেলেন স্বৈরাচার শাসন, ভুলে গেলেন দেশব্যপী সিরিজ ব্লাস্ট… জিয়াকে হত্যার পর সেই বিচারই বা কেন করেনি বিএনপি সরকার? বৈদিশিক অপশক্তির সহায়তায় যোদ্ধাপরাধীদের মুক্তিযোদ্ধা, আর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাপরাধী বানিয়ে জিয়ার শাসনামলে যে দ্বন্ধ সৃষ্টি করা হয়েছে, তার ফল এখনও ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। যারা ঐ সময়কালটা দেখেছে ও যারা প্রকৃত ইতিহাস পড়েছে, তারা কখনোই ভুল জিনিস সমর্থন করেনি।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের ধারায় আছে (হ্যাঁ ,এটা সত্য যে প্রতিটি ধারারই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে এবং বাংলাদেশের মতো একটা জনবহুল রাষ্ট্রে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়), সেখান থেকে ছিটকে পড়লে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপ দিতে আরো কত যুগ অপেক্ষা করতে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই !

স্বাধীনতা বিরোধী, মওদূদীবাদী অপশক্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা আর যাই করুক, কখনোই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতে পারে না।

আমাদের যা সম্পদ আছে, কেবল সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ঘটাতে পারলেই বাংলাদেশ এক সময় ইউরোপ হবে ; হ্যাঁ, তখন অবশ্য প্রশ্ন থেকে যাবে, আমরা আমাদের সংস্কৃতি কিংবা ধর্মীয় অনূভূতি কতটুকু ধরে রাখতে পারবো?

সমস্যা আছে, থাকবে, কিন্তু সকল সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তাও যে, দীর্ঘপ্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ৭১’র বাংলাদেশ আজ ১০০ বছরের রোডম্যাপ নিয়ে ভাবছে, সেটা অবশ্যই ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক পরাশক্তিকে প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে কিছুটা সেক্রিফাইজও করতে হয়, আবার কিছুটা লাভমানও হওয়া যায়। টিকে থাকার জন্য তা করতেই হবে।

আপনার নিজ এলাকার প্রতিনিধির দিকে তাকালে হয়তো আপনার ভোটকেন্দ্রে যেতে ইচ্ছা হবে না (সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়), কিন্তু সার্বিকভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকায় ঘাটতি সহ হাজারো সমস্যায় ডুবে থাকা বাংলাদেশই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সুখী রাষ্ট্র… আর, সেজন্যই উন্নত বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রুল মডেল বলে।
তারা হতবাক, এতো আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কিভাবে টিকে থাকতে পারে? সকল রাজনৈতিক দলকেই আমি শতভাগ সম্মান করি। মওদূদীবাদী সংগঠন ব্যতীত প্রায় সকল সংগঠনেই এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা সত্যিই অতুলনীয় ; ব্যবধান শুধু মত পার্থক্যে, যা স্বাভাবিক।

যেই ক্ষমতায় আসে, চুরি কম করে না- এটা আমজনতার চিন্তাধারা এবং আমাদের স্বভাবজাত সমস্যা! কিন্তু সবকিছুর পর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কাউকে না কাউকে আমাদের গ্রহণ করতেই হয়।

আসুন, আমরা দল ও মতের উর্দ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিই। সকল যোগ-বিয়োগের ভার আপনার ওপর। আপনি নিজেই চিন্তা করুন, সমসাময়িক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের কর্তৃত্ব কার হাতে দেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত.. এবারের নির্বাচনটা হোক আপনার! আপনিই নির্ধারণ করুন, কি হতে যাচ্ছে আপনার দেশের ভবিষ্যৎ… এক শেখ হাসিনার পক্ষে একসাথে পুরো দেশে চোখ রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু আপনার সমস্যা নিয়ে আপনি শেখ হাসিনার দ্বারে যান। আশা রাখি, খালি হাতে ফিরবেন না।
ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বাংলাদেশের জন্য চোখ বন্ধ করেই নাহয় আওয়ামীলীগ সরকারকে আরো পাঁচ বছর আপনার পাশে থাকার সুযোগ দিন। টানা দশ বছর সহ্য করলেন, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে সেটাও দেখলেন, আরো পাঁচটা বছর নাহয় সহ্য করলেন! আপনার একটা ভোট যেমন দেশে এনে দিতে পারে স্থিতিশীলতা আবার আপনার একটু ভুল বা কারো প্রতি অভিমান দেশকে নিয়ে যেতে পারে সন্ত্রাস বা টেররিজমে। তাই বৃহৎ স্বার্থে সুস্থ চিন্তা করুন, নৌকার পক্ষে থাকুন। আমি বলছি না, বিএনপি বা অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা ভোট পাবার যোগ্য না। মা, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা সহ অভারঅল বাংলাদেশকে সামনে রেখে যদি মনে হয়, আপনার এলাকায় নৌকার বাইরেও যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন ; তাহলে অবশ্যই তাকে ভোট দিবেন।

প্রতীকের চেয়ে অবশ্যই যোগ্যতা বড়, আর প্রতিহিংসার চাইতে সম্প্রীতি বড়। তবে যারা এমন যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পান না, তারা নিজ সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার নির্বাচনী এলাকার নৌকার প্রার্থীর জন্য না হলেও অন্তত শেখ হাসিনার জন্য নিজের মহামূল্যবান ভোট নৌকায় দান করুন। ভোট হোক জনতার স্বার্থে, ভোট হোক উন্নয়নের স্বার্থে, ভোট হোক স্বাধীনতার পক্ষে …
জয় বাংলা!

লেখক : এফ এইচ ফারহান, কলামিস্ট

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল