একযুগে আনন্দ আলো সম্মাননা পেলেন আলোকিত ১২ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

একযুগে আনন্দ আলো সম্মাননা পেলেন আলোকিত ১২

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৬

একযুগে আনন্দ আলো সম্মাননা পেলেন আলোকিত ১২

9934_e1পাঠকপ্রিয় পাক্ষিক ম্যাগাজিন ‘আনন্দ আলো’র জন্ম হয়েছিল ১২ বছর আগে পহেলা বৈশাখে। দেখতে দেখতে একযুগে পা রাখলো পত্রিকাটি। আর এ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ ছিল গুণীদের পদচারণে মুখর। একযুগে পদার্পণ উপলক্ষে আনন্দ আলো পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান। নাচ, গান, নাটিকা পরিবশন এ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। তবে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল সমাজের ১২ আলোকিত মানুষকে সম্মাননা জানানো। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি বক্তব্য দেন ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, চ্যানেল আইয়ের বার্তাপ্রধান ও আনন্দ আলোর প্রকাশক শাইখ সিরাজ। এরপর ১২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ১২ জন আলোকিত মানুষকে সম্মাননা দেয় আনন্দ আলো পরিবার। রেজানুর রহমানের পরিচালনায় দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন সাংবাদিকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননাপ্রাপ্ত এ ১২ গুণীজন হলেন- সৈয়দ শামসুল হক, গোলাম সারওয়ার, মতিউর রহমান চৌধুরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, আরেফিন বাদল, শাজাহান চৌধুরী, শহিদুল হক খান, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, অরুণ চৌধুরী, আবদুর রহমান, কানিজ আলমাস খান ও মাজহারুল ইসলাম। এ সম্মাননা পেয়ে তারা নিজ নিজ অনুভূতিও ব্যক্ত করেন। সৈয়দ শামসুল হক বলেন, আনন্দ আলো একযুগে পা রাখলো। কিন্তু মনে হচ্ছে এই তো সেদিন শুরু করলো পত্রিকাটি। আজকের এ আয়োজনের জন্য রেজানুর রহমানকে অনেক ধন্যবাদ। তার হাত ধরে আনন্দ আলো এতগুলো সময় পার করেছে। আমি পত্রিকাটির দীর্ঘায়ু কামনা করি। সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, আনন্দ আলোকে তাদের একযুগ পূর্তিতে অভিনন্দন। সে সঙ্গে রেজানুর রহমানের জন্যও রইলো অনেক শুভকামনা। গোলাম সারওয়ার বলেন, ৩০ বছর আগে থেকে রেজানুরকে আমি চিনি। আনন্দ আলোয় এসে ও নিজের আসল পরিচয়টা দেখিয়েছে। আর পত্রিকাটি এখন মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করেছে। একটা কথাই বলতে চাই, দীর্ঘজীবী হোক আনন্দ আলোর পথচলা। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি জানি না বিচারকমণ্ডলী কেন আমাকে বাছাই করেছেন। আমার মনে হয় ১৮ বছর আগে যখন মানবজমিন বের করি তখন প্রতিদিন দুই পৃষ্ঠা বিনোদনের কথা চিন্তা করেছি। সে সময় আমাকে অনেকে পাগল বলেছিলেন। আমি জানি না আজকে সে অবস্থাটা কি? আজ ঢাকার প্রতিটি পত্রিকায় বিনোদন পাতা থাকছে। সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ ভাগ বিনোদন, ৩০ ভাগ খেলা। আর বাকি ৪০ ভাগ অন্যান্য। বিনোদন ও খেলাধুলা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। আর রাজনীতি আমাদের বিচ্ছিন্ন করে। এ অবস্থায় আনন্দ আলো যে আলো ছড়িয়েছে ১২ বছর তা সত্যিই আনন্দের। রেজানুর আমার সহকর্মী ছিলেন। তার হাত ধরে পত্রিকাটি একযুগে পা রাখলো। তবে তিনি আমার সঙ্গে একমত হবেন কি না জানি না, ইমপ্রেস গ্রুপ না থাকলে হয়তো আনন্দ আলো এতদূর আসতে পারতো না। আমি আলোচনা লম্বা করবো না। রেজানুরের সম্পাদনায় আনন্দ আলো আরও সামনে যাবে এ কামনা করি। শুধু একটা সমালোচনা আছে। তাহলো পুরো পত্রিকার মধ্যে অন্তত এক পাতা বিদেশি সংবাদ রাখা দরকার। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমাকে সম্মাননা জানানোর জন্য আনন্দ আলো পরিবারকে ধন্যবাদ। এমন একটি দিনের জন্য আমি অনেক অপেক্ষা করছিলাম। কারণ, আনন্দ আলো আমার অনেক প্রিয় একটি পত্রিকা। আমি এর দীর্ঘায়ু কামনা করি। আরেফিন বাদল বলেন, কোনো সম্মাননা অবশ্যই আনন্দের। আনন্দ আলো অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে একযুগে পা দিয়েছে। আরও অনেক দূর দাপটের সঙ্গে যেন এগিয়ে যায় পত্রিকাটি সেই কামনাই করি। আমার মতো নগণ্য মানুষকে সম্মাননা দেয়ায় সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। চিন্ময় মুৎসুদ্দী বলেন, আমি এ পত্রিকাকে একটু অন্যভাবে দেখছি। আনন্দ আলোকে ফজলুল হকের সিনেমা কাগজের সংস্করণ বলেই আমার মনে হয়। পত্রিকাটির মাঝি রেজানুর রহমান ও তার সঙ্গে যারা বৈঠা ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের শুভেচ্ছা জানাই। আর আজকের দিনটি আমার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। শহিদুল হক খান বলেন, আনন্দ আলো যে আলো ছড়াচ্ছে তা অনেক দিন ছড়াবে এমনটাই বিশ্বাস আমার। পত্রিকাটি দীর্ঘজীবী হোক এটাই কামনা করি। আবদুর রহমান বলেন, ঢাকায় আর কোনো প্রজাপতি দেখা না গেলেও একটি প্রজাপতির মাসে
দু’বার দেখা মেলে। আর সেটার নাম আনন্দ আলো। আজকের এ আয়োজনের জন্য পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অরুণ চৌধুরী বলেন, আজকের এ মঞ্চে এমন একটি সম্মাননা দেয়ার জন্য আনন্দ আলোকে অজস্র ধন্যবাদ। মাজহারুল ইসলাম বলেন, অন্যদিন পত্রিকার এতটা সময় পার করার পেছনে আনন্দ আলোর অনেক অবদান রয়েছে। আজ ১২ বছরে পা রাখার দিনে এ পত্রিকার সবাইকে অভিনন্দন জানাই। কানিজ আলমাস খান বলেন, একটা পত্রিকার ১২ বছর পার করা যে কতটা কঠিন সেটা আমি জানি। আনন্দ আলো অনেক প্রতিকূলতার মাঝে আজকের এ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি আনন্দিত যে, তারা আমাকে সঙ্গে রেখেছেন। আনন্দ আলোর জন্য রইলো অনেক শুভকামনা। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিরা সবাই মিলে আনন্দ আলোর জন্মদিনের কেক কাটেন। আনন্দমুখর এ তারকামেলায় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, টিভি চ্যানেল, দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিনিধিবৃন্দসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তারকা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিশিষ্ট অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, তারিক আনাম খান, রামেন্দু মজুমদার, নিমা রহমান, সংগীতশিল্পী আজাদ রহমান, সাহিত্যিক সৈয়দ আল ফারুক, শাহবুদ্দীন নাগরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা, কনকচাঁপা, ইবরার টিপু, অনিমা রায়সহ নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা সংগীত পরিবেশ করেন। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মৌসুমী বড়ুয়া।